শিরোনাম
◈ মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নাকি আইন হাতে তুলে নেওয়া? ভাইরাল গণপিটুনির ঘটনায় বিতর্ক ◈ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সেই ‘ডলার’কে নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন রামিসার বাবা ◈ আদালতের ঐতিহাসিক রায়: ১৬ দিনে বিচার সম্পন্ন, রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরকে হারালো ব্রাজিল ◈ ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর: রেমিট্যান্স হিসেবে গণ্য হবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয়, থাকছে না উৎসে কর ◈ ১৬০ অর্থনীতিবিদের জরিপ: স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স ◈ টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি দূর করতে হবে ◈ ফারাক্কায় আপত্তি নেই, তবে পদ্মা ব্যারেজে কেন ভারতের অস্বস্তি?

প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৫৯ সকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চিৎকার করলেই কমবে মানসিক চাপ? জানুন স্ক্রিম থেরাপির আসল রহস্য

মানসিক চাপ কমানোর অনেক উপায় আমরা জানি, কিন্তু পপ কালচারে ‘চিৎকার’ বা ‘স্ক্রিম থেরাপি’ একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে বারবার ফিরে আসে। সত্তর দশকে মনোবিজ্ঞানী আর্থার জানভ প্রবর্তিত এই পদ্ধতিটি বর্তমানে অনেকের কাছেই মানসিক প্রশান্তির পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল জোরে চিৎকার করা নয়, বরং মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা শৈশবের ট্রমা বা অবদমিত আবেগ বের করে দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া। 

স্ক্রিম থেরাপি আসলে কী? 

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘প্রাইমাল থেরাপি’। এর মূল ধারণা হলো, আমাদের অবদমিত আবেগগুলো শরীরের ভেতরে একটি চাপ তৈরি করে। চিৎকার সেই চাপের জন্য একটি ‘রিলিজ ভালভ’ হিসেবে কাজ করে। 

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একা চিৎকার করার চেয়ে একজন প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের উপস্থিতিতে এটি করা বেশি নিরাপদ। থেরাপিস্ট আপনাকে আপনার পুরনো ট্রমাগুলো পুনরায় অনুভব করতে এবং চিৎকারের মাধ্যমে সেগুলো ভেঙে ফেলতে সাহায্য করেন। 

বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও উপকারিতা 

যদিও স্ক্রিম থেরাপির দীর্ঘমেয়াদী উপকারিতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক আছে, তবে এর কিছু তাৎক্ষণিক ইতিবাচক দিক লক্ষ্য করা যায়। যেমন-

আবেগীয় মুক্তি: এটি জমানো আবেগকে তীব্রভাবে প্রকাশের সুযোগ দেয়, যা অনেক সময় শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। 

মানসিক চাপ হ্রাস: শরীরের পেশিতে জমে থাকা উত্তেজনা চিৎকারের মাধ্যমে প্রশমিত হয়। 

আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি: নিজের আবেগের গভীরতা এবং ট্রিগারগুলো বুঝতে সাহায্য করে।

ক্ষমতায়ন: যারা শৈশবে চুপ থাকতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের জন্য চিৎকার করা নিজের কণ্ঠস্বর ফিরে পাওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। 

ঝুঁকি ও সতর্কতা 

সবকিছুর মতোই এর কিছু সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি রয়েছে:

১. ভোকাল কর্ডের ক্ষতি: খুব ঘনঘন বা ভুল পদ্ধতিতে চিৎকার করলে কণ্ঠনালীর স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

২. আগ্রাসন বৃদ্ধি: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রাগের মাথায় চিৎকার করলে রাগ না কমে বরং তা আরও বেড়ে যেতে পারে।

৩. অন্যদের জন্য ভীতিকর: প্রেক্ষাপট ছাড়া চিৎকার আশেপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। 

নিরাপদভাবে ‘স্ক্রিম থেরাপি’ অনুশীলনের ধাপ 

আপনি যদি নিজের মানসিক প্রশান্তির জন্য এটি চেষ্টা করতে চান, তবে বিশেষজ্ঞরা নিচের ধাপগুলো অনুসরণের পরামর্শ দেন:

উদ্দেশ্য ঠিক করুন: আপনি কি রাগ ঝাড়তে চান নাকি দুশ্চিন্তা কমাতে চান? শুরুতেই তা মনে মনে স্থির করে নিন। 

উপযুক্ত স্থান নির্বাচন: নির্জন কোনো জায়গা বা শব্দ নিরোধক ঘর বেছে নিন যাতে অন্য কেউ আতঙ্কিত না হয়। প্রয়োজনে বালিশের ভেতরে মুখ দিয়ে চিৎকার করতে পারেন। 

শারীরিক প্রস্তুতি: শুরুর আগে গভীর শ্বাস নিন এবং শরীর শিথিল করুন। সরাসরি চিৎকার শুরু না করে গুনগুন করে গান গেয়ে বা হামিং করে কণ্ঠনালীকে প্রস্তুত করে নিন।

পরবর্তী শান্ত প্রক্রিয়া: চিৎকার শেষে হঠাৎ করে স্বাভাবিক কাজে ফিরবেন না। কিছুক্ষণ ধ্যান করুন, ডায়েরি লিখুন বা হালকা হাঁটাহাঁটি করে মনকে শান্ত করুন।

বিশেষজ্ঞের অভিমত:

স্ক্রিম থেরাপি কখনোই প্রথাগত ‘টক থেরাপি’র বিকল্প নয়। এটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও মনের গভীরের ক্ষত সারাতে পেশাদার মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যদি চিৎকার করার পর আপনি আরও বেশি বিপর্যস্ত বোধ করেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে এই অনুশীলন বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত। 

সূত্র: কাম অবলম্বনে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়