শিরোনাম
◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরকে হারালো ব্রাজিল ◈ ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর: রেমিট্যান্স হিসেবে গণ্য হবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয়, থাকছে না উৎসে কর ◈ ১৬০ অর্থনীতিবিদের জরিপ: স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স ◈ টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি দূর করতে হবে ◈ ফারাক্কায় আপত্তি নেই, তবে পদ্মা ব্যারেজে কেন ভারতের অস্বস্তি? ◈ সীমান্তে একের পর এক পুশইন চেষ্টা, কী বার্তা দিতে চাইছে ভারত? ◈ বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীনের, প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে চুক্তি ◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা!

প্রকাশিত : ০৫ জুন, ২০২৬, ১০:৩৯ দুপুর
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নতুন সতর্কতায় ‘সুপার এল নিনো’, কোন সংকটে পড়তে পারে বিশ্ব?

দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশের ৪৮টি জেলায় মৃদু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে আবহাওয়ার বিশেষ অবস্থা ‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে নতুন সতর্কতা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলেছেন, এ মুহূর্তে বিশ্বব্যাপী এল নিনোর তাণ্ডব চালানোর সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপার এল নিনোর প্রভাবে দেশে তাপপ্রবাহের সময় এবং তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে যেখানে বছরে দুই একবার চার পাঁচদিন ব্যাপী তাপপ্রবাহ বয়ে যেত, এখন বছরে চার-পাঁচটি কিংবা তার থেকেও বেশি তাপপ্রবাহ বয়ে যায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত কয়েক বছর ধরে রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু এল নিনো যদি সক্রিয় হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

সুপার এল নিনোর কারণে বিশ্বের অনেক দেশ তীব্র দাবদাহের কবলে পড়বে এবং অনেক দেশে হবে অস্বাভাবিক বৃষ্টি।

সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীরা তথ্য বিশ্লেষণ করে বলেছেন- আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সুপার এল নিনো আঘাত হানবে। আর আগামী নভেম্বর পর্যন্ত এটির প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এল নিনো নিয়ে বলেন, বিজ্ঞান খুবই স্পষ্ট। ৯০ শতাংশ নিশ্চিত আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আমাদের দোরগোড়ায় আসছে এল নিনো। বিশ্বকে এটিকে জরুরি আবহাওয়া সতর্কতা হিসেবে নিতে হবে।

তিনি বলেন, উষ্ণ বিশ্বের আগুনে আরও তেল ঢালবে এল নিনো। এটির প্রভাব হবে আরও ভয়াবহ। এল নিনো আরও সামনে এগিয়ে যাবে। সীমান্ত অতিক্রম করবে আরও বেশি ধ্বংসাত্মক গতি নিয়ে।

তিনি আরও বলেন, এই সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান হলো পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে জলবায়ু সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া—যার মধ্যে রয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের রক্ষা করা এবং সবার জন্য আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থার সুবিধা নিশ্চিত করা।

এল নিনোর সম্ভাব্য ভয়াবহতা নিয়ে এখন থেকেই সতর্ক করা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলেছেন, এটির প্রভাবে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের যোগান কমে যাওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। বিশ্ব তীব্র খড়া ও অস্বাভাবিক বন্যার কবলে পড়তে পারে।

এদিকে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে বিশ্বে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০২৬ সালের শেষভাগে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো জোরালো রূপ নিতে পারে, যা এশিয়ায় তীব্র খরা এবং আমেরিকায় অতিবৃষ্টি বয়ে আনবে। 

স্যাটেলাইট ডেটা সংস্থা স্কাইফাই জানিয়েছে, তাদের হাই-রেজল্যুশন ইমেজারিতে এরই মধ্যে এশিয়ার বিভিন্ন অংশে খরার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

ভারতে প্রায় ৭০ শতাংশ বৃষ্টিপাত নির্ভর করে চার মাসের বর্ষা মৌসুমের ওপর। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর সম্প্রতি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আরও কমিয়ে দিয়েছে।

তীব্র গরমের কারণে গ্রীষ্মকালীন ফসল (ধান, সয়াবিন, ডাল, আখ ও ভুট্টা) রোপণ বিলম্বিত হচ্ছে। একই পরিস্থিতি থাইল্যান্ড ও ফিলিপিন্সেও, যেখানে জুন-জুলাইয়ে প্রধান ধান রোপণ করা হয়। থাইল্যান্ডের কৃষকরা পানির অভাবে দ্বিতীয়বার ধান চাষ করা নিয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপসহ বেশ কিছু অঞ্চলে টানা ১০ দিনের বেশি কোনো বৃষ্টি হয়নি।

বিশ্বের মোট চাল রপ্তানির ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে ভারত।

সূত্র: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়