শিরোনাম
◈ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ইতিহাস গড়া বাজেট, লক্ষ্য প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ◈ ৪৮ দলের মহারণ, আজ পর্দা উঠছে বিশ্বকাপের ◈ আমার চারটি গাড়ি আছে, চারজন ড্রাইভার আছে, খুব একটা গরীব মানুষ, না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বাংলা‌দে‌শের মুশ‌ফিকুর র‌হিম ও তাইজুল আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের দৌড়ে ◈ আইসিসি শাস্তি দি‌লো নাহিদ রানা‌কে ◈ প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই সড়কের ইট তুলে নেওয়া হলো! ◈ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ১২টি চুক্তি ◈ অফিসে ঢুকে বলে, “বাপে ফোন দেয়, ধরস না কেন? বাপের সঙ্গে কথা না বলে কীভাবে ব্যবসা করিস সেটা দেখবো” ◈ ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিটে নতুন সুবিধা, শ্রমবাজার আধুনিক করছে আমিরাত

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৫৩ বিকাল
আপডেট : ০৯ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আর্থিক ধসের মুখে জাতিসংঘ, সদস্য দেশগুলোকে গুতেরেসের জরুরি চিঠি

জাতিসংঘ ‘আর্থিক ধসের’ মুখে দাঁড়িয়ে আছে বলে সতর্ক করেছেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর  বকেয়া বার্ষিক চাঁদা ও অন্যান্য সমস্যার কারণে জাতিসংঘ এই ঘোর সংকটে পড়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে গুতেরেস জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে বৈশ্বিক এই সংস্থাটির গভীর আর্থিক সংকটের কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই জাতিসংঘের অর্থ ফুরিয়ে যেতে পারে। খবর আল জাজিরার।

চিঠিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের বার্ষিক চাঁদা পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়। প্রয়োজনে জাতিসংঘের আর্থিক ব্যবস্থাকে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে চিঠিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতিসংঘের অন্যতম মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘চাঁদা পরিশোধের বিষয়টি এখন নয়তো কখনোই নয়ের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ নেই। এই বিষয়টি নিয়ে মহাসচিব প্রতি বছরই জোরালোভাবে সতর্ক করে আসছেন।’

জাতিসংঘের আর্থিক সংকটের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশকে দায়ী করেননি গুতেরেস। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসহযোগিতার কারণেই যে পরিস্থিতি প্রকট হয়েছে তা বলা বাহুল্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ওয়াশিংটনের অর্থায়ন কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সম্প্রতি জাতিসংঘের ৩১ সংস্থাসহ মোট ৬৬ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।

এসব উদ্যোগের পাশাপাশি ‘বোর্ড অব পিস’ চালু করেছেন ট্রাম্প। নতুন এই সংস্থার মাধ্যমে প্রথমে গাজা যুদ্ধ বন্ধ এবং উপত্যকাটির পুনর্গঠন প্রকল্প পরিচালনা করতে চান তিনি। পরে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও ভূরাজনৈতিক সংকট নিরসনে এই সংস্থার মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে চান ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞের মতে, বিশ্ব পরিসরে জাতিসংঘকে সাইডলাইন করে দিতে পারে ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘবিষয়ক পরিচালক লুই শারবোনো সম্প্রতি সতর্ক করে বলেন, ‘স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের ফি নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে ট্রাম্পের বোর্ডটি একটি ‘পে-টু-প্লে’ বৈশ্বিক ক্লাবের মতোই মনে হয়। ট্রাম্পকে ১ বিলিয়ন ডলারের চেক দেয়ার বদলে সরকারগুলোর উচিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন, বৈশ্বিক আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা রক্ষার জন্য জাতিসংঘ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করা।’

জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), ঋণের পরিমাণসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বার্ষিক চাঁদার পরিমাণ নির্ধারিত হয়। জাতিসংঘের মূল বাজেটের ২২ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে; এরপরই রয়েছে চীন, যার অবদান ২০ শতাংশ।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বকেয়া চাঁদার পরিমাণ রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানান জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস। তবে কোন দেশগুলো চাঁদা পরিশোধে গড়িমসি করছে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়