শিরোনাম
◈ টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি দূর করতে হবে ◈ ফারাক্কায় আপত্তি নেই, তবে পদ্মা ব্যারেজে কেন ভারতের অস্বস্তি? ◈ সীমান্তে একের পর এক পুশইন চেষ্টা, কী বার্তা দিতে চাইছে ভারত? ◈ বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীনের, প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে চুক্তি ◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা! ◈ আসিফ আকবর আটক হননি, গুজব উড়িয়ে দিলেন নিজেই! ◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৪ দুপুর
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

১৩ দিনেই নেপালকে পুরোপুরি বদলে দিলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ (ভিডিও)

নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ক্ষমতা ও বিলাসিতার ধারণাকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছেন দেশটিতে নতুন করে উঠে আসা এক তরুণ নেতা। মাত্র ৩৫ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ-এর নেতৃত্বে নেপাল এখন এক ভিন্ন পথে হাঁটছে। তার সাহসী ও জনবান্ধব সিদ্ধান্তগুলো পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক নতুন রাজনৈতিক মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে বালেন্দ্র শাহ এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। নেপালের প্রচলিত ভিআইপি সংস্কৃতিকে তিনি কার্যত বিদায় জানিয়েছেন। আগে যেখানে মন্ত্রী বা বড় নেতাদের যাতায়াতের সময় সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হতো, এখন সেই দৃশ্য বদলে গেছে। কাঠমান্ডুর ব্যস্ত সড়কে এখন আর নেতাদের জন্য সাধারণ মানুষকে অপেক্ষায় থাকতে হয় না। এমনকি ট্রাফিক পুলিশকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যেন প্রয়োজনে মন্ত্রী-এমপিদের গাড়ি থামিয়েও তল্লাশি করতে পারে।

বালেন্দ্র শাহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে তিনি নিজ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা জেন-জি নেতাদের নিয়োগও বাতিল করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা বাড়ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ। স্কুল ও কলেজে সকল প্রকার দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে যেন শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারে। স্বাস্থ্য খাতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের একটি বড় অংশের সেবা বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

নারীদের কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য 'ব্লু বাস' নামে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই বাসগুলোতে নারীরা বিনামূল্যে ভ্রমণ করতে পারছেন, যা নেপালি সমাজে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

কাজের গতি বাড়াতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। সরকারি সেবা যেন মানুষের কাছে সহজে ও দ্রুত পৌঁছায়, সেটিই বালেন্দ্র শাহ-এর মূল লক্ষ্য।

তরুণ বালেন্দ্র শাহ কেবল প্রতিশ্রুতি দিতেই নয়, দ্রুত বাস্তবায়নেও বিশ্বাস করেন। তার এই দৃঢ় নেতৃত্ব ও স্বচ্ছতা নেপালের সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে নেপাল এখন এক নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূতিকাগার হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়