শিরোনাম
◈ একটি শিশুর ওপর নির্যাতন পুরো সমাজকে আহত করে: রামিসার রায়ে আদালতের বার্তা ◈ এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে: তারেক রহমান ◈ বালুবোঝাই ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ◈ ভালো ব্যাংকও রক্ষা পায়নি, ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টির অবস্থার অবনতি, বেড়েই চলেছে খেলাপি ঋণের পাহাড় ◈ ভারতে ডেটা সেন্টার খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী রবিন খুদা! ◈ জেল থেকে ফিরে নানা আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী, সরগরম চুনকা কুঠির ◈ মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নাকি আইন হাতে তুলে নেওয়া? ভাইরাল গণপিটুনির ঘটনায় বিতর্ক ◈ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সেই ‘ডলার’কে নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন রামিসার বাবা ◈ আদালতের ঐতিহাসিক রায়: ১৬ দিনে বিচার সম্পন্ন, রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৩১ দুপুর
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরির টার্গেট: জুলকারনাইন সায়ের

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে একটি গোষ্ঠী উত্তেজনা তৈরির টার্গেট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।

১৭ ডিসেম্বর বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফেইসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেইসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, বাংলাদেশের দক্ষিণপন্থীদের দম আছে বলতে হয়! নির্বাচন ঠেকানোর প্রকল্পের গতি কিছুটা পিছিয়ে পড়তেই নতুন টার্গেট শনাক্ত করতে দেরি করেনি তারা। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ ঘিরে নতুন কর্মসূচি সাজাতে শুরু করেছে — ঠিক যখন তারেক রহমান দেশে ফিরছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরা কেবল বিএনপির জন্য নয়- দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্যই একটা জরুরি বিষয়, কারণ জটিল সময়ে দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা তিন দিক থেকেই শক্ত নেতৃত্ব প্রয়োজন।

সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভর-কেন্দ্রগুলো থেকে দ্রুত তাঁর দেশে ফেরার তাগিদ দেখে তিনিও একরকম ঝুঁকির মুখেই ডিসেম্বরের চতুর্থ সপ্তাহে মাতৃভূমিতে ফিরছেন। সঙ্গত কারণেই এই মুহূর্তটি ব্যাপক কৌতূহল ও ভরসার হওয়ার কথা।

দক্ষিণপন্থীরা ঠিক এই মুহূর্তটিকে টার্গেট করেছে উত্তেজনা তৈরি করতে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কটিকে যুদ্ধংদেহি করে তোলার জন্য এই সময়টিকে বেছে নেয়ার লক্ষ্য মূলত তারেক রহমানের দেশে ফেরার সামাজিক আবেদন কমানো। এই আয়োজনে ভারতের এখনকার শাসকদের দিক থেকেও বহু ধরনের লাভ আছে।

প্রথমত, বিজেপি-আরএসএস বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও রাজনীতিকে তাদের জন্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় ব্যাপক উম্মাদনা তৈরি করতে পারবে। সেটা ইতোমধ্যে শুরুও হয়ে গেছে।

দ্বিতীয়ত, এতে বাংলাদেশের চার পাশে নতুন করে সামরিক আয়োজনও বাড়াবে তারা। তৃতীয়ত, এর ফলে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সকল ভারতীয় রাজ্যে মুসলমান বিদ্বেষ নতুন উচ্চতায় উঠছে।

চতুর্থ, ‘নর্থ-ইস্ট ভাগ করে দেবো’, ‘দূতাবাসে ঢুকবো’ এরকম হুমকিগুলো আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের ইদানিংকার ন্যারেটিভকে ন্যায্যতা দিচ্ছে।

ফলে সব মিলিয়ে নয়াদিল্লীর জন্য বাংলাদেশের দক্ষিণপন্থীদের উপহারের যেন কোন শেষ নেই! আবার জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার পর জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে একচেটিয়া উচ্চ সামাজিক ভাবমূর্তিতে দেখতে চায় না নয়াদিল্লী। তাদের হয়ে সেই কাজটিও করে দিতে চলেছে এখানকার ফার-রাইটরা।

তবে, এটাও সত্য, বাংলাদেশের জনসমাজ বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজকের এই জায়গায় এসেছে। তাদের নীরব দৃঢ়তা নির্বাচনের রোডম্যাপকে বাস্তব করে তুলেছে।

তাই ভারত-বিরোধিতার আড়ালে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে উদীয়মান ছদ্ম-রাজনৈতিক-যুদ্ধের তাৎপর্যও নিশ্চয়ই তারা বুঝতে পারবে। সব মানুষকে তো সব সময়ের জন্য বার বার বোকা বানানো যায় না!

ভারতের বিরুদ্ধে স্নায়ু-লড়াইয়ের বড় হাতিয়ার হলো রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো, আর এসব প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার কোন বিকল্প নেই।

আর সেটা বাস্তবায়নে – উৎসবমুখর নির্বাচন এবং জনসমর্থিত শক্ত নেতৃত্ব হলো প্রাথমিক পদক্ষেপ কেবল শক্তিশালী জনপ্রতিনিধিরাই ভারতের হাত থেকে অপরাধীদের নিয়ে আসতে এবং বাকিসব ন্যায্য স্বার্থ আদায় করতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়