শিরোনাম
◈ একটি শিশুর ওপর নির্যাতন পুরো সমাজকে আহত করে: রামিসার রায়ে আদালতের বার্তা ◈ এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে: তারেক রহমান ◈ বালুবোঝাই ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ◈ ভালো ব্যাংকও রক্ষা পায়নি, ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টির অবস্থার অবনতি, বেড়েই চলেছে খেলাপি ঋণের পাহাড় ◈ ভারতে ডেটা সেন্টার খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী রবিন খুদা! ◈ জেল থেকে ফিরে নানা আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী, সরগরম চুনকা কুঠির ◈ মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নাকি আইন হাতে তুলে নেওয়া? ভাইরাল গণপিটুনির ঘটনায় বিতর্ক ◈ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সেই ‘ডলার’কে নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন রামিসার বাবা ◈ আদালতের ঐতিহাসিক রায়: ১৬ দিনে বিচার সম্পন্ন, রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৩৪ বিকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন হিসাব কষছে যুক্তরাষ্ট্র, নিশানায় কি শীর্ষ নেতারা?

এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশ্লেষণ করছে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি দুই মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধকে একতরফাভাবে ‘বিজয়’ ঘোষণা করেন, তাহলে ইরান কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। 

একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। উদ্দেশ্য হলো—যুদ্ধ হঠাৎ কমিয়ে আনা বা ট্রাম্পের সম্ভাব্য অবস্থান পরিবর্তনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব বোঝা।

বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, যুদ্ধ দ্রুত থামানো গেলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে এর ফলে ইরান আরও শক্ত অবস্থানে থেকে পুনরায় নিজেদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠন করতে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করতে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্য বিভিন্ন রূপ নিয়ে আগেও গোয়েন্দা বিশ্লেষণ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র বিজয় ঘোষণা করে সেনা প্রত্যাহার করলে ইরান সেটিকে নিজেদের কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখবে, আর সেনা উপস্থিতি বজায় থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হবে। 

জনমত ও রাজনৈতিক চাপ 

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বড় অংশই অসন্তুষ্ট। মাত্র ২৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন এই সামরিক অভিযান খরচের তুলনায় যথার্থ, আর ২৫ শতাংশ মনে করেন এটি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি রিপাবলিকান পার্টির জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। 

হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক প্রভাব 

যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। এই পথে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। ফলে তেল ও জ্বালানি দামের ওপরও প্রভাব পড়ছে। 

সামরিক বিকল্প এখনো আলোচনায়

সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনো বিভিন্ন সামরিক বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে বিমান হামলার বিষয়ও আলোচনায় আছে।

তবে একই সঙ্গে একাধিক সূত্র বলছে, ইরানের মূল ভূখণ্ডে স্থল আক্রমণের মতো বড় ধরনের অভিযান এখন আগের তুলনায় অনেক কম সম্ভাব্য হয়ে উঠেছে।

একজন হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্টের ওপর বর্তমানে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার রাজনৈতিক চাপ অনেক বেশি। 

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি 

সূত্রগুলো আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ের যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম পুনরুদ্ধার ও পুনর্বিন্যাসের সুযোগ পেয়েছে। এতে ভবিষ্যতে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক ব্যয় ও ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

ফলে বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনো অনেক দূরে বলে মনে করা হচ্ছে। 

সূত্র: সামা টিভি 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়