শিরোনাম
◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরকে হারালো ব্রাজিল ◈ ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর: রেমিট্যান্স হিসেবে গণ্য হবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয়, থাকছে না উৎসে কর ◈ ১৬০ অর্থনীতিবিদের জরিপ: স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স ◈ টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি দূর করতে হবে ◈ ফারাক্কায় আপত্তি নেই, তবে পদ্মা ব্যারেজে কেন ভারতের অস্বস্তি? ◈ সীমান্তে একের পর এক পুশইন চেষ্টা, কী বার্তা দিতে চাইছে ভারত? ◈ বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীনের, প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে চুক্তি ◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা!

প্রকাশিত : ০১ মে, ২০২৬, ১১:৫৯ দুপুর
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

ইরান যুদ্ধ এরই মধ্যে ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে দাবি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

এপি: ইরান যুদ্ধ এরই মধ্যে ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তাদের যুক্তি, গত এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ফলে সংঘাতের সমাপ্তি ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের এই অভিনব ব্যাখ্যা দিয়ে আসলে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতে চাইছে হোয়াইট হাউস।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মার্কিন সিনেটে শুনানির সময় একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। 

তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে মূলত যুদ্ধের অবসান ঘটেছে। এই যুক্তিতে প্রশাসন দাবি করছে, ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ অনুযায়ী ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য কংগ্রেসের যে আনুষ্ঠানিক অনুমতির প্রয়োজন ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার আর দরকার নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আইনের ভাষায় বলতে গেলে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে শত্রুতা শুরু হয়েছিল তার অবসান ঘটেছে।’ 

তিনি আরও জানান, ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর থেকে মার্কিন বাহিনী ও ইরানের মধ্যে আর কোনো পালটাপালটি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।

আইনি মারপ্যাঁচে হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী, কোনো দেশে সামরিক অভিযান শুরুর ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে অথবা লড়াই বন্ধ করতে হবে। শুক্রবার (১ মে) হচ্ছে ট্রাম্পের সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার দিন। কিন্তু তার প্রশাসন দাবি করছে, যেহেতু যুদ্ধবিরতি চলছে, তাই যুদ্ধের সেই ‘ঘড়ি’ এখন বন্ধ।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন মুখে যুদ্ধ সমাপ্তির কথা বললেও পরিস্থিতি এখনো থমথমে। ইরান এখনো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলো যাতে সাগরে বের হতে না পারে, সেজন্য মার্কিন নৌবাহিনী সেখানে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

বিরোধীদের ক্ষোভ

ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্যাখ্যাকে ‘নজিরবিহীন’ ও ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছেন অনেক ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। মেইন অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেন, ‘কংগ্রেসের অনুমোদনের সময়সীমা কোনো পরামর্শ নয়, এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো সামরিক অভিযানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কৌশল থাকতে হবে।’

সিনেটর টিম কেইন বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে যুক্তি দিয়েছেন, তার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ব্রেনান সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন ইয়ান এব্রাইটও এই যুক্তির কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশনের কোথাও এমন কথা বলা নেই যে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ৬০ দিনের সেই সময়সীমা স্থগিত রাখা যাবে।’

নতুন অভিযানের ছক?

এদিকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা রিচার্ড গোল্ডবার্গ ট্রাম্প প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছেন, এই সংকট কাটাতে নতুন নামে অভিযান চালাতে। তিনি নতুন অভিযানের নাম প্রস্তাব করেছেন ‘অপারেশন এপিক প্যাসেজ’, যা হবে সরাসরি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র দ্বিতীয় পর্ব।

গোল্ডবার্গের মতে, একে একটি ‘আত্মরক্ষামূলক মিশন’ হিসেবে চালিয়ে নিলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই হরমুজ প্রণালিতে অভিযান অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়