শিরোনাম
◈ প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ◈ বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ম‌ধ্যে ওয়ান‌ডে সিরিজের প্রথম ম‌্যাচ আজ ◈ নতুন মোড় তনু হত্যা মামলায়, সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ◈ রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ককে হত্যা ◈ পদ্মার চর থেকে সবুজ জ্বালানি : পাবনায় দুই সোলার পার্কে ১৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগ হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে ◈ মঙ্গলবার ভো‌রে বিশ্বকাপের শেষ প্রস্তুতি ম‌্যা‌চে মিশ‌রের মু‌খোমু‌খি ব্রাজিল ◈ কোরআ‌নে চুমু দি‌য়ে যাত্রা শুরু, মেক্সিকোতে ইরানের বিশ্বকাপ দল‌কে উষ্ণ অভ্যর্থনা ◈ নাহিদ রানাকে নিয়ে আতং‌কে আ‌ছি, বললেন অ‌স্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ◈ মোবাইলের স্ক্রিন থেকে মাঠে ফিরুক শিশুরা, খেলার মাঠ ও পার্ক দখলমুক্তের ঘোষণা সংসদে ◈ ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই, তবু বলছি’— আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার তোপ

প্রকাশিত : ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৫৭ দুপুর
আপডেট : ০৮ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হরমুজে চীন-ইরান নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা, ভারতের সামনে নতুন ঝুঁকি

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চীনের সম্ভাব্য শক্তি প্রদর্শন আর দূরের আশঙ্কা নয়, বরং ধীরে ধীরে বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাড়তে থাকা উত্তেজনা হরমুজ প্রণালিকে দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমনটাই মনে করছেন ভারতীয় বিশ্লেষক সৌরভ মুখার্জি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি তেহরানকে হুমকি দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিয়েছেন। তিনি নিজ মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ইরানে মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে আর ব্রিজ ডে’, দুটোই একসঙ্গে। এর আগে, এর মতো কিছু আর কখনো দেখা যায়নি! ওই অভিশপ্ত প্রণালিটা খুলে দাও, পাগল হারামির দল! না হলে তোমরা নরকে বাস করবে—দেখতেই থাকো! আল্লাহ মহান।’

ইরানও পাল্টা কঠোর বার্তা দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘তোমার বেপরোয়া পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারকে জীবন্ত নরকে ঠেলে দিচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রভাবে এমন আচরণ করছেন। তবে তাৎক্ষণিক উত্তেজনার বাইরে, বিনিয়োগকারীদের নজর এখন বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের দিকে।

ভারতের আর্থিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মারসেলাস ইনভেস্টমেন্টসের সৌরভ মুখার্জি একটি কঠোর সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্লেষণ হলো, এখন চীন এগিয়ে আসবে। চীন ইরানের সঙ্গে জোট গড়বে এবং দুই দেশ মিলে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেবে। ফলে বিশ্বের বড় অংশের তেল সরবরাহ তাদের হাতে চলে যাবে, যা চীনের জন্য হবে এক বিশাল কৌশলগত সাফল্য।’

এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখার্জি বলেন, এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি উত্তেজনা নয়। তাঁর ভাষায়, ‘এটি তেল ও হরমুজ নিয়ে লড়াই। এটি কৌশলগত ক্ষমতার লড়াই। আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটি খুব দ্রুত শেষ হবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই সংঘর্ষ বহু মাস ধরে চলতে পারে।’

থিংকট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্টের আবদুল্লাহ বাবুদও এই ধারণা সমর্থন করেন। তাঁর মতে, উপসাগরীয় তেলের ওপর চীনের নির্ভরতা ধীরে ধীরে কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষায় রূপ নিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক হয়ে ওঠার পর, হরমুজ দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রবাহ নিশ্চিত করা বেইজিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চীন ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে কম দামে বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল আমদানি করছে। ফলে ইরান এখন তাদের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের কৌশলগত অংশীদারত্ব এই সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। এতে সস্তা তেলের বিনিময়ে বড় আকারের চীনা বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে এবং সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতার পথও খুলেছে।

একই সঙ্গে, উপসাগরীয় অঞ্চলে চীন তার উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ইরান ও পাকিস্তানে বন্দর নির্মাণে তারা বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি পাইপলাইন ও রেল নেটওয়ার্ক তৈরি করে বাণিজ্য সংযোগ জোরদার করছে এবং হরমুজ নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে।

বর্তমানে অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি এমনকি প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট খাতেও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোতে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে। যদিও এখনো যুক্তরাষ্ট্রের মতো আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রদানকারী হিসেবে চীনের সামরিক সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি, তবু বাবুদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত সম্পৃক্ততা এবং ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর ভারসাম্য রক্ষার কৌশল চীনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করছে।

ভারতের জন্য এর প্রভাব তাৎক্ষণিক এবং গুরুতর। মুখার্জি বলেন, ‘সংঘাতের আগেই ভারতীয় অর্থনীতি চাপে ছিল।’ তিনি ভারতীয় অর্থনীতির দুর্বল আয় প্রবৃদ্ধি ও ধীরগতির অর্থনৈতিক গতিশীলতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায় এখন, ‘আমাদের উচ্চমূল্যের তেলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে...দুর্বল রুপি এবং বাড়তে থাকা সুদের হার মোকাবিলা করতে হবে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অর্থনৈতিক চাপ পরিবার ও বাজারে আরও বাড়বে এবং ‘ভোগব্যয়ের গল্প এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।’ তিনি দুর্বল হোয়াইট-কলার চাকরি সৃষ্টি এবং বাড়তে থাকা ঋণের কথাও উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা অনিবার্য যে, ভোক্তা খাতে আয়ের পূর্বাভাস কমানো হবে এবং মূল্যায়ন ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে।’ তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়