ডালাসে অনুষ্ঠিত জাপান ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিটজুড়েই ছিল উত্তেজনা, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর নাটকীয়তা। শেষ পর্যন্ত ২–২ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় জাপান ও নেদারল্যান্ডসকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য দেখায় নেদারল্যান্ডস। ডান দিক থেকে আক্রমণে উঠে ভ্যান হেক জাপানের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেন। কর্নার থেকে মালেনের হেড জোরালোভাবে লক্ষ্যভেদ করলেও গোলরক্ষক সুজুকি দুর্দান্ত সেভ করে জাপানকে রক্ষা করেন। অন্যদিকে জাপানও কয়েকটি দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বিপদ তৈরি করলেও ডাচ রক্ষণভাগ তা সামাল দেয়।
প্রথমার্ধে দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি কেউই। নাকামুরার একটি শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়, আর ডাচদের একাধিক কর্নার থেকেও জাপান গোল হজম করা থেকে বেঁচে যায়। ফলে বিরতিতে ম্যাচ থাকে গোলশূন্য সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচটি পুরোপুরি রূপ নেয় গোলের লড়াইয়ে। ৫১ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা ক্রসে ভির্জিল ভ্যান ডাইকের শক্তিশালী হেডে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস, বল পোস্টে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। তবে এই লিড বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ৫৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে কেইতো নাকামুরা দারুণ ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান।
এরপর ম্যাচ আরও উন্মুক্ত হয়ে ওঠে। ৬৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ক্রিসেনসিও সুমারভিলের দারুণ এক শটে আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে তিনটি গোল ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে দেয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি ডাচরা। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের এক পর্যায়ে জাপান আবারও ফিরে এসে গোল করে সমতা আনে এবং ম্যাচ শেষ হয় ২–২ ব্যবধানে। শেষ মুহূর্তে উয়েদার একটি সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় জয় পাওয়া হয়নি জাপানেরও।
রোমাঞ্চে ভরা এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত কোনো দলই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিতে পারেনি, তবে দর্শকদের জন্য এটি ছিল এক স্মরণীয় ফুটবল লড়াই।