শিরোনাম
◈ বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেলে টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা ◈ ব্যাংকিং খাতে নতুন শর্ত: নতুন ও পুরোনো হিসাবেও লাগবে টিআইএন, আসছে বাজেটে প্রস্তাব ◈ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ◈ ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট ◈ প্রতি মাসেই কিছু কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আমিই তো ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করব : শিল্পোদ্যোক্তা একে আজাদ (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:০৬ বিকাল
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়ছে, সম্ভাব্য হামলার নতুন কৌশল ফাঁস

ইরানের সঙ্গে বর্তমান যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতাগুলোতে আঘাত হানার লক্ষ্যে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা নতুন পরিকল্পনা তৈরি করছেন। এ বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্র এমনটাই জানিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো বলেছে, এই পরিকল্পনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ‘ডাইনামিক টার্গেটিং’ বা গতিশীল লক্ষ্যবস্তুকে। অর্থাৎ, হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরের আশপাশে ইরানের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে দ্রুত পরিবর্তনশীল হামলার কথা ভাবা হচ্ছে। সম্ভাব্য এই হামলায় লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ছোট দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌকা, মাইন পাতা জাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ, যেগুলোর মাধ্যমে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো কার্যত বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছে।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফ থেকে মার্কিন অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রচেষ্টা হুমকির মুখে পড়েছে। ৭ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও জ্বালানির বাজারে এখনো বড় ধরনের কোনো স্বস্তি আসেনি।

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের নৌবাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করলেও প্রথম এক মাসের বোমাবর্ষণের বড় অংশ ছিল প্রণালি থেকে দূরের লক্ষ্যবস্তুতে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে, আরও গভীরে আঘাত হানার সুযোগ পেয়েছিল। তবে নতুন পরিকল্পনায় কৌশলগত জলপথ ঘিরে আরও নিরবচ্ছিন্ন বোমা হামলার কথা বলা হয়েছে।

বিভিন্ন মার্কিন প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশ এখনো অক্ষত। পাশাপাশি, ইরানের কাছে অনেক ছোট নৌকা রয়েছে, যেগুলো জাহাজে হামলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই বিষয়গুলো প্রণালি খুলতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের আগের হুমকি অনুযায়ী সামরিক-বেসামরিক দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তু—যেমন জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাতেও পারে, যাতে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করা যায়। ট্রাম্প বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও যুদ্ধ শুরু করবে। তবে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন, অবকাঠামোতে হামলা এই সংঘাতকে বিপজ্জনকভাবে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা আরেক বিকল্প হিসেবে ইরানের সামরিক নেতা ও শাসনব্যবস্থার ভেতরে আলোচনায় ‘বাধাদানকারী’ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করার পরিকল্পনাও করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, তাঁরা আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন আমহাদ ভাহিদি। তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে আমরা ভবিষ্যৎ বা সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করি না। প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন বিকল্প দেওয়া হচ্ছে এবং সব বিকল্পই খোলা রয়েছে।’ সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন করে মার্কিন হামলা হলে ইরানের অবশিষ্ট সামরিক সক্ষমতা—ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার ও উৎপাদন স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এগুলো হয় প্রথম দফার হামলায় ধ্বংস হয়নি, নয়তো যুদ্ধবিরতির সময় নতুন কৌশলগত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাম্প যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে অনিচ্ছুক এবং কূটনৈতিক সমাধান চান। তবে একাধিক সূত্র বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি ‘অনির্দিষ্টকাল’ নয় এবং প্রয়োজনে মার্কিন বাহিনী আবার হামলা চালাতে প্রস্তুত। ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দেওয়ায় ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রথম দফার হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কার্যত এই জলপথ বন্ধ করে দিয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ১৯টি জাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরি। এ ছাড়া ভারত মহাসাগরে রয়েছে আরও সাতটি জাহাজ। ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোয় অবরোধ কার্যকর করা শুরু করে এবং গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ৩৩টি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। মার্কিন বাহিনী অন্তত তিনটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালিয়েছে, যার মধ্যে দুটি ভারত মহাসাগরে—পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় ২ হাজার মাইল দূরে। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে একটি ‘নিষিদ্ধ ও রাষ্ট্রহীন জাহাজে’ অভিযান চালানো হয়, যা ইরান থেকে তেল বহন করছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়