শিরোনাম
◈ বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীনের, প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে চুক্তি ◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা! ◈ আসিফ আকবর আটক হননি, গুজব উড়িয়ে দিলেন নিজেই! ◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা ক‌তোটা শ‌ক্তিশালী, রোববার সকা‌লে পরীক্ষা নে‌বে হন্ডুরাস ◈ দেশের শিশুস্বাস্থ্যে গবেষণার কেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, তবু শয্যা ও প্রযুক্তি সংকট ◈ কাল শুরু হচ্ছে সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ◈ 'অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করেছে' কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নিয়ে আসিফের কড়া মন্তব্য; দিলেন বরাদ্দের ব্যাখ্যা

প্রকাশিত : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৮:০২ রাত
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শিশুর ১৩ প্রাণঘাতী রোগ নিয়ে গবেষণা চলছে, বাড়ছে শয্যা ও জনবলের চাহিদা

দেশের শিশুস্বাস্থ্যে গবেষণার কেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, তবু শয্যা ও প্রযুক্তি সংকট

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের গবেষক সহকারী অধ্যাপক ডাঃ নিগাহ্ জান্নাত দোলা

শাহীন খন্দকার: বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের একটি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল। ১৯৮৩ সালে ঢাকার শেরে বাংলা নগর থানায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটিতে শিশু-স্বাস্থ্যের উপর বিভিন্ন কোর্স ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিভিন্ন ডিগ্রি কোর্স চালু আছে। রয়েছে দেড় বছর মেয়াদী এফ.সি.পি.এস (ফেলো অব দি কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস)।

তিন বছর মেয়াদী এম.ডি (ডক্টর অব মেডিসিন), তিন বছর মেয়াদী এম.এস (মাস্টার ইন সার্জারি), ডি.সি.এইচ (ডিপ্লোমা ইন চাইল্ড হেলথ) পেডিয়াট্রিক্সেসহ বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্স এবং স্বাস্থ্য প্রযুক্তিতে বিএসসি।ইনস্টিটিউটটি বিভিন্ন উপ-বিশেষায়িত কোর্স পরিচালনা করে।

কোর্সগুলো এফ.সি.পি.এস (নিউওনাটোলজি), এফ.সি.পি.এস (হ্যামেটো-অ্যানকোলজি), এফ.সি.পি.এস(নেফ্রোলজি), এম.ডি (নিউওনাটোলজি), এম.ডি (হেমাটো-অ্যানকোলজি) এবং এম.ডি ( নেফ্রোলজি)।  ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে বেসিক সায়েন্স বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। ডিপ্লোমা ইন পেডিয়াট্রিক নার্সিং ডিপ্লোমা নার্সিং এবং বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজিক কোর্স রয়েছে । রয়েছে ১৩টি মেডিসিন বিভাগ, ৫টি সার্জারি বিভাগ। তবে সমস্যা রয়েছে এম আর আইসহ সিটি স্ক্যানের।

পরিচালক বলেন, হাসপাতালটি মাল্টিস্টোর বিল্ডিং হলেই শয্যা যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, শয্যা সমাধান করতে ২০০০-৩০০০ শয্যার প্রয়োজন। হাসপাতালটিতে চিকিৎসকসহ রয়েছে নার্সের প্রয়োজন,  বিশেষায়িত হাসপাতাল হওয়াতে দেশের প্রত্যান্তঞ্চল থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী আসছে।

বাংলাদেশ শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন গবেষণামূলক কোর্সও রয়েছে। ইউসিএল গ্রেট অর্মন্ড স্ট্রিট ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এ প্রতিষ্ঠানের গবেষণা সম্পর্ক রয়েছে। ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৪ সাল থেকে বছরে দু’বার করে ঢাকা শিশু হাসপাতাল জার্নাল প্রকাশিত হয়, রয়েছে লাইব্রেরী। লাইব্রেরীটির নাম তোফায়েল আহমেদ মেমোরিয়াল লাইব্রেরি। ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য লাইব্রেরিটি ২৪ ঘন্টাই খোলা থাকে বলে জানা গেছে।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, ঢাকা শিশু হাসপাতালটি স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থায়ন করেছেন প্রয়াত অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদও বাংলাদেশ সরকারসহ যুক্তরাজ্যের সেভ দ্য চিলড্রেন ফান্ড এবং বাংলাদেশের ওয়ার্ল্ড ভিশন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শিশু মৃত্যুর হার বাড়ায়, যে সব রোগজীবাণু ও অণুজীব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়,তার সংক্ষিপ্ত গবেষণার সংক্রামক রোগের জীবাণু নিয়ে বিস্তর গবেষণা হচ্ছে প্রশ্নে জানিয়েছেন, হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জিয়াউল ইসলাম। 

পরিচালক বলেন বর্তমানে শিশুদের ১৩টি রোগ নিয়ে গবেষণা চলছে। উল্লেখ্য হাম, ডেঙ্গু, যক্ষাসহ জন্মগত হার্ডের ত্রুটি, শিশুদের লিভার, কিডনী ডিজিজ, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এবং নিউরোলজিক্যাল ম্যাটাবলিক (ডায়াবেটিকস) হরমন ডিজিজ মেনিনজাইটিসের মতো প্রাণঘাতী রোগের জীবাণু প্রধান।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের প্রধান ফটক পেরিয়ে হাসপাতাল অংশে ঢুকতেই হাতের ডানে পড়বে গবেষণার কর্মক্ষেত্র। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রধানগন প্রতিদিন শিশুরোগ জীবাণু নিয়ে গবেষণা করছেন। তত্ববধানে রয়েছেন, চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বর্তমান নির্বাহী পরিচালক সমীর কুমার সাহা।

গবেষণাগারে ঢুকতেই দেখা গেল একেক কক্ষে একেক ধরনের কাজ চলছে।  মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ নিগাহ্ জান্নাত দোলা বলেন, তথ্য উপাদ্যদীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া, বৈজ্ঞানিক পন্থায় ঔষধ তৈরী করতে হয়। তবে আমরা বাংলাদেশ আইসিডিডিআরবি ও জার্মানির সঙ্গে কাজ করছি।

সহকারি অধ্যাপক ডা. নিগাহ্ জান্নাত দোলা বলেন, গবেষণা দুই ভাগে হয়: এক চলমান প্রক্রিয়া, দুই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে। তিনি বলেন, চাইল্ড হেলথ রির্সাচ ফাউন্ডেশ (সিএইচ আর এফ) যৌথ উদ্যোগে ১৩টি রোগ জীবাণু গবেষণা চলছে।
এছাড়াও তিনি দু’টি বিসয় নিয়ে গবেষণা করছেন। প্রশ্নের উত্তরে দোলা গবেষণার বিষয়বস্তুত সর্ম্পকে জানিয়েছেন, (১) হাসপাতালের পরিবেশে যে, সকল রোগ জীবাণু রয়েছে এই গুলো থেকে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে কি-না জানার জন্য গবেষণা চলমান।

দ্বিতীয় এই যে হাসপাতাল থেকে যে সব জীবাণুর জিনোমিক্স করা হয়েছে, সেই জিনোমিক্সেও ফলাফল গুলোর মধ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ( এম এ এম আর অসজ) ভিরোল্যান্সজিন গুলো দেখছি। সেই সঙ্গে পরিবেশগত এবং শিশুদের শরীরের ব্লাড থেকে যে জিনোমিক্স কওে দেখছি যে, এই জীবাণু গুলোর সামঞ্জস্ব কতটুকু তা নিয়ে কাজ করছেন বলে জানালেন। এক প্রশ্নে বলেন, তিনি এই গবেষণা করছেন বাংলাদেশ বিএমআরসির অর্থায়ণে অর্থাৎ বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অর্থায়ণে গবেষণা সম্পর্ণ করেছেন। হাসপাতালের বিশেষ একটি সুত্রে জানাগেছে, ইতিমধ্যে ১৩ জন চিকিৎসককে গবেষণার জন্য ৫২ লক্ষ্যটাকা দেওয়া হয়েছে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুসহ ৬ বিষয়ে গবেষণা নিয়ে। 

মাইক্রোবায়লোজি গবেষণা করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন কিন্তু সেই অর্থ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়না। তবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি অর্থ পাওয়া গিয়েছে এবং চিকিৎসকরা নিজস্ব উদ্যোগেই কওে থাকেন বলেন সুত্রে জানাগেছে!

হাসপাতালের পরিচালক বলেন, বিশ্বজুড়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বড় বড় হাসপাতাল গড়ে উঠছে, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগীদের বিশ্বমানের চিকিৎসা ও বিলাসবহুল সুযোগ সুবিধাও দিচ্ছে।

উল্লেখ্য মেয়ো ক্লিনিক (যুক্তরাষ্ট্র) এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা ও বৃহৎ বেসরকারি অলাভজনক চিকিৎসাকেন্দ্র। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা,অ্যারিজোনা ও ফ্লোরিডায় এর সুবিশাল ক্যাম্পাস রয়েছে এবং জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বিশ্বখ্যাত। পার্শ্ববতী দেশ ভারতের টাটা রতন বিরলা।

পরিচালক জিয়াউল ইসলাম বাংলাদেশের শিল্পপতিদের হাসপাতাল করার লক্ষ্যে নিজ নিজ জেলা-উপজেলাগুলোতে এগিয়ে আসার আহব্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিজ নিজ এলাকায় যদি শিল্পপতি ও খেলোয়ারদের উদ্যোগে হাসপাতাল গড়ে উঠলেই চলমান সমস্যা সমধান হবে।

অভিজ্ঞমহলের দাবি বাংলাদেশে দক্ষ চিকিৎসক গড়ে উঠলেও তাদের চিকিৎসাসেবা ও গবেষণার চেয়ে প্রাইভেট রোগী দেখার মনোভাব বেশী দেখা যাচ্ছে, ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা জেলা-উপজেলাসহ রাজধানীর অলিগলীতে বেসরকারী হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে!

অন্যদিকে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে টেকনিশিয়ান এখনো তেমন গড়ে উঠেনি বলে অভিজ্ঞমহলের দাবি। তারা মনে করেন অভিজ্ঞচিকিৎসক এবং  রোগ নির্ণয়য়ের জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ান গড়ে উঠে, তাহলে বাংলাদেশ থেকে মানুষ বিদেশ যেতোনা চিকিৎসাসেবা নিতে। উপরন্ত বাংলাদেশে সেবার জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসতো চিকিৎসার জন্য।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়