শিরোনাম
◈ একটি শিশুর ওপর নির্যাতন পুরো সমাজকে আহত করে: রামিসার রায়ে আদালতের বার্তা ◈ এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে: তারেক রহমান ◈ বালুবোঝাই ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ◈ ভালো ব্যাংকও রক্ষা পায়নি, ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টির অবস্থার অবনতি, বেড়েই চলেছে খেলাপি ঋণের পাহাড় ◈ ভারতে ডেটা সেন্টার খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী রবিন খুদা! ◈ জেল থেকে ফিরে নানা আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী, সরগরম চুনকা কুঠির ◈ মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নাকি আইন হাতে তুলে নেওয়া? ভাইরাল গণপিটুনির ঘটনায় বিতর্ক ◈ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সেই ‘ডলার’কে নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন রামিসার বাবা ◈ আদালতের ঐতিহাসিক রায়: ১৬ দিনে বিচার সম্পন্ন, রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত : ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:০১ দুপুর
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কেন চোখে কাজল দিতেন প্রাচীন মিশরের যোদ্ধারা?

ইতিহাস-ঐতিহ্য নিজে যারা ঘাটতে ভালোবাসেন তারা মিশরের ইতিহাস ঘাঁটলে হয়তো খেয়াল করেছেন মিশরীয় সেনাদের চোখজুড়ে কালো কাজলের প্রলেপ। কিন্তু কেন? কাজল তো নারীদের প্রসাধনী অংশ। সেসময় পুরুষরা কেন এটি ব্যবহার করতেন? এর পেছনে কী কারণ রয়েছে? চলুন বিস্তারিত জেনে নিই- 

প্রাচীন মিশরীয় সংস্কৃতিতে কাজল (Kohl) পরিচিত ছিল 'মেসডেমোট' নামে। এটি কেবল প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহার হতো না। মিশরীয় রাজপরিবার, সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে যোদ্ধারা চোখের চারপাশে ঘন কালো রঙের এই প্রলেপ ব্যবহার করতেন। এর পেছনে ছিল গভীর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক ও সামরিক কারণ।

সামরিক এবং ব্যবহারিক সুবিধা 
চোখে কাজল ব্যবহারের প্রধান কারণ ছিল সূর্যের তীব্রতা থেকে চোখকে রক্ষা করা। যুদ্ধক্ষেত্রে যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। মিশরীয়রা সাধারণত মরুভূমি বা উজ্জ্বল আলো ঝলমলে পরিবেশে যুদ্ধ করত। তারা কালো রঙের কাজল দিয়ে চোখের চারপাশে এক ধরনের ম্যাট বা নিস্তেজ স্তর তৈরি করত, যা সূর্যের তীব্র আলো এবং বালি থেকে প্রতিফলিত হওয়া ঝলকানি (Glare) শোষণ করে নিত।

লক্ষ্যভেদ সহজ করার ক্ষেত্রেও কাজল ভূমিকা রাখত। ঠিক যেমন ফুটবল খেলোয়াড়রা চোখের নিচে কালো স্ট্রিপ ব্যবহার করেন, তেমনি কাজলের এই গ্লেয়ার-বিরোধী বৈশিষ্ট্য সেনাদের দূরের জিনিস বা শত্রুর ওপর লক্ষ্য স্থির করতে এবং তাদের চোখকে আরাম দিতে সাহায্য করত।

চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যগত কারণ 
প্রাচীন মিশরীয়দের কাজলে ব্যবহৃত উপাদানগুলো ছিল অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং রোগ প্রতিরোধী। সংক্রমণ প্রতিরোধে যা সাহায্য করে। নীল নদ সংলগ্ন এলাকায় মশা ও মাছিবাহিত চোখের সংক্রমণ (Eye Infections) যেমন কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis) ছিল একটি সাধারণ সমস্যা। কাজলে থাকা লেড-ভিত্তিক যৌগ, যেমন গ্যালেনা (Galena) এবং অন্যান্য সালফাইডের উপস্থিতি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত ছিল।

কাজলে উপস্থিত এই উপাদানগুলো যখন ত্বকের সংস্পর্শে আসে, তখন এটি নাইট্রিক অক্সাইড (Nitric Oxide) তৈরি করে। এটি শ্বেত রক্তকণিকার (White Blood Cells) মাধ্যমে চোখের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করত।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য
কাজল ব্যবহারের পেছনে ধর্মীয় বিশ্বাসও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মিশরীয়রা বিশ্বাস করত, চোখ হলো আত্মার প্রবেশদ্বার। কাজল ব্যবহার করলে সূর্য দেবতা এবং আকাশ দেবতা তাদের চোখের সুরক্ষা দেবে এমনটাই মনে করতেন তারা। কাজলের চোখ ছিল হোরাস দেবতার (আকাশ দেবতা) চোখের প্রতীক (Eye of Horus)। তারা আরও মনে করত, দুষ্ট আত্মা এবং অমঙ্গলজনক নজর থেকে কাজল তাদের রক্ষা করবে। 

প্রাচীন মিশরীয় সেনারা কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং বহুমুখী সামরিক কৌশল হিসেবে কাজল ব্যবহার করতেন। সূর্যের ঝলকানি থেকে চোখকে বাঁচানো এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করা— এই দুটি ব্যবহারিক কারণই কাজলের ব্যবহারকে যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য অপরিহার্য করে তুলেছিল। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়