শিরোনাম
◈ যে ছেলে একসময় টিফিনের টাকাও জোগাড় করতে পারত না, আজ দুবাইয়ে ২০ হাজার কোটির মালিক ◈ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা ◈ ভারতের সব কর্মীকে ছাঁটাই করল ওপেনডোর, কারণ দেখালো ‘গ্রাহকরা আমেরিকায়’ ◈ বেনাপোল বন্দরের শেড থেকে উধাও ৬ কোটি টাকার পণ্য, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা ◈ বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস: তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু, কে কত দিলেন? ◈ অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল বাংলাদেশের অর্থনীতি, নতুন রেকর্ড জিডিপিতে ◈ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্য দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল এপস্টেইন: বিল গেটস ◈ ব্রাজিলকে হালকাভাবে নিলে ভুগতে হবে, বিশ্বকাপে নামার আগে মিডফিল্ডার ব্রুনোর হুম‌কি ◈ পা‌কিস্তা‌নের সা‌বেক ক্রিকেটার বা‌সিত আ‌লি বল‌লেন, বাংলাদেশ এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল ◈ প্রশ্ন ছাড়াই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ, আসছে নতুন বিধান

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৪২ বিকাল
আপডেট : ২৪ মে, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনগুলো ছিল সর্বজনগ্রাহ্য: আলী রীয়াজ

বাংলাদেশে অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো দেশ-বিদেশে সর্বজনগ্রাহ্য ও গ্রহণযোগ্য হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বাসাবো বিশুদ্ধানন্দ-শুদ্ধানন্দ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. রীয়াজ বলেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছে, কিন্তু পরবর্তী তিনটি নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে শুধু একজন ব্যক্তির কারণে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। অথচ এই ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য ১০৪ জন সদস্য নিয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল, যারা ২৫টি বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রস্তাব ছিল–তত্ত্বাবধায়ক সরকার ৯০ দিনের বেশি থাকতে পারবে না এবং বিদেশিদের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। কিন্তু শেখ হাসিনা সেই প্রস্তাব তোয়াক্কা না করে ব্যবস্থাটিই বাতিল করে দেন।’

আলী রীয়াজ বলেন, ‘শেখ হাসিনা যদি ক্ষমতায় টিকে যেতেন, তবে এই দেশের মানুষ আর কোনোদিন ভোট দিতে পারতেন না।’
 

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার ও পিএসসির দলীয়করণ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে ৬০ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছিল এবং পিএসসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এইচটি ইমামের মতো ব্যক্তিরা প্রশাসনকে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন। শুধু ক্ষমতাসীন দল পিএসসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবে–এমন প্রথা ভাঙতে হবে। এখন থেকে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সবার মতামতের ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’

ভবিষ্যতে পুনরায় ফ্যাসিবাদ ফিরে আসা ঠেকাতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাস আলোচনার মাধ্যমে এই সনদ তৈরি করা হয়েছে। এটি আমাদের গণতান্ত্রিক রক্ষাকবচ। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে যেন কেউ জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’

সেমিনারের শেষ পর্যায়ে তিনি উপস্থিত সুধীজন ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভবিষ্যতে যদি আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে, তবে আমাদের আর কিছু করার থাকবে না। তাই গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংস্কারের পক্ষে আপনার রায় দিন। গোলাপি ব্যালটে টিক দিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে জনগণের শক্তি জানান দিতে হবে।”

সেমিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জুলাই আন্দোলনের চেতনা সমুন্নত রেখে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়