শিরোনাম
◈ টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি দূর করতে হবে ◈ ফারাক্কায় আপত্তি নেই, তবে পদ্মা ব্যারেজে কেন ভারতের অস্বস্তি? ◈ সীমান্তে একের পর এক পুশইন চেষ্টা, কী বার্তা দিতে চাইছে ভারত? ◈ বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীনের, প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে চুক্তি ◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা! ◈ আসিফ আকবর আটক হননি, গুজব উড়িয়ে দিলেন নিজেই! ◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা

প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৬, ০৬:১৩ বিকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঈদে বেশি মাংস নয়, গুরুত্ব দিন সুষম খাদ্যাভ্যাসে

কুরবানির ঈদ মানেই আনন্দ, অতিথি আপ্যায়ন আর বাহারি রকমের মাংসের রান্না। গরু বা খাসির মাংসের নানা পদ ছাড়া যেন  ঈদের উৎসব পূর্ণতা পায় না। 

তবে আনন্দের এই সময়ে অনিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়া অনেকের জন্য ডেকে আনে গ্যাস্ট্রিক, বদহজম, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকি। 

 ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে হলে খাবারের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও পরিমিতিবোধ সবচেয়ে জরুরি।

 একসঙ্গে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া শরীরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার বা হৃদরোগ রয়েছে, তাদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ঈদের সময় অনেকেই সকাল, দুপুর ও রাতে মাংসজাত খাবার খান। এতে শরীরে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরল জমে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মাংস না খাওয়াই ভালো।

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ৭৫ থেকে ১২০ গ্রাম রান্না করা মাংস যথেষ্ট। মাংসের পাশাপাশি শাকসবজি, সালাদ ও পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে।

ঈদের সময়ে অতিরিক্ত তেল-মসলা ও ভাজাপোড়া খাবার হজমের সমস্যা বাড়ায়। তাই রান্নায় তেল কম ব্যবহার এবং নিয়মিত হাঁটাচলা জরুরি।

সুস্থ থাকতে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি

 ১। পরিমিত মাংস খেতে হবে 

এক বেলায় অতিরিক্ত মাংস না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাওয়া ভালো। একই দিনে গরু ও খাসির মাংস দুটোই বেশি খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।

২। চর্বিযুক্ত অংশ কম খেতে হবে

মাংস রান্নার আগে দৃশ্যমান চর্বি ফেলে দিলে ফ্যাটের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। ভুঁড়ি, কলিজা ও মগজের মতো খাবার সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

৩। খাবারের তালিকায় সবজি ও সালাদ রাখুন

শুধু মাংস নয়, প্রতিদিনের খাবারে শসা, টমেটো, গাজর, শাকসবজি ও ডাল রাখুন। এতে হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে। 

৪। পর্যাপ্ত পানি পান করুন

একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দৈনিক আড়াই থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। 

অনেকেই ঈদের ব্যস্ততায় পানি কম পান করেন। অথচ অতিরিক্ত প্রোটিনজাত খাবার খেলে শরীরে পানির চাহিদা বাড়ে। 

৫। কোমল পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে 

অতিরিক্ত সফট ড্রিংক বা মিষ্টিজাত পানীয় ওজন বৃদ্ধি ও রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে। এর পরিবর্তে লেবুর শরবত, ডাবের পানি বা এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি খেতে হবে

৬। হাঁটাচলা করুন

খাওয়ার পর সারাদিন বসে না থেকে হালকা হাঁটাচলা করলে খাবার হজম সহজ হয়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। 

শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি সতর্কতা

শিশুদের অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা ঝাল মাংস না দেওয়াই ভালো। একইভাবে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের খাবারে লবণ ও তেলের পরিমাণ কম রাখতে হবে। যাদের কিডনি বা হৃদরোগ আছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাদ্যতালিকা ঠিক করা উচিত।

রান্নার ক্ষেত্রেও দরকার সচেতনতা

অতিরিক্ত  মসলা ও তেলযুক্ত রান্নার বদলে ঝোল বা গ্রিল করা খাবার তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর। বারবার গরম করা মাংসও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ঈদের আনন্দ তখনই পরিপূর্ণ হয়, যখন সবাই সুস্থভাবে উৎসব উপভোগ করতে পারেন। তাই কুরবানির ঈদে মাংস খাওয়া হোক আনন্দের, কিন্তু তা যেন না হয় অসুস্থতার কারণ। পরিমিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাসই পারে ঈদের আনন্দকে সত্যিকার অর্থে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়