শিরোনাম
◈ উত্তরবঙ্গের আকাশপথে নতুন দিগন্ত, ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে বগুড়া বিমানবন্দর ◈ বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হচ্ছে : সংসদে খাদ্যমন্ত্রী ◈ বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যাচ্ছে সরকার : সংসদে ত্রাণমন্ত্রী ◈ আফগা‌নিস্তান নাজেহাল, একদিনেই দু’বার অলআউট করে ৩০০ রা‌নে টেস্ট জিতলো ভারত ◈ ‘অনেক হয়েছে, এবার শেষ করা যাক’: সরাসরি সম্প্রচারে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ◈ বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেলে টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরের ২০০ বছরের পুরনো জমিদার বাড়ির 'বউঘাট' খুড়ে নেওয়া হচ্ছে গুপ্তধন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: গুপ্তধনের লোভে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো বাইশরশি জমিদার বাড়ির ঐতিহাসিক ‘বউঘাট’ খুঁড়ে তছনছ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি অসাধু চক্র প্রকাশ্যেই খনন চালিয়ে সম্ভাব্য মূল্যবান প্রত্নসম্পদ লুট করছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, জমিদার বাড়ির পুকুর সংলগ্ন বউঘাটের নিচের অংশ খুঁড়ে মাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। খননস্থলে ছড়িয়ে রয়েছে পাথরের ভাঙা মূর্তি, প্রাচীন তৈজসপত্রের অংশ, পাথরের থালা ও পূজার সামগ্রীর ভগ্নাংশ—যা স্থাপনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্বেরই সাক্ষ্য বহন করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সুযোগ নেয় চক্রটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনের বেলাতেই কয়েকজন ব্যক্তি মাটি খুঁড়ে তা পাশের পুকুরে ধুয়ে বিভিন্ন পুরোনো সামগ্রী সংগ্রহ করছে। তাদের হাতে স্বর্ণালংকার, পাথরের দাবার গুটি, গোলাকার বল, তামা ও রুপার মুদ্রা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা থেকে আসা বলে পরিচয় দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, একসময় এই জমিদার পরিবার ফরিদপুর ও বরিশালসহ ২২টি পরগনার শাসনভার পরিচালনা করত। যে বউঘাটে খনন চলছে, সেটি ছিল জমিদার পরিবারের নারীদের স্নানের স্থান এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ধারণা করা হচ্ছে, স্নানের সময় হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান রত্নের আশাতেই এই খননকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সদ্য জেনেছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৭শ শতকের গোড়ায় লবণ ব্যবসার মাধ্যমে সাহা পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক হয় এবং পরবর্তীতে ২২টি পরগনা ক্রয়ের মাধ্যমে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করে। ১৮শ শতক থেকে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ পর্যন্ত তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল সুদূরপ্রসারী।

একসময় প্রায় ৫০ একর জমির ওপর বিস্তৃত এই জমিদার বাড়িতে ছিল বাগানবাড়ি, শানবাঁধানো পুকুর, পূজামণ্ডপ এবং ছোট-বড় মিলিয়ে ১৪টি দালানকোঠা। বর্তমানে প্রায় ৩০ একর এলাকা টিকে থাকলেও বাকিটা দখল হয়ে গেছে। অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোতে এখনো কারুকার্যময় দরজা-জানালা ও লোহার অলংকরণে অতীতের আভিজাত্যের ছাপ মিললেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি বর্তমানে প্রায় অরক্ষিত। অভিযোগ রয়েছে, মূল্যবান কাঠ, লোহার কারুকাজ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ধারাবাহিকভাবে লুট হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, রাতের বেলায় এলাকা অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়, এমনকি দিনের বেলাতেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, জমিদার বাড়ির ভেতরেই উপজেলা ভূমি অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও এর নিরাপত্তা ও সংরক্ষণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

স্থানীয়দের জোর দাবি—অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণ এবং লুটপাট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়