শিরোনাম
◈ প্রতিবাদ: বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানী খে‌লোয়াড়‌দের জার্সিতে লেখা #168! লজ্জায় মুখ ঢাকবে আমেরিকা  ◈ বাজেটে স্বস্তি ও চ্যালেঞ্জ দুটোই, করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩.৭৫ লাখ টাকা ◈ ময়মনসিংহে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচল বন্ধ ◈ বিশ্বকা‌পের শেষ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে আইসল‌্যান্ড‌কে ৩-০ গো‌লে হারা‌লো আ‌র্জেন্টিনা, মাঠে ফি‌রেই মেসির গোল ◈ বাজুসের নতুন ঘোষণা, দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম ◈ 'এই সময়' কে দেয়া সাক্ষা‌তকা‌রের দ্বিতীয় পর্ব-- টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাবো বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, আমি জানতামই না, দেশের বাইরে যাচ্ছি: শেখ হা‌সিনা ◈ লাল টেলিফোনের পর এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি, নিরাপত্তা সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ◈ ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের দুই স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে অসন্তুোষ আইসিসির ◈ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে রেফারি সব ব্রাজিলের  ◈ পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য : বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

প্রকাশিত : ০৩ মার্চ, ২০২৬, ০৫:১৪ বিকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধে ফাটল

নুর উদ্দিন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে এখনও বৃষ্টিপাত হয়নি। বাঁধের পাশে পানি নেই। এরপরও ফসল রক্ষা বাঁধে দেখা দিয়েছে ফাটল ও ধস। এতে ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ২৮ ফেব্রুয়ারির ভিতরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও বাঁধে চলছে মাটির কাজ। ঘাস লাগানো, দুর্মুজ সহ বাঁধের অন্যান্য কাজ বাকি রয়েছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার ১৪ নম্বর পিআইসির বাঁধে গিয়ে এমন অবস্থা দেখা গেছে। কাজ চলমান অবস্থায় বাঁধের একপাশে বড় ফাটল ও ধস নামায় বাঁশের বেড়ার কাজ চলছে সেখানে। এমন অবস্থায় বাঁধে ফাটল তৈরি হওয়ায় বৃষ্টি শুরু হলে বাঁধ কতটুকু টিকবে সেই শঙ্কায় আছেন কৃষকরা। এছাড়াও উপজেলার বেশিরভাগ বাঁধে মাটির কাজ শেষের দিকে থাকলেও এসব বাঁধের কাজের গুণগত মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে কৃষকদের।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, এবছর জেলায় ৫৩টি হাওরে ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০১ কিলোমিটার বাঁধের কাজ শুরু হয় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর। ২৮ ফেব্রুয়ারির ভেতর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ বাঁধে মাটির কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় দ্বিতীয় মেয়াদে আরও ১৫ দিন বাঁধের কাজে সময়সীমা বাড়ানো’র চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বাঁধের কাজের শুরুতেই পিআইসি গঠন, কাজের ধীরগতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল। অধিকাংশ বাঁধে কাজ কম থাকলেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বেশি। মূলত কাজ কম থাকা সত্ত্বেও যেসব বাঁধে বরাদ্দ বেশি দেওয়া হয়েছে- লুটপাট সেখানেই বেশি হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে বন্যা না হওয়াতে জেলার বেশিরভাগ বাঁধের মাটি বাঁধেই ছিল। কিন্তু এবছর সেসব বাঁধেই পিআইসি গঠন করে বরাদ্দের নামে হয়েছে লুটপাট। কোন কোন বাঁধে অল্প মাটি দিয়ে শেষ করা হয় বাঁধের কাজ। পিআইসি সভাপতিরা জানান, বিল না পাওয়াতে কাজে ধীরগতি হয়েছে ও ঘাস লাগানো সহ অনেক কাজ বাকি রয়েছে।

সরজেমিনে দেখা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের কাউয়াজুরী হাওরে ১৪ নম্বর পিআইসি সভাপতি আকিবুল মিয়া ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯০০ মিটার বাঁধের কাজ করছেন। টাইলা গ্রামের চামতী নদীর পাশেই চলছে এই বাঁধের কাজ। মাটির কাজ শেষে ঘাস লাগানোর ঠিক আগ মুহূর্তে কোন বৃষ্টিপাত ছাড়াই বাঁধের একপাশে ধস নামে। বাঁধে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। অল্প বৃষ্টি হলেই পুরো বাঁধটি ধসে পড়বে। বর্তমানে ধসে যাওয়া বাঁধের মাটি আটকাতে দেওয়া হচ্ছে বাঁশের বেড়া। কাজ চলমান অবস্থায় বাঁধের মাটি ধসে যাওয়ায়  চিন্তিত হাওপাড়ের কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বেশিরভাগ বাঁধের কাজে হয়েছে অনিয়ম। মাটি দিয়ে শুধু নামেমাত্র কাজ করানো হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ বাঁধেই মাটির কম্পেকশন ঠিকমতো হয় নি। ফলে এসব বাঁধ নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে বেশি। অল্পবৃষ্টি হলেই এসব বাঁধের মাটি ধসে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

পিআইসি সভাপতি আকিবুল মিয়া বলেন, বাঁধের পাশেই চামতী নদী। বিগত কয়েক বছর ধরে এই নদী থেকে মাটি তোলা হয়েছে। গত বছরও এই অংশ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকেছে। এবার কাজের শুরুর প্রথমে কোন সমস্যা হয় নি। বাঁধের সবচেয়ে বেশি মাটি পড়েছে এই ভাঙনে। কিন্তু বাঁধের পাশে জমির পানি নিচ দিয়ে যাওয়ায় বাঁধে ধস নেমেছে। ধস ঠিকাতে বাঁধের একাংশে বাঁশের বেড়া দেওয়া হচ্ছে। এতে কতটুকু আটকানো সম্ভব হবে তা সঠিক করে বলা যাবে না।

তিনি বলেন, ধসে যাওয়ার অংশের জন্য জিওব্যাগ দেওয়ার কথা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোন কর্ণপাত করেন নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এই ভাঙনের জন্য এসও সাহেব বাঁশের বেড়া দিতে বলেছে। সেই অনুযায়ী বাঁধের ধস টেকাতে সেখানে বাঁশের বেড়ার কাজ চলছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন, বাঁধ ধসে যাওয়ার বিষয়টি জানার পরই ধসে যাওয়া বাঁধের জন্য বাঁশের বেড়া সহ যথাযত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাঁধের মাটি আটকাতে যা দরকার সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বললেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত কাজের সময়সীমা থাকলেও আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অল্প বৃষ্টি হলেও বাঁধের কাজে কোন সমস্যা হবে না, এতে বাঁধের মাটির কম্পেকশন ভালো হবে। বর্ধিত সময়ের ভেতরে বাঁধের কাজ শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়