শিরোনাম
◈ মাথাপিছু বরাদ্দ ৮ হাজার টাকা বাড়লেও বাড়ছে ঋণের দায় ◈ সস্তায় পেয়ে ৩৪ তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, পরে জানলেন বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই ◈ বিসিবির প‌রিচালকরা কে কোন ক‌মি‌টির দায়িত্ব পে‌লেন ◈ নির্বাচনের আগে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংক ১১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পুশইন ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে দেড়গুণ বাড়ানো হলো বিজিবি মোতায়েন ◈ ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, ব্যাংকটি বিএনপি সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ: অর্থমন্ত্রী ◈ কী থাকবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন চার বিষয়ের মধ্যে? ◈ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান, নাহিদ-মোসাদ্দেকের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় ◈ এবার বাতিল হ‌লো ইরানের জন্য বরাদ্দ থাকা ‌বিশ্বকা‌পের টিকিটও ◈ ইউপি নির্বাচনকে ‘টেস্ট কেস’ ভাবছে সরকার, আ.লীগ নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন আলোচনা

প্রকাশিত : ১০ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪০ দুপুর
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেবে না ইরান: আইআরজিসির হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। 

তেহরানের এই হুমকির প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করে, তবে দেশটিকে এ যাবৎকালের চেয়ে ২০ গুণ বেশি কঠোর হামলার মুখোমুখি হতে হবে। 

ট্রাম্পের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইরানের এমন কিছু স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে, যা একটি রাষ্ট্র হিসেবে তাদের পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব করে তুলবে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই পাল্টাপাল্টি হুমকিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধের ব্যাপক বিস্তৃতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত আইআরজিসি-র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে হবে তা কেবল তারাই নির্ধারণ করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ ‘শিগগির’ শেষ করার যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, তার জবাবে রেভল্যুশনারি গার্ডস বলেছে যে যুদ্ধের সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ এখন তাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে এবং মার্কিন বাহিনী এককভাবে এই সংঘাত থামাতে পারবে না। 

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের বিভিন্ন তেলের ডিপোতে চালানো ভয়াবহ হামলার কথা উল্লেখ করে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তাদের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা পুরো অঞ্চলের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করে দেবে। ইতিমধ্যে যুদ্ধের কারণে ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

ইরানের এই অনড় অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের ওপর মৃত্যু, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে।’ 

ট্রাম্পের এই বার্তাটি সরাসরি তেহরানের সামরিক নেতৃত্বের প্রতি একটি চরম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও তিনি তার পোস্টের শেষে উল্লেখ করেছেন যে তিনি আশা ও প্রার্থনা করেন যেন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে না পৌঁছায়, তবে সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ করা হয়, যা বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামতে পারে। ইরানের নতুন নেতৃত্বের অধীনে আইআরজিসি-র এই কঠোর অবস্থান এবং ট্রাম্পের ‘২০ গুণ শক্তিশালী’ হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে পারস্য উপসাগরে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বর্তমান এই সংকটের ফলে জ্বালানি তেলের মূল্য আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়