শিরোনাম
◈ পোলট্রি ও ফিশ ফিডে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য, বাড়ছে ক্যানসারসহ নানা রোগ, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি! ◈ যে ছেলে একসময় টিফিনের টাকাও জোগাড় করতে পারত না, আজ দুবাইয়ে ২০ হাজার কোটির মালিক ◈ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা ◈ ভারতের সব কর্মীকে ছাঁটাই করল ওপেনডোর, কারণ দেখালো ‘গ্রাহকরা আমেরিকায়’ ◈ বেনাপোল বন্দরের শেড থেকে উধাও ৬ কোটি টাকার পণ্য, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা ◈ বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস: তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু, কে কত দিলেন? ◈ অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল বাংলাদেশের অর্থনীতি, নতুন রেকর্ড জিডিপিতে ◈ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্য দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল এপস্টেইন: বিল গেটস ◈ ব্রাজিলকে হালকাভাবে নিলে ভুগতে হবে, বিশ্বকাপে নামার আগে মিডফিল্ডার ব্রুনোর হুম‌কি ◈ পা‌কিস্তা‌নের সা‌বেক ক্রিকেটার বা‌সিত আ‌লি বল‌লেন, বাংলাদেশ এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:০৫ রাত
আপডেট : ০১ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পার্বতীপুরে বড়দিন উদযাপনে ৫০ গির্জার সরকারি অনুদানের চাল বিক্রির অভিযোগ

মোঃ রুকুনুজ্জামান, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: খ্রিস্টান ধর্মাম্বলীদের বড়দিন উদযাপনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ৫০ গির্জায় সরকারি অনুদানের ৫০০ কেজি চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৫০ গির্জার সভাপতি-সম্পাদক খোলাবাজারে প্রতি কেজি চাল মাত্র ৩৬ টাকা দরে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। অথচ খোলাবাজারে প্রতি কেজি চাল ৫০/৫২ টাকা।

এছাড়া ডিও বিক্রির ১৮ হাজার টাকা পাওয়ার পর নানা অজুহাতে ১ হাজার টাকা কর্তন করেন উপজেলা খ্রিস্টান আন্তমন্ডলী ঐক্য পরিষদ নেতারা। তবে, উপজেলার ৮টি গির্জার সভাপতি-সম্পাদক পার্বতীপুর উপজেলা বিভিন্ন খাদ্য গোডাউন থেকে চাল উত্তোলন করেন। বাকি ৫০ গির্জার সভাপতি ও সম্পাদক পানির দামে জনৈক তিন ব্যবসায়ীর কাছে (জিআর) চাল বিক্রি করে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গির্জার সভাপতি-সম্পাদকদের উস্থিতিতে অনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি অনুদানের এসব (জিআর) ডিও দেয়া হয়। বড়দিন উপলক্ষে ৫৮ গির্জার মধ্যে ৫০ গির্জার চাল বিক্রির এবিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), পার্বতীপুর নির্বাহী অফিসার বিষয়টি জানে না বলে বক্তব্য পাওয়া যায়।

এবছর পার্বতীপুর উপজেলায় ৫৮টি গির্জায় বড়দিন উৎসব ২৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারো বড়দিন পালনের জন্য প্রতিটি গির্জা ৫০০ কেজি হিসেবে ২৯ হাজার (জিআর) চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) উপজেলা প্রশাসন সময়মতো ডেলিভারি আদেশ (ডিও লেটার) ডিও লেটার ইস্যু করে। একই দিন ২৯ হাজার মেট্রিক টন চালের ডিও লেটার জনৈক তিন ব্যবসায়ীকে দিয়ে নগদ টাকা নিয়ে প্রতিটি গির্জায় ১৮ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়। উপজেলা খ্রিস্টান আন্তমন্ডলী ঐক্য পরিষদ নামে সংস্কার ও যাতায়াত বাবদ গির্জা প্রতি ১ হাজার টাকা কর্তন টাকা করেছে বিনোদ মূর্মু, বিমল মূর্মূ ও যুগল সরেন।

গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বারোকোনায় সরেজমিনে গেলে, এই নামে কোন সংগঠন খুজে পাওয়া যায়নি। অথচ এই সংগঠনের নামে গির্জা প্রতি টাকা কর্তন করেন সভাপতি বিনোদ মুর্মু, সম্পাদক বিমল টুডুু ও কোষাধ্যক্ষ পরিচয়ে যুগল রায়।

সরেজমিনে কথা হয়, উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের মাহালিপাড়ার ক্যাথলিক যোসেপ গির্জার সভাপতি মাইকেল সরেন, হরিরামপুর ইউনিয়নের গুড়গুড়ী শুকুর ডাঙ্গা ক্যাথলিক গির্জার সভাপতি সুধীর হাসদা, মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চিড়াকুটা ক্যাথলিক মন্ডলীর সভাপতি মিখায়েল টুডু ও নিলিমা হেমব্রমসহ অনেকেই জানান, গির্জায় বড়দিন উৎসবের জন্য উপজেলা প্রশাসন চালের ডিও দিয়েছে। কিন্তু চালের পরিবর্তে আমাদের ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা পেয়েছি। সেখান থেকে সংগঠন নামে আবার জোর করে ১ হাজার কর্তন করে নেয়। সবার ডিও একখানে করে নিলো। ডিও বিক্রি করে দিলো। একবার অনুমতির প্রয়োজন মনে করলো না বিনোদ মুর্ম, বিমল টুডু ও যোগেন রায়। অথচ সংগঠনের কোন অফিস নাই, শুধু শুধু টাকা কাটলো তারা।  

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, পার্বতীপুর উপজেলা খ্রিস্টান আন্তমন্ডলী ঐক্য পরিষদের নিজেকে সভাপতি দাবী করে বিনোদ মুর্মু জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস থেকে (জিআর) চালের ডিও পেয়েছি। কিন্ত আমরা ডিও গুলো ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫০০ কেজি চাল ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। সেখান সংগঠনে সংস্কার ও যাতায়াত বাবদ সব গির্জার সভাপতি-সম্পাদকের সম্মতিক্রমে ১ হাজার টাকা কর্তন করা হয়েছে। এরমধ্যে ৮টি গির্জার সভাপতি-সম্পাদক তারা চাল উত্তোলন করেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পিআইও অবগত আছে কি না এবিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি আরও বলেন, এটা তো তাদের জানার কথা নয়। এটা সংগঠনের স্বার্থে আমরা করেছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে জানতে চাওয়া হলে, আপনাদের সংগঠনের অফিস কোথায়? যে অফিসের নামে গির্জা প্রতি ১ হাজার টাকা করে কর্তন করা হলো? চন্ডিপুর ইউনিয়নের বারোকোনায় একটা প্রজেক্ট আছে, সেখানেই আমরা বসি। তাহলে তো সংগঠনের অফিস হলো না। দাদা আপনি কোথায় আছেন? আপনার সাথে জরুরী দেখা করতে চাই।

চন্ডিপুর ইউনিয়নের ছোটহরিপুর গ্রামের সিনিয়র সাবেক আদিবাসী নেতা ইমানুয়েল মুর্মু বলেন, যদি সংগঠন থেকে থাকে তারা এটা করতে পারে, কিন্তু সংগঠন যদি না থাকে তাহলে তো এটা সঠিক হবে না। যাই হোক এটার সাথে যারা জড়িত তারাই ভাল বলতে পারবে কেন তারা এটা করেছে।

উপজেলা খ্রিস্টান আন্তমন্ডলী ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক হিসেবে নিজেকে দাবীকারি বিমল টুডু বলেন, উপজেলার ৫৮টি গির্জার ৩৮ দরে ১৯ হাজার টাকায় ৫০০ কেজি চাল বিক্রি করা হয়েছে। সেখান থেকে সংগঠনের নামে গির্জা প্রতি ১ হাজার নিয়েছি, সরকারে দেয়া এই ৫০০ কেজি চাল আসলে বিক্রি করা ঠিক হয়নি। কারন এই চাল আমরা এক সঙ্গে বড়দিনে ভোজ করবো। অপর এক প্রশ্নের জবাবে জানতে চাইলে যে, আপনাদের সংগঠন নেই, টাকা কেন কাটলেন উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

এবিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: সাদ্দাম হোসেন বলেন, সরকারিভাবে উপজেলার ৫৮টি গির্জায় (জিআর) ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গির্জার সভাপতি-সম্পাদক এই চাল বিক্রি করতে পারে না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়