শিরোনাম
◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ◈ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু, প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে ◈ পাঁচ সদস্যের সভাপতি মন্ডলীর নাম ঘোষণা ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ, মে‌সি‌কে ছাড়াই হন্ডুরাসকে ২-০ গো‌লে হারালো আর্জেন্টিনা  ◈ একটি শিশুর ওপর নির্যাতন পুরো সমাজকে আহত করে: রামিসার রায়ে আদালতের বার্তা ◈ এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে: তারেক রহমান ◈ বালুবোঝাই ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত : ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৫২ সকাল
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সন্তানকে গুড টাচ–ব্যাড টাচ শেখানোর উপযুক্ত বয়স কখন?

অনেক অভিভাবকই ভাবেন - এই বিষয়টি কি খুব ছোট বয়সে শেখানো ঠিক হবে? না কি একটু বড় হলে বলাই ভালো? অস্বস্তি, লজ্জা বা `এখনো সময় হয়নি’ ভেবে বিষয়টি এড়িয়ে যান অনেকে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, শিশুর নিরাপত্তার জন্য এই শিক্ষাটি যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়, ততই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২ থেকে ৩ বছর বয়স থেকেই শিশুদের খুব সহজ ভাষায় শরীর সম্পর্কে ধারণা দেওয়া শুরু করা উচিত। এই বয়সেই তারা নিজের শরীর চেনা, ভালো লাগা-খারাপ লাগার অনুভূতি বোঝা শুরু করে। তাই এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময় ভিত্তি তৈরি করার।

তবে শেখানোর ধরন বয়স অনুযায়ী বদলাতে হবে -

২–৩ বছর: শরীর সম্পর্কে পরিচিতি

এই বয়সে শিশুকে তার শরীরের বিভিন্ন অংশের সঠিক নাম শেখান। প্রাইভেট পার্ট বা গোপনাঙ্গ কী, সেটাও সহজভাবে বোঝান - যে অংশগুলো অন্য কেউ ছুঁতে পারবে না, শুধু মা-বাবা বা যত্ন নেওয়ার সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া।

৪–৫ বছর: ভালো ও খারাপ স্পর্শের পার্থক্য

শিশুকে বোঝান - কোন স্পর্শে সে নিরাপদ ও স্বস্তি বোধ করে (যেমন মা-বাবার আদর), আর কোন স্পর্শে অস্বস্তি বা ভয় লাগে। তাকে বলুন, খারাপ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে না বলা তার অধিকার।

৬ বছর ও তার বেশি: আত্মরক্ষার কৌশল

এই বয়সে শিশুদের শেখানো যায় - কেউ গোপন রাখতে বললেও সেটি মানতে হবে না। সন্দেহজনক কিছু ঘটলে বিশ্বস্ত বড়দের জানানো জরুরি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু ছোটবেলা থেকেই নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন থাকে, তারা অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। ইউনিসেফ ও বিভিন্ন শিশু সুরক্ষা সংস্থার মতে, বয়সোপযোগী ভাষায় এই শিক্ষা দেওয়া হলে তা শিশুর মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না, বরং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই শিক্ষা একদিনে শেষ করার বিষয় নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। নিয়মিত কথা বলা, গল্পের মাধ্যমে বোঝানো এবং খোলামেলা পরিবেশ তৈরি করা - এসবের মাধ্যমেই শিশু বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে শেখে।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, সন্তানকে ভয় দেখিয়ে নয়, নিরাপত্তার বোধ তৈরি করেই এই শিক্ষা দিতে হবে। যাতে সে বুঝতে পারে - তার শরীর তার নিজের, এবং সবসময় নিরাপদ থাকা তার অধিকার।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়