শিরোনাম
◈ বিশ্বকাপের আগে নতুন বিতর্ক, ইরানের ১৪ কর্মকর্তা ও স্টাফকে ভিসা দিলো না যুক্তরাষ্ট্র ◈ ইরানে ইসরাইলের পালটা হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা ◈ ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ফিলিপাইন, সুনামির ঝুঁকিতে উপকূলীয় এলাকা ◈ পুশইন ঠেকাতে রাত জেগে সীমান্ত পাহারায় ৫ শতাধিক বাংলাদেশি ◈ ইরানের বিরুদ্ধে পালটা অভিযানে না যেতে নেতানিয়াহুকে অনুরোধ করবেন ট্রাম্প ◈ মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের ◈ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য

প্রকাশিত : ০৩ মে, ২০২৬, ০১:১৪ রাত
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কি লেখা ছিল এপস্টেইনের চিরকুটে, কেন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল?

আমেরিকান অর্থদাতা এবং শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের হাতে লেখা ‘সুইসাইড নোট বা আত্মহত্যার চিরকুট’ খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন তার কারাসঙ্গী। নোটটি প্রায় সাত বছর ধরে ওই কারাসঙ্গীর মামলার সিল করা নথির মধ্যে লুকানো ছিল। 

২০১৯ সালের আগস্টে কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যুর ঠিক আগে এই চিরকুটটি লেখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য উঠে এসেছে।

চারটি হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত আসামি নিকোলাস টরটাগ্লিওনে ও এপস্টেইন একসঙ্গে কারাগারে ছিলেন। টরটাগ্লিওনে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, সুইসাইড নোটটি আইনি কাজে ব্যবহৃত হলুদ রঙের একটি প্যাডে লেখা ছিল এবং একটি বইয়ের ভেতরে ভাজ করে রাখা ছিল।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইন প্রথমবার আত্মহত্যার চেষ্টা করার কয়েক দিন পর টার্টাগ্লিওন তাদের সেলে থাকা একটি গ্রাফিক নোভেলের ভেতর চিরকুটটি পান।

এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের কারাগারে এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

কারা কর্তৃপকক্ষ ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনসের এক প্রতিবেদনে মতে, ২৩ জুলাই এপস্টেইনকে তার সেলে গলায় নিজের তৈরি ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি সেলের মেঝেতে ‘ভ্রূণের মতো’ পড়ে ছিলেন, গায়ে টি-শার্ট ও বক্সার ছিল। তিনি জোরে শ্বাস নিচ্ছিলেন এবং নাক ডাকছিলেন। তার গলা লাল হয়ে ছিল, তবে কোনো কাটা দাগ ছিল না।

পরে তার গলার নিচে গোলাকার লালচে দাগ এবং সামনে ঘর্ষণের চিহ্ন পাওয়া যায়।
প্রায় ছয় বছর পর গত বছর এক পডকাস্টে টরটাগ্লিওনে প্রথম এই কথিত সুইসাইড নোটের কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নোটটিতে এমন কিছু লেখা ছিল: ‘এফবিআই আমাকে কয়েক মাস ধরে তদন্ত করেছে, কিন্তু কিছুই পায়নি। তুমি চাও আমি এ নিয়ে কাঁদি?’

হলুদ আইনি প্যাড থেকে ছেঁড়া কাগজের ওই চিরকুটে একটি হাসির চিহ্ন এঁকে লেখা ছিল— ‘বিদায় জানানোর সময় হয়েছে অর্থাৎ টাইম টু সে গুডবাই’।

নিকোলাস টারটাগ্লিওন চিরকুটটি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে না দিয়ে সরাসরি নিজের আইনজীবীদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

পরে তার আইনজীবী দাবি করেন যে তারা চিরকুটটির সত্যতা যাচাই করেছেন। যদিও কীভাবে তা করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
টার্টাগ্লিওন জানিয়েছিলেন, তিনি ভয় পেয়েছিলেন যে এপস্টেইন হয়তো তাকেই হামলার জন্য অভিযুক্ত করবেন। তাই তিনি এটি লুকিয়ে রাখেন।

তবে বর্তমানে একটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের বিচারকের নির্দেশে এই নোটটি সিলগালা বা গোপন অবস্থায় রাখা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন বিচার বিভাগ বা এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে তদন্তকারী দলগুলোর কাছে এখনো এই চিরকুটটি নেই এবং এটি জনসমক্ষে প্রকাশও করা হয়নি। 

নিউ ইয়র্ক টাইমস আদালতের কাছে নোটটি জনসমক্ষে প্রকাশের আবেদন করেছে। তাদের দাবি, এটি টার্টাগ্লিওনের মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হলেও এপস্টেইনের মৃত্যু এবং তার শেষ দিনগুলোতে মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই রহস্য দানা বেঁধেছিল। ম্যানহাটন কারেকশনাল সেন্টারে তার কারাজীবনের নিরাপত্তা ত্রুটি এবং তার গলায় লাল দাগ পাওয়া নিয়ে উঠেছিল নানা প্রশ্ন। সে সময় এপস্টেইনে অভিযোগ করেছিলেন, টার্টাগ্লিওন তার ওপর হামলা করেছেন। যদিও টার্টাগ্লিওন সব সময় এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রহস্যময় সুইসাইড নোটটি প্রকাশিত হলে এপস্টেইনের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোর ওপর নতুন করে আলো পড়তে পারে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়