শিরোনাম
◈ আমার চারটি গাড়ি আছে, চারজন ড্রাইভার আছে, খুব একটা গরীব মানুষ, না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বাংলা‌দে‌শের মুশ‌ফিকুর র‌হিম ও তাইজুল আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের দৌড়ে ◈ আইসিসি শাস্তি দি‌লো নাহিদ রানা‌কে ◈ প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই সড়কের ইট তুলে নেওয়া হলো! ◈ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ১২টি চুক্তি ◈ অফিসে ঢুকে বলে, “বাপে ফোন দেয়, ধরস না কেন? বাপের সঙ্গে কথা না বলে কীভাবে ব্যবসা করিস সেটা দেখবো” ◈ ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিটে নতুন সুবিধা, শ্রমবাজার আধুনিক করছে আমিরাত ◈ অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানবান্ধব বাজেট দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ সরকারি-বিরোধী সব সংসদ সদস্যের এলাকায় সমান উন্নয়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০৫ সকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : আরমান হোসেন

সমুদ্রের নিচে ইরানের বিশাল ‘মিসাইল সিটি’: মার্কিন রণতরী ঠেকাতে রণপ্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হওয়ার মাঝেই সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে রাখা নিজেদের বিশাল মিসাইল সুড়ঙ্গ বা আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সিটির দৃশ্য প্রকাশ্যে এনেছে ইরান। বুধবার(২৮ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রপৃষ্ঠের অনেক গভীরে তৈরি করা এসব সুড়ঙ্গে শত শত ক্রুজ মিসাইল যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখার কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরি এই সুড়ঙ্গ থেকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের ওপর কোনো আঘাত এলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আর কারও জন্য নিরাপদ থাকবে না।

ইরানি নৌ কমান্ডারের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আলীরেজা তাঙসিরি দাবি করেছেন, ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌজাহাজগুলোকে মোকাবিলা করতেই এই গোপন নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। এসব সুড়ঙ্গে থাকা মিসাইলগুলো ১ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে তাদের নতুন কাদের ৩৮০ এল মিসাইলটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন স্মার্ট যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি, যা লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত পিছু ছাড়ে না। এই প্রযুক্তিগত প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইরান মূলত ওয়াশিংটনকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মেজাজ এখন আগের চেয়েও অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে গতবারের চেয়েও ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিশালাকার রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর নেতৃত্বে একটি বিশাল নৌবহর প্রচণ্ড গতিতে ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যে ক্ষতি করা হয়েছিল, এবার হামলা হলে তার মাত্রা হবে বহুগুণ বেশি। ট্রাম্পের সাফ কথা, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের চুক্তিতে সই করতে হবে অথবা ধ্বংসাত্মক হামলার মুখোমুখি হতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। একদিকে সমুদ্রের নিচ থেকে ইরানের মিসাইল সুড়ঙ্গের হুমকি, অন্যদিকে সমুদ্রের বুক চিরে ধেয়ে আসা মার্কিন নৌবহরের হুঙ্কার—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বারুদে ঠাসা। বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্র: দ্য নিউ আরব

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়