শিরোনাম
◈ ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিটে নতুন সুবিধা, শ্রমবাজার আধুনিক করছে আমিরাত ◈ অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানবান্ধব বাজেট দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ সরকারি-বিরোধী সব সংসদ সদস্যের এলাকায় সমান উন্নয়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ‌বো‌লিং‌য়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পাফর‌মে‌ন্সে আইসি‌সি র‌্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ নাহিদ রানার ◈ শিগগিরই সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শিল্পখাতের ধীরগতি সত্ত্বেও ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে বাংলাদেশ ◈ প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ◈ হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, ৮৭ দিনে প্রাণহানি ৬৩৯ ◈ ব্যাংকিংয়ে কড়াকড়ি, ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে নতুন চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৩১ সকাল
আপডেট : ২৪ মে, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরানে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন, বিপাকে আন্দোলনকারীরা

ইরানের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু মানুষ এখন নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও অবস্থান পরিবর্তনের পর বিক্ষোভকারীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।

৩৮ বছর বয়সি সিভাস শিরজাদ ছিলেন তেহরানের এক বিক্ষোভকারী। পরিবারের সতর্কতা উপেক্ষা করে তিনি আন্দোলনে যোগ দেন, কারণ ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু ৮ জানুয়ারি তেহরানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন শিরজাদ। তার ১২ বছর বয়সি সন্তান এখনো বাবার ফেরার অপেক্ষায়।

শিরজাদের এক আত্মীয় জানান, আন্দোলনে না যাওয়ার জন্য পরিবার থেকে বারবার নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের আশ্বাসের কথা উল্লেখ করে শিরজাদ বলেছিলেন, ‘আমাদের পাশে যুক্তরাষ্ট্র আছে।’ বাস্তবে সেই আশ্বাস আর কার্যকর হয়নি।

১৩ জানুয়ারি ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে লেখেন, ‘আন্দোলন চালিয়ে যান, সাহায্য যাচ্ছে।’ এতে আন্দোলনে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়। কিন্তু পরদিনই তার সুর পালটে যায়। তিনি জানান, ইরানের শাসকদের কাছ থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার আশ্বাস পেয়েছেন। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ থেকেও সরে আসে।

এই অবস্থানে হতাশ হয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। হত্যাকাণ্ড বন্ধের আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে দমন-পীড়ন থামেনি। তেহরানের রাজপথ ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যায়। অন্য শহরগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ চললেও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সেসব আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র জানা যাচ্ছে না।

এক মানবাধিকারকর্মীর মাধ্যমে দ্য গার্ডিয়ানকে পাঠানো বার্তায় তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, বর্তমানে ব্যাপক গণগ্রেফতার চলছে। তার আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক মনোযোগ কমে গেলেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু হবে।

তেহরান কর্তৃপক্ষ ২৬ বছর বয়সি এরফান সোলতানির ফাঁসি স্থগিত করে আপাতত নমনীয়তার ইঙ্গিত দিলেও বিদেশে অবস্থানরত বহু ইরানি বিক্ষোভকারী নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত এলহাম বলেন, এবার মনে হয়েছিল পরিস্থিতি বদলাবে। কিন্তু সেই আশা ভেঙে গেছে।

অনেক প্রবাসী ইরানি মনে করছেন, ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে শাসকরাই সুবিধা পেল। তারা আশা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকার পতনের আন্দোলনে সহায়তা করবে। কিন্তু তার বদলে ট্রাম্প শাসকদের সঙ্গে আলোচনার পথে হাঁটছেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কূটনীতির আহ্বান বিক্ষোভকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এলহাম বলেন, ট্রাম্প যদি শাসকদের টিকে থাকার সুযোগ দেন, তাহলে সাধারণ ইরানিদের ভরসা চিরতরে ভেঙে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলেও সেটি বিক্ষোভকারীদের জন্য কতটা সহায়ক হতো তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বরং এতে শাসকগোষ্ঠী আরও কঠোর হতে পারত এবং আন্দোলনকারীদের বিদেশি শক্তির দালাল হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ পেত।

তবুও ইরানের ভেতরে ও বাইরে কিছু মানুষ এখনো আশা করছেন, বিশ্ব একদিন তাদের পাশে দাঁড়াবে। কানাডায় বসবাসরত আজম জাংরাবি বলেন, ট্রাম্পের কথায় মানুষ আস্থা রেখেছে। কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত পদক্ষেপ না নিলে সেই বিশ্বাস ভেঙে যাবে, যা ইরানিরা আজীবন মনে রাখবে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি সামরিক বিকল্প বাতিল করেনি। জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, সব বিকল্প এখনো খোলা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মার্কিন রণতরীর যাত্রা ও ইসরাইলের প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘটনাও ইঙ্গিত দেয় ইরানে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়নি।

তবে আপাতত ইরানের আন্দোলনকারীরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। ইন্টারনেট বন্ধ, গ্রেফতার আর দমন-পীড়নের মধ্যে ফের রাজপথে নামা নিয়ে দ্বিধায় তারা। তেহরানের এক বাসিন্দা দ্য গার্ডিয়ানকে লিখেছেন, আন্দোলন থেমে গেছে। এখন সবাই দেখছে ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত কী করেন।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়