স্পোর্টস ডেস্ক : চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের বড় ম্যাচ আজ। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৪টায় ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও মরক্কো। রেকর্ড পাঁচ শিরোপা জয়ের তৃপ্তি যেমন আছে ব্রাজিলের, ২০০২ সালের পর থেকে ষষ্ঠ শিরোপার হাহাকার তেমনি আজও ছায়াসঙ্গী তাদের। অন্যদিকে, কাতার বিশ্বকাপের সাফল্যে মরক্কোকে নিয়ে দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশার পারদও চড়ছে উঁচুতে।
এই ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক হবে কোচ কার্লো আনচেলত্তির। ক্লাব পর্যায়ে মুঠোভরে সাফল্য পাওয়া এই ইতালিয়ানের কাঁধে বছর খানেক আগে সওয়ার হয়েছিল ব্রাজিল। দুঃসময়ের ঘোরপাকে টালমাটাল দলটিকে স্বপ্নের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তার।
গত তিনটি বছর উত্তাল সময় কেটেছে ব্রাজিলের। কোচের ‘উত্তপ্ত’ চেয়ারে বদল এসেছে চারবার। টুর্নামেন্টে ব্যর্থতা হয়েছে সঙ্গী। দলের সেরা তারকা নেইমারও এখন আর নেই আগের ভয়ঙ্কর রূপে, চোটজর্জর শরীর নিয়েই তিনি ধুঁকছেন। - বিডিনিউজ
দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের অভিযানে শুরুতেই ব্রাজিলকে বসতে হচ্ছে কঠিন পরীক্ষায়। শিরোপার অন্যান্য দাবিদাররা যেখানে তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরুর অপেক্ষায়, সেখানে আনচেলত্তির দল মুখোমুখি মরক্কোর, যে দলটি চার বছর আগে মরুভূমির বিশ্বকাপে বড় দলগুলোকে স্রেফ নাকানিচুবানি খাইয়েছিল!
কাতার বিশ্বকাপে সেমি-ফাইনালে ওঠার পথে স্পেনকে বধ করেছিল মরক্কো। হারিয়েছিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে। পরে ফ্রান্সের বিপক্ষে হেরে নিয়েছিল বিদায়। সেই আত্মবিশ্বাস আজও সঙ্গী আশরাফ হাকিমি-ব্রাহিম দিয়াসদের। স্পেন ও ফ্রান্সের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা, সেখানকার লিগে খেলা মরক্কোর এই প্রজন্মের ফুটবলারদের সামর্থ্য আছে, ব্রাজিলের জন্য রাতটা কঠিন কিংবা দুর্বিসহ করে তোলার।
সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য মরক্কোও যে খুব স্বস্তিতে আছে, তা নয়। আফ্রিকার নেশন্স কাপের ফাইনালে ঘরের মাঠে তারা হেরেছিল সেনেগালের বিপক্ষে। পরে অবশ্য ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্তে সেনেগালের কাছ থেকে শিরোপা ‘কেড়ে নিয়ে’ দেওয়া হয় তাদেরকে। এই বছরের শুরুর দিকে হওয়া ওই ফাইনালে একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে মাঠ ছেড়েছিল সেনেগাল, তারই চড়া মাশুল দিতে হয় দলটিকে।
ওই টুর্নামেন্টের পর দীর্ঘদিনের কোচ ওয়ালিদ রেগরাগি ছাড়েন মরক্কোর ডাগআউট। বিশ্বকাপের তখন বাকি মাত্র তিন মাস! গত বছর মরক্কোকে অনুর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জেতানো বেলজিয়ান বংশোদ্ভূত মোহামেদ ওয়াহবিকে দিয়ে পূরণ করা হয় ওয়ালিদের শূন্যস্থান।
দুদিন আগেই আবার চোট ছোবল বসিয়েছে মরক্কো দলে। চোট নিয়ে দলের সঙ্গী হয়েছিলেন নায়েফ আগুর্দ, কিন্তু সেরে না ওঠায় দলছুট হয়েছেন তিনি। আব্দে এজজাজুলি হয়েছেন দূর্ভাগ্যের শিকার। গত রোববার নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে সতীর্থ চাদি রিয়াদ তার ডান হাঁটুর উপর পড়ায়, শুরুর আগেই শেষ হয়ে গেছে এজজাজুলির বিশ্বকাপ। এ দুই জনের জায়গায় ফরোয়ার্ড আমিন এসেবাই ও ডিফেন্ডার মারওয়ানে সাদানের জন্য দুয়ার খুলেছে।
চোট ব্রাজিলের পিছু নিয়েছে আরও আগে। রদ্রিগো, এস্তেভোঁ, এদের মিলিতাও ও ওয়েসলি- গুরুত্বপূর্ণ এই ফুটবলারদের কেড়ে নিয়েছে আগেই। মরক্কো ম্যাচে খেলা হচ্ছে না নেইমারেরও। পেশির চোট থেকে তিনি শতভাগ সেরে ওঠেননি এখনও। কবে উঠবেন, তা এখনও অনিশ্চিত।
আনচেলত্তির দুর্ভাবনা আছে রাইট-ব্যাক নিয়েও। দুই সেন্টার-ব্যাক মার্কিনিয়োস ও গাব্রিয়েল মাগালাইস জুটি তাকে স্বস্তিতে রাখলেও, ওয়েসলি ও বৈচিত্রময় মিলিতাওকে হারানোয় রাইট-ব্যাক পজিশন নিয়ে কোচকে ভাবতে হচ্ছে নতুন করে। দানিলো ও ইবানেসের মধ্যে এই জায়গার লড়াই চলছে, এর বাইরে মিডফিল্ডার এদেরসন হতে পারেন আনচেলত্তির জন্য আরেকটি বিকল্প।
নেইমারের অনুপস্থিতিতে গোলের দাবি মেটানোর মহাভার উঠবে ভিনিসিউস জুনিয়রের কাঁধে। ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের রেয়াল মাদ্রিদে বিধ্বংসী হয়ে ওঠার নেপথ্যের কারিগর ছিলেন আনচেলত্তিই।