শিরোনাম
◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ◈ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু, প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে ◈ পাঁচ সদস্যের সভাপতি মন্ডলীর নাম ঘোষণা

প্রকাশিত : ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৩ দুপুর
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডিভোর্সের পর বাচ্চা ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় সন্তানকে নিতে চান না মা: আদালতে মায়ের বক্তব্যে স্তব্ধ বিচারক

ময়মনসিংহ জেলার একটি পরিবারে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে। তাদের প্রথম সন্তানের বয়স তখন চার বছর। বিচ্ছেদের আগেই জন্ম নেয় আরেকটি সন্তান, যার বয়স মাত্র ৯০ দিন। বিচ্ছেদের পর সন্তানের হেফাজত নিয়ে আদালতে হাজির হন মা।

বিচ্ছেদের পর সন্তানকে ঘিরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে দেশজুড়ে। ডিভোর্সের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে এক মা স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, এই বাচ্চা আমি চাই না, আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে। মায়ের এমন বক্তব্যে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যান আদালতে উপস্থিত বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই।

আদালতে মা দাবি করেন, নবজাতক সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে তিনি অপারগ। তার ভাষায়, আমার একটা ভবিষ্যৎ আছে। এই বাচ্চা নিলে আমার জীবন শেষ হয়ে যাবে। 

বিচারক ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার বারবার অন্তত দুই বছর পর্যন্ত শিশুটিকে মায়ের কাছে রাখার অনুরোধ জানালেও মা সোজাসাপ্টা বলেন, এই সন্তানের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

শিশুটির ভবিষ্যৎ, মানবিকতা এবং মাতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মায়ের চোখে সন্তানের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে নিজের ভবিষ্যৎ। বিষয়টি শুনে আদালত কক্ষে নেমে আসে নীরবতা।

শেষ পর্যন্ত বিচারক কঠোর অবস্থান নেন। সন্তানের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে শিশুটিকে মায়ের কাছেই রাখতে বাধ্য করা হয়। পাশাপাশি সন্তানের মাসিক ভরণপোষণ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যা পিতা বিনা আপত্তিতে মেনে নেন।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কেউ প্রশ্ন তুলছেন—মাতৃত্ব কি পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল? আবার কেউ বলছেন—সমাজ কি আদৌ মায়েদের পাশে দাঁড়াতে পারছে? যে শহরে হাজারো দম্পতি সন্তানের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন, সেখানে এক মা নিজের ৯০ দিনের শিশুকে রাখতে না চাওয়ার দৃশ্য অনেককেই নাড়া দিয়েছে।

তবে প্রশ্ন রয়ে যায়, ডিভোর্সের পর বাবা-মা নতুন করে জীবন শুরু করতে পারলেও মাঝখানে পড়ে যাওয়া এই শিশুগুলোর ভবিষ্যৎ কে নিশ্চিত করবে? এই ৯০ দিনের শিশুটির দোষটাই বা কী?

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়