শিরোনাম
◈ উত্তরবঙ্গের আকাশপথে নতুন দিগন্ত, ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে বগুড়া বিমানবন্দর ◈ বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হচ্ছে : সংসদে খাদ্যমন্ত্রী ◈ বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যাচ্ছে সরকার : সংসদে ত্রাণমন্ত্রী ◈ আফগা‌নিস্তান নাজেহাল, একদিনেই দু’বার অলআউট করে ৩০০ রা‌নে টেস্ট জিতলো ভারত ◈ ‘অনেক হয়েছে, এবার শেষ করা যাক’: সরাসরি সম্প্রচারে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ◈ বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেলে টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০২৫, ০১:১০ রাত
আপডেট : ২৪ মে, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সীমান্তের ৪০ কিমি দূরে চীনের বিমানঘাঁটি, উদ্বেগে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা

তিব্বতের লুনজে বিমানঘাঁটিতে চীন নির্মাণ করেছে ৩৬টি শক্তিশালী বিমান বাংকার, নতুন প্রশাসনিক ভবন ও অ্যাপ্রন এলাকা। অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তঘেঁষা এই ঘাঁটিটি ম্যাকমোহন লাইনের মাত্র ৪০ কিলোমিটার উত্তরে এবং তাওয়াং শহর থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

নতুন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে চীন এখন সীমান্তের কাছে যুদ্ধবিমান ও ড্রোন মোতায়েনের সুযোগ পাবে, যা ভারতের অরুণাচল ও আসামের বিমানঘাঁটিগুলোর জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করতে পারে।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল বি. এস. ধানোয়া এনডিটিভিকে বলেন, লুনজেতে বিমান বাংকার নির্মাণ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে— ভবিষ্যতে সংঘাত হলে চীনের ফাইটার জেট ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার এখান থেকেই সরাসরি অভিযান চালাতে পারবে। তিনি ধারণা দেন, ঘাঁটির ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলোতে ইতিমধ্যেই গোলাবারুদ ও জ্বালানি মজুত রাখা হয়েছে।

ধানোয়া আরও বলেন, “২০১৭ সালের ডোকলাম সংঘাতের সময়ই আমি বলেছিলাম, তিব্বতে পিএলএ বিমানবাহিনীর দুর্বলতা হলো মোতায়েন সক্ষমতা। এখন তারা বাংকার তৈরি করছে, অর্থাৎ আমাদের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান এয়ার মার্শাল অনিল খোসলার মতে, এসব ঘাঁটির আধুনিকায়ন চীনের ভবিষ্যৎ যুদ্ধ পরিকল্পনার অংশ এবং এটি ভারতের জন্য গুরুতর কৌশলগত হুমকি। তাঁর ভাষায়, “৩৬টি মজবুত বাংকার চীনের বিমান ও সরঞ্জাম ছড়িয়ে রাখার সুযোগ দেবে, কেন্দ্রীভূত আক্রমণের ঝুঁকি কমাবে এবং দীর্ঘস্থায়ী অপারেশনে সক্ষমতা বাড়াবে।”

খোসলা বলেন, এই বাংকারগুলো ভারতীয় বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে চীনের ঘাঁটিকে সুরক্ষা দেবে, ফলে সংঘর্ষের শুরুতেই ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কমে যাবে।

টিংরি, লুনজে ও বুরংয়ের মতো বিমানঘাঁটিগুলো প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি)-এর মাত্র ৫০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এতে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিলে চীনা বিমানবাহিনী দ্রুত মোতায়েন ও প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে, যা ভারতের সিকিম, অরুণাচল, উত্তরাখণ্ড ও লাদাখ অঞ্চলের জন্য উদ্বেগজনক।

চীনের সিএইচ–৪ মনুষ্যবিহীন ড্রোন ১৬ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম। তিব্বতের উচ্চভূমিতে এসব ড্রোনকে হামলা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বিপরীতে ভারত ২০২৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি “স্কাই গার্ডিয়ান” ড্রোন যুক্ত করবে, যা গোয়েন্দা ও নির্ভুল আঘাত সক্ষমতা বাড়াবে।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর আরেক সাবেক উপপ্রধান এয়ার মার্শাল এসপি ধারকর বলেন, “চীনের আধুনিক অবকাঠামো আমাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। আগে আমরা ভৌগোলিক উচ্চতার কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম, কিন্তু এখন সেই ব্যবধান কমে আসছে।”

ভূ-গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ ড্যামিয়েন সাইমনের বিশ্লেষণ, তাওয়াং সেক্টরের বিপরীতে দ্রুত বাংকার নির্মাণ চীনের বিমানশক্তি বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও ভারতও সীমান্তে শক্তিশালী বিমান অবকাঠামো বজায় রেখেছে, তবু বেইজিংয়ের এই কর্মকাণ্ড ব্যবধান কমানোর প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়