শিরোনাম
◈ বিশ্বকাপের আগে নতুন বিতর্ক, ইরানের ১৪ কর্মকর্তা ও স্টাফকে ভিসা দিলো না যুক্তরাষ্ট্র ◈ ইরানে ইসরাইলের পালটা হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা ◈ ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ফিলিপাইন, সুনামির ঝুঁকিতে উপকূলীয় এলাকা ◈ পুশইন ঠেকাতে রাত জেগে সীমান্ত পাহারায় ৫ শতাধিক বাংলাদেশি ◈ ইরানের বিরুদ্ধে পালটা অভিযানে না যেতে নেতানিয়াহুকে অনুরোধ করবেন ট্রাম্প ◈ মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের ◈ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য

প্রকাশিত : ০২ মে, ২০২৬, ০৯:৫৪ সকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লৌহ আকরিক বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্যে ধাক্কা, বড় সাফল্য চীনের ইউয়ান

বিশ্ববাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একক আধিপত্য কমিয়ে নিজস্ব মুদ্রা ইউয়ান চালুর যে লক্ষ্য চীন নিয়েছে, তা এবার লৌহ আকরিক (আয়রন ওর) বাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘকাল ধরে এই খাতের বাণিজ্যে ডলারের যে একচ্ছত্র রাজত্ব ছিল, তাতে এখন ভাগ বসাল চীন।

বিশ্বের বৃহত্তম খনি কোম্পানি অস্ট্রেলিয়ার বিএইচপি-র সঙ্গে টানা সাত মাস ধরে চলা এক তিক্ত বিরোধের পর এই বিজয় অর্জন করল চীন।

ডলারের বদলে ইউয়ান

গত মাস পর্যন্ত বিএইচপি চীনের কাছে যে পরিমাণ লৌহ আকরিক বিক্রি করত, তার পুরো মূল্যই মার্কিন ডলারে পরিশোধ করা হতো। তবে এখন থেকে এর একটি নির্দিষ্ট অংশ ইউয়ানে লেনদেন হবে।

এই সাফল্যকে চীনের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক দশক ধরে দেশটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে পণ্য ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তিতে— ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা করে আসছে।

ডলার হটিয়ে ইউয়ান চালুর এই প্রবণতা বর্তমানে জ্বালানি তেলের বাজারেও স্পষ্ট। এমনকি আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর মধ্যেও চীনা মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা গত সপ্তাহে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

লন্ডনের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গোল্ডম্যান স্যাকস-সহ শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ব্যাংকগুলো চীনের অফশোর ডেট মার্কেটের (বিদেশি ঋণবাজার) প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। মূলত চীনের বাজারে সুদের হার কম থাকায় তারা সেদিকে ঝুঁকছে।

বিনিয়োগকারী এবং বড় কোম্পানিগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে – বিদ্যমান অনিশ্চয়তা এড়াতে ডলারের ওপর থেকে তাদের নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনছে।

লৌহ আকরিক বাণিজ্যে যা ঘটছে, তা আসলে বিশ্ব পণ্য বাজারে বড় পরিবর্তনের একটি ছোট উদাহরণ। ঐতিহাসিকভাবে প্রায় সব ধরনের পণ্যের লেনদেন ডলারে হয়ে আসলেও— চীন এখন বিশ্বের শীর্ষ পণ্য ও কাঁচামালের ভোক্তা দেশে পরিণত হয়েছে।

লৌহ আকরিক বাণিজ্যে এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে চীন সরকারের নবগঠিত পণ্য ক্রয়কারী সংস্থা 'চায়না মিনারেল রিসোর্সেস গ্রুপ' (সিএমআরজি)। চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য বিভিন্ন পণ্য বা কাঁচামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই সংস্থাটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।

তবে বিএইচপি শুরু থেকেই তাদের লৌহ আকরিক খনি বিভাগ এবং চীনের স্টিল মিলগুলোর মধ্যে সরাসরি বিক্রয় চুক্তিতে অটল থাকতে চেয়েছিল।

এই অনড় অবস্থানের ফলে শুরু হওয়া অচলাবস্থায় সিএমআরজি অস্ট্রেলিয়ার মাইনিং জায়ান্টটির ওপর ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে। এমনকি বিএইচপি-র নির্দিষ্ট কিছু পণ্য, যেমন 'জিম্বলবার' গ্রেডের লৌহ আকরিক আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে সংস্থাটি।

চলতি মাসের শুরুতে বিএইচপি-র বিদায়ী প্রধান নির্বাহী মাইক হেনরি এবং তার উত্তরসূরি ব্র্যান্ডন ক্রেগ বেইজিংয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর এই অচলাবস্থা কাটে। সেই বৈঠকে একটি নতুন বিক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে চীনের নিজস্ব মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এবং কিছুটা কম মূল্যে পণ্য সরবরাহের বিষয়টি মেনে নেওয়া হয়।

ফোরটেস্কু এবং রিও টিন্টো-র মতো অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য খনি কোম্পানিগুলো অনেক আগেই তাদের বিক্রির একটি অংশের জন্য চীনের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি মেনে নিয়েছিল। তবে বিএইচপি-র মতো বড় প্রতিষ্ঠানের এই নতি স্বীকার বিশ্ববাজারে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে যে, এখন লোহার এই মূল কাঁচামালের বাজার নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে।

লৌহ আকরিক বিক্রির প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল, কারণ এর গুণমান সব সময় এক থাকে না। তাই দাম মূলত একটি ইনডেক্স সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, যেখানে আকরিকের লোহার অংশ এবং অশুদ্ধির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে দাম কমানো বা বাড়ানো হয়।

এতদিন মার্কিন প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল -এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান 'প্লাটস'-এর সূচক এই বাজারে আধিপত্য করত। কিন্তু চীন এই মার্কিন সূচককে সরিয়ে তার বদলে নিজস্ব 'বেইজিং আয়রন ওর পোর্ট স্পট প্রাইস ইনডেক্স' চালু করার দাবি জানিয়ে আসছিল।

চীনের জন্য বিশেষ ছাড়

বিএইচপি চীনের নিজস্ব মূল্য সূচক মেনে নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির ইস্পাত কারখানাগুলোর জন্য অতিরিক্ত ১.৮ শতাংশ ছাড়ের সুবিধাও দিয়েছে।

চীনা সংবাদমাধ্যম 'কাইশিন' জানিয়েছে, বিতর্কিত জিম্বলবার আকরিক বর্তমানে একটি মিশ্র ফর্মুলায় বিক্রি হচ্ছে। এতে বেইজিং স্পট প্রাইস ইনডেক্স ব্যবহার করে ৫১ শতাংশ মূল্য ইউয়ানে নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও চূড়ান্ত লেনদেন মার্কিন ডলারে রূপান্তরিত করে সম্পন্ন হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে অন্যান্য কাঁচামাল বা পণ্যের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে, চীনের আরও বেশি আমদানি পণ্যের মূল্য ইউয়ানে নির্ধারণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়