শিরোনাম
◈ আমার চারটি গাড়ি আছে, চারজন ড্রাইভার আছে, খুব একটা গরীব মানুষ, না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বাংলা‌দে‌শের মুশ‌ফিকুর র‌হিম ও তাইজুল আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের দৌড়ে ◈ আইসিসি শাস্তি দি‌লো নাহিদ রানা‌কে ◈ প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই সড়কের ইট তুলে নেওয়া হলো! ◈ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ১২টি চুক্তি ◈ অফিসে ঢুকে বলে, “বাপে ফোন দেয়, ধরস না কেন? বাপের সঙ্গে কথা না বলে কীভাবে ব্যবসা করিস সেটা দেখবো” ◈ ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিটে নতুন সুবিধা, শ্রমবাজার আধুনিক করছে আমিরাত ◈ অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানবান্ধব বাজেট দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ সরকারি-বিরোধী সব সংসদ সদস্যের এলাকায় সমান উন্নয়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৫৫ সকাল
আপডেট : ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইন্টারনেট বন্ধে জয়-পলক ফোনালাপ: ‘মা ইয়েস বললে ওপেন, নো বললে ব্লক’

জুলাই–আগস্টে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফোনালাপের একটি বক্তব্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে জয় পলককে বলেন— “যখন মা বলবেন সিগন্যাল ইয়েস, তখন ওপেন; যখন বলবেন নো, তখন ব্লক।”

রোববার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই কথোপকথনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।

জুলাই–আগস্টে ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনটি অভিযোগ পাঠ করা হয় এবং অডিওর অনুলিপিসহ ভিডিও ট্রাইব্যুনালে দেখানো হয়।

শুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে পরিকল্পিতভাবে প্রথমে ইন্টারনেটের গতি কমানো হয়, পরে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞের তথ্য বিশ্ববাসীর কাছ থেকে আড়াল করতেই ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীরা যেন পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন—সে উদ্দেশ্যেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রসিকিউটর জানান, ইন্টারনেট বন্ধের প্রমাণ হিসেবে আসামিদের ফোনালাপের রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। এই রেকর্ডগুলো এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার) সংরক্ষণ করেছিল।

“তৎকালীন সরকার নিজেদের প্রয়োজনে এনটিএমসির মাধ্যমে এসব রেকর্ড করাত। সেই সরকারি রেকর্ডই আজ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে,” বলেন গাজী এমএইচ তামিম।

প্রসিকিউশন জানায়, ফোনালাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত আটটি অ্যাপ চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কথাও উঠে এসেছে। ট্রাইব্যুনালে পড়ে শোনানো ফোনালাপের একটি অংশে জয় পলককে বলেন, “তুমি রেডি থাকো। তোমার সম্ভাব্য সবকিছু সক্ষমতা নিয়ে। যখন মা বলবেন সিগন্যাল ইয়েস, তখন ওপেন। যখন বলবেন নো, তখন ব্লক।”

প্রসিকিউটর জানান, তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল—এ সংক্রান্ত সরকারি চিঠি, নথি ও উপাত্তও ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি আসামিপক্ষের ডিসচার্জ (অব্যাহতি) শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর অভিযোগ গঠন হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।

সূত্র: ইত্তেফাক 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়