শিরোনাম
◈ ভালো ব্যাংকও রক্ষা পায়নি, ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টির অবস্থার অবনতি, বেড়েই চলেছে খেলাপি ঋণের পাহাড় ◈ ভারতে ডেটা সেন্টার খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী রবিন খুদা! ◈ জেল থেকে ফিরে নানা আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী, সরগরম চুনকা কুঠির ◈ মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নাকি আইন হাতে তুলে নেওয়া? ভাইরাল গণপিটুনির ঘটনায় বিতর্ক ◈ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সেই ‘ডলার’কে নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন রামিসার বাবা ◈ আদালতের ঐতিহাসিক রায়: ১৬ দিনে বিচার সম্পন্ন, রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরকে হারালো ব্রাজিল ◈ ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর: রেমিট্যান্স হিসেবে গণ্য হবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয়, থাকছে না উৎসে কর ◈ ১৬০ অর্থনীতিবিদের জরিপ: স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৫৪ রাত
আপডেট : ২৮ মে, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

পাকিস্তান-আফগানিস্তান ভয়াবহ যুদ্ধের শঙ্কা, মধ্যস্থতার চেষ্টা চীনের

আফগানিস্তানের উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সায়েদ জামালউদ্দিন আফগানি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাক হামলায়- এর ভবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া হামলায় ৩০ জন শিক্ষার্থী ও প্রফেসর আহত হয়েছেন।

আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুনার প্রদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও মর্টার হামলা চালিয়েছে পাক বাহিনী। এতে নিহত হয়েছে অন্তত সাতজন, আহত ৮০ জনের বেশি। তালেবানের ডেপুটি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেছেন, প্রাদেশিক রাজধানী আসাদাবাদসহ এর আশেপাশের জেলাতে পাকিস্তানি বাহিনী হামলা চালিয়েছে।

ফিতরাত এই হামলাকে বেসামরিক এবং একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষমাহীন যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত করতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সংকট নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। খবর আলজাজিরার

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিজস্ব চ্যানেলে ইসলামাবাদ ও কাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন সবসময় সংলাপ ও আলোচনার পক্ষে।

এদিকে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পেছনে থাকা উত্তেজনার ইতিহাসও নতুন করে সামনে এসেছে। গত বছরের অক্টোবরে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দোহায় আলোচনার পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তার আগে সীমান্তজুড়ে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এবং পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, সীমান্তপারের হামলা বাড়ানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দমন করতে কাবুল কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে আফগানিস্তান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বরং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আইএসআইএল–ঘনিষ্ঠ যোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে।

সাম্প্রতিক লড়াইয়ে দুই পক্ষের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ১৩৩ তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছে। অন্যদিকে তালেবান সরকার বলছে, তাদের আটজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে, তবে পাল্টা হামলায় ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১৯টি সামরিক পোস্ট দখলের দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, তাদের দুই নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন।

আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় পরিসরে অভিযান চালানো হয়, যা প্রায় চার ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পর মধ্যরাতে অভিযান বন্ধ করা হয়।

পাকিস্তানের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েকটি আত্মঘাতী হামলা ও নিরাপত্তা চৌকিতে আক্রমণের জেরে তারা আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছে। কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান বলছে, এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং তারা পাল্টা জবাব দিয়েছে।

সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ তোরখাম ক্রসিংয়ের কাছেও গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এদিকে সামরিক শক্তির দিক থেকে দুই দেশের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। পাকিস্তানের সেনাসদস্য প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার, রয়েছে শত শত যুদ্ধবিমান, হাজারো সাঁজোয়া যান এবং পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। বিপরীতে আফগানিস্তানের বিমান শক্তি সীমিত এবং অধিকাংশ সামরিক সরঞ্জাম পুরোনো।

সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান ও রাশিয়াও দ্রুত সীমান্ত হামলা বন্ধ করে সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর তাগিদ দিয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়