শিরোনাম
◈ ধর্ষণের ক্ষেত্রে দ্বিচারিতা চলতে পারে না, সব অপরাধেরই বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী ◈ বি‌পিএলের দুরাবস্থা, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে  ◈ সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত, কোনটি কোথায় যাবে ◈ চীনা অর্থায়নে দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতুসহ ২০ মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা ◈ আধুনিক প্রযুক্তির লড়াইয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রেকর্ড ভাঙল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ◈ ‘আমি মন্ত্রীর পিছে টাকা নিয়ে ঘুরিনি’: আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ◈ ব্রা‌জি‌লের বিরু‌দ্ধে মর‌ক্কো দ‌লের একাদশে ১১ জনই ছি‌লো জন্মসূত্রে বিদেশি, বিশ্বকাপে অনন্য কীর্তি ◈ অক্সফোর্ডে অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের স্লোগান, পাল্টা হাসনাত আবদুল্লাহর ‘মিডল ফিঙ্গার’ প্রদর্শন ◈ রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে দ্রুত এআই ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৬, ০৭:৪৮ বিকাল
আপডেট : ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চিকেন পক্স হলে কী করবেন, কী খাবেন এবং কীভাবে সতর্ক থাকবেন

আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ে ঘরে ঘরে যে রোগটি সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়ায়, তা হলো জলবসন্ত বা ‘চিকেন পক্স’। সাধারণত ‘ভেরিসেলা-জোস্টার’ নামক অত্যন্ত সংক্রামিত ভাইরাসের কারণে এ রোগ হয়। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মতো জনবহুল দেশগুলোতে এই সময়ে বাতাসে ভর করে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

চিকেন পক্স সাধারণত মৃদু প্রকৃতির হলেও সঠিক সচেতনতা ও যত্নের অভাবে এটি কখনো কখনো মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই এই সময়ে রোগটির লক্ষণ, প্রতিরোধ ও ঘরোয়া যত্ন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা থাকা জরুরি।

যেভাবে ছড়ায় ও লক্ষণ প্রকাশ পায়

চিকেন পক্স একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ। সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে শরীরে এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে নির্গত ফোঁটা (ড্রপলেট) থেকে কিংবা রোগীর শরীরে ওঠা ফোস্কার তরল সরাসরি স্পর্শ করলে এ রোগ ছড়ায়। এমনকি রোগীর ব্যবহৃত কাপড়, তোয়ালে বা বিছানা থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। ফুসকুড়ি বা ফোঁস্কা দেখা দেওয়ার ১-২ দিন আগে থেকে শুরু করে ফোঁস্কাগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত (সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিন) একজন রোগী সবচেয়ে বেশি সংক্রামক থাকেন।

প্রধান লক্ষণসমূহ

• শুরুতে হালকা থেকে মাঝারি জ্বর (৩৮-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস), শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, তীব্র ক্লান্তি ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়।

• এর পরপরই মুখ, বুক ও পিঠ থেকে শুরু করে সারা শরীরে চুলকানিযুক্ত লালচে ফুসকুড়ি ওঠে।

• লাল দাগগুলো দ্রুতই স্বচ্ছ তরলে ভরা ফোঁস্কায় পরিণত হয়। পরবর্তীতে এগুলো শুকিয়ে খোসা বা পক্সের দাগে রূপ নেয়। শরীরের একই সঙ্গে ফোঁস্কা ও শুকিয়ে যাওয়া খোসা—উভয় রূপই দেখা যেতে পারে।

কাদের ঝুঁকি বেশি?

সাধারণত ১ থেকে ১০ বছর বয়সি শিশু, যাদের টিকা দেওয়া নেই, তারা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে প্রাপ্তবয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (যেমন ক্যানসার, এইচআইভি আক্রান্ত বা অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী), তাদের ক্ষেত্রে চিকেন পক্সের জটিলতা অনেক বেশি হতে পারে। এর ফলে ত্বকের সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন, নিউমোনিয়া (ফুসফুসের সংক্রমণ), এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) কিংবা শরীরের পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

ঘরোয়া যত্ন ও কিছু নিয়ম

চিকেন পক্স সাধারণত কোনো বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই ঘরোয়া যত্নে নির্দিষ্ট সময় পর নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে আরোগ্য দ্রুত করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত—

আলাদা রাখা: সংক্রমণ ছড়ানো রোধে রোগীকে সম্পূর্ণ আলাদা ঘরে রাখুন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের থেকে দূরে রাখুন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: রোগীর শরীর ঠান্ডা রাখতে নিয়মিত গোসল করানো জরুরি। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি নয়, বরং সাধারণ পানিতে নিমপাতা ফুটিয়ে সেই পানি ঠান্ডা করে গোসল করালে চুলকানি কমে ও সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে। প্রতিদিন অন্তত দুবার রোগীর সুতির ঢিলেঢালা পোশাক ও বিছানার চাদর বদলে ফেলা উচিত।

নখ ছোট রাখা: পক্সের ফোঁস্কায় মারাত্মক চুলকানি হয়। তবে ভুলেও নখ দিয়ে চুলকানো বা ফোঁস্কা ফাটানো যাবে না। এতে ত্বকে স্থায়ী দাগ বসে যায় এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। শিশুদের নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখতে হবে।

চুলকানি উপশম: চুলকানি কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালামাইন লোশন, অলিভ অয়েল বা অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

কী খাবেন এবং কী খাবেন না

পক্সের সময়ে মুখের ভেতর ছোট ছোট ক্ষত বা ঘা হতে পারে, যার ফলে খাবার গিলতে কষ্ট হয়। তাই এই সময়ে ডায়েটের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

যা খাবেন

প্রচুর পানি ও তরল: পক্সের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি, ডাবের পানি (যা খনিজ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ এবং শরীর ঠান্ডা রাখে), ডালের পানি ও ঘরে তৈরি স্যুপ প্রচুর পরিমাণে খাওয়াতে হবে।

সহজপাচ্য খাবার: তেল ছাড়া সিদ্ধ সবজি (গাজর, আলু, মিষ্টি আলু, বাঁধাকপি), কলা, ভাত ও টোস্ট বিস্কুটের মতো হালকা খাবার খাওয়া উচিত।

ফল ও দই: ক্যালসিয়াম ও প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ দই ত্বক নিরাময়ে কার্যকরী। এছাড়া ভিটামিন সি ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান সমৃদ্ধ ফল যেমন—পেঁপে, আপেল, আঙুর, নাশপাতি, আনারস, ব্রকলি, স্ট্রবেরি ও কিউই বেশি করে খেতে হবে। নিমপাতার রস খেলেও উপকার পাওয়া যায়।

যা খাবেন না

চর্বিযুক্ত খাবার: মাখন, অতিরিক্ত তেল, পনির, চকলেট বা নারকেল জাতীয় খাবারে প্রচুর ফ্যাট থাকে, যা পক্সের প্রদাহ বাড়িয়ে দিতে পারে।

তেল-মসলা ও ঝাল খাবার: অতিরিক্ত তেল-ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার মুখের ভেতরের ক্ষতের প্রদাহ ও যন্ত্রণা তিনগুণ বাড়িয়ে দেয়।

নির্দিষ্ট কিছু ড্রাই ফ্রুটস: আখরোট, চিনাবাদাম ও কিসমিসের মতো খাবারে এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে, যা পক্সের জীবাণুর বংশবিস্তারে সহায়তা করে। তাই পক্স থাকা অবস্থায় এগুলো পরিহার করুন।

ওষুধ ও সতর্কতা

জ্বরের জন্য প্রাপ্তবয়স্করা প্যারাসিটামল খেতে পারেন, তবে ছোটদের ক্ষেত্রে যেকোনো ওষুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মনে রাখবেন, ভাইরাল অসুখের সময় শিশুদের কখনোই অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না; এটি ‘রে’স সিনড্রোম’ নামক মারাত্মক রোগ বা ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি জ্বর ৪ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তীব্র কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, অনবরত বমি বা ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, ফুসকুড়িগুলো অতিরিক্ত লাল ও ফুলে পুঁজ বের হয়, কিংবা রোগী মারাত্মক পানিশূন্যতায় ভোগে—তবে আর দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

প্রতিরোধের উপায়

চিকেন পক্স প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে এর টিকা (ভ্যাকসিন) নেওয়া। এছাড়া আক্রান্ত রোগীকে ফোস্কা পুরোপুরি শুকানো পর্যন্ত স্কুল, কলেজ বা অফিস থেকে দূরে রাখা, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং রোগীর ব্যবহৃত তোয়ালে, বাসনপত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র আলাদা রাখার মাধ্যমে এই রোগের বিস্তার সহজেই রোধ করা সম্ভব।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়