ওমান উপকূলের কাছে ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে বহনকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ হামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে জরুরি ভিত্তিতে তলব করেছে দেশটির সরকার। এই অনভিপ্রেত সামরিক হামলার ঘটনায় জাহাজে থাকা তিনজন ভারতীয় নাবিক এখনও সাগরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন জেসন মিকসকে সাউথ ব্লকে তলব করা হয়েছে। ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের পেছনের প্রকৃত ব্যাখ্যা জানতে এবং ভারতের তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ ওয়াশিংটনকে পৌঁছে দিতেই মূলত মোদি সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এই অভিযানের বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেছে যে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওমান উপসাগর দিয়ে যাত্রার সময় ইরানি তেল পরিবহনকারী ‘সেত্তেবেলো’ নামের একটি জাহাজের বিরুদ্ধে তারা অত্যন্ত নিখুঁত ও সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিযোগ, জাহাজটির ক্রু বা নাবিকেরা বারবার সতর্ক করার পরও মার্কিন নৌবাহিনীর দেওয়া কোনো দিকনির্দেশনা মেনে চলেনি এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ এই ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানিয়েছে যে রাসায়নিক ও জ্বালানি তেলবাহী ওই বড় ট্যাংকারটি ওমানের সোহার বন্দরের উত্তর-পূর্ব দিকে আনুমানিক ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে আচমকা তার ইঞ্জিন কক্ষে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের খবর দেয়। পরবর্তীতে জাহাজ থেকে জরুরি বিপদ সংকেত বা এসওএস পাঠানো হলে ওমানের রাজকীয় নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জাহাজে কর্মরত থাকা মোট ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে ওমানি নৌসেনারা জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও এখনও তিনজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভারত সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বেসামরিক সব ধরনের অবকাঠামোর ওপর এই বিপজ্জনক সামরিক বোমাবর্ষণ অনতিবিলম্বে বন্ধ করার জন্য আমেরিকার প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে দেশের ভেতর এই হামলার ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে মোদি সরকারের ওপর বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান ও নিষেধাজ্ঞা নেওয়ার জন্য রাজনৈতিক চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। উল্লেখ্য যে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ভারতীয় নাবিক বহনকারী অন্য আরেকটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটলেও নয়াদিল্লি সে সময় প্রকাশ্য কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ না জানানোয় তীব্র অভ্যন্তরীণ সমালোচনার মুখে পড়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।
সূত্র: ইন্ডিয়ে টুডে