শিরোনাম
◈ নতুন মোড় তনু হত্যা মামলায়, সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ◈ রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ককে হত্যা ◈ পদ্মার চর থেকে সবুজ জ্বালানি : পাবনায় দুই সোলার পার্কে ১৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগ হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে ◈ মঙ্গলবার ভো‌রে বিশ্বকাপের শেষ প্রস্তুতি ম‌্যা‌চে মিশ‌রের মু‌খোমু‌খি ব্রাজিল ◈ কোরআ‌নে চুমু দি‌য়ে যাত্রা শুরু, মেক্সিকোতে ইরানের বিশ্বকাপ দল‌কে উষ্ণ অভ্যর্থনা ◈ নাহিদ রানাকে নিয়ে আতং‌কে আ‌ছি, বললেন অ‌স্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ◈ মোবাইলের স্ক্রিন থেকে মাঠে ফিরুক শিশুরা, খেলার মাঠ ও পার্ক দখলমুক্তের ঘোষণা সংসদে ◈ ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই, তবু বলছি’— আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার তোপ ◈ যুক্তরা‌স্ট্রে ইংল্যান্ড দ‌লের ক‌্যা‌ম্পের কা‌ছেই বন্দুক হামলা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বকাপের অ‌নেকগুলো দল ◈ এলডিসি উত্তরণের প্রভাব: ঝুঁকিতে সাড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:০২ সকাল
আপডেট : ১২ মে, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রতিযোগিতা: যুক্তরাষ্ট্রকে টক্কর দিচ্ছে চীনের জে-৩৬

চীন তার ষষ্ঠ প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান জে-৩৬ প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশ প্রতিযোগিতায় নতুন চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। সাম্প্রতিককালে নতুন প্রোটোটাইপ ফ্লাইট ও পরীক্ষামূলক প্রদর্শন চীনের দ্রুত অগ্রগতিকে প্রমাণ করছে। আধুনিক যুদ্ধবিমান নির্মাণ, গবেষণা ও উন্নয়নে সাধারণত বছরের পর বছর সময় লাগে, কিন্তু চীনের এই প্রকল্পে এ ধীরগতি দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে স্টেলথ প্রযুক্তির শীর্ষে থাকলেও, চীনের দ্রুত অগ্রগতি এবং পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন বেইজিংকে এই দৌড়ে প্রাধান্য অর্জনের দিকে এগিয়ে দিচ্ছে।

গত মাসে চীনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে দেখা গেছে, চীনের বৃহদাকৃতির তিন ইঞ্জিনবিশিষ্ট স্টেলথ যুদ্ধবিমান উড়ছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে এই বিমানের নাম প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকরা জে-৩৬ রেখেছেন। এটি বিমানটির দ্বিতীয় প্রোটোটাইপ, যা চেংদুর সামরিক-শিল্পাঞ্চলের কাছে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রথম প্রোটোটাইপ প্রদর্শনের মাত্র ১০ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় প্রোটোটাইপ তৈরি ও উড্ডয়ন করা হয়েছে। এর ফলে বোঝা যায়, চীন আধুনিক যুদ্ধবিমান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সময়কে পিছনে রাখছে না।

নতুন প্রোটোটাইপে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন দেখা যায়। এতে রয়েছে নতুন এয়ার ইনটেক ডিজাইন, পুনঃনকশাকৃত ল্যান্ডিং গিয়ার এবং নতুন এক্সহস্ট লেআউট। আগের ডেল্টা আকৃতির ডানা ও দুজন পাইলটের জন্য সাইড-বাই-সাইড ককপিট অক্ষুণœ রয়েছে। আগের সংস্করণে রিসেসড এক্সহস্ট ব্যবহার করা হয়েছিল ইঞ্জিন তাপপ্রবাহের ইনফ্রারেড সিগনেচার কমানোর জন্য, কিন্তু নতুন সংস্করণে যুক্ত হয়েছে ফ্ল্যাট, টু-ডাইমেনশনাল থ্রাস্ট-ভেক্টরিং নোজল, যা উচ্চ কোণে ম্যানুভারিবিলিটি বাড়ানোর লক্ষ্যে স্টেলথের কিছুটা ত্যাগ নির্দেশ করছে। ডাইভার্টারলেস সুপারসনিক ইনলেট ও সাইড-বাই-সাইড মেইন ল্যান্ডিং গিয়ার ইঙ্গিত দেয়, চীন অ্যারোডায়নামিক কার্যকারিতা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং অভ্যন্তরীণ স্থান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

এ ধরনের দ্রুত পরিবর্তন আধুনিক যুদ্ধবিমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী। সাধারণত একেকটি সংস্করণের পরিবর্তন আসতে বছরের পর বছর লাগে, কিন্তু চীন কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রোটোটাইপ উন্নত করছে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘লিপফ্রগিং’ কৌশল বলছেনÑঅর্থাৎ ধাপে ধাপে নয়, এক লাফে অগ্রগতি অর্জনের প্রচেষ্টা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার হাতে রয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরিতে এগিয়ে গেছে। ভবিষ্যতের এসব বিমান ড্রোন বা মনুষ্যহীন বিমান নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে এবং কিছু ড্রোন নিজেও আক্রমণ সক্ষমতার অধিকারী হবে। জে-৩৬ও এ ধরনের সক্ষমতা অর্জনের পথে রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের এয়ার ভাইস মার্শাল জেমস বেক বলেন, পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার এখন যেকোনো আধুনিক বিমান বাহিনীর জন্য মৌলিক। তবে বিশ্বের অনেক বিমান বাহিনী, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও এখনো চতুর্থ প্রজন্মের বিমান ব্যবহার করছে, কারণ এরা বেশি, রক্ষণাবেক্ষণে সহজ এবং দ্রুত প্রস্তুত রাখা যায়। বেক আরও বলেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়েছে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রবেশ কতটা কঠিন। এ বাস্তবতায় ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রয়োজন, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্বয়ংক্রিয় ড্রোন সহযোগিতা, দীর্ঘ পাল্লা এবং উন্নত স্টেলথ বৈশিষ্ট্য ধারণ করবে। তবে এই ধরনের বিমান তৈরির জন্য দশকেরও বেশি সময় প্রয়োজন।

চীনের দ্রুত অগ্রগতি দেখায় তারা "ডিসরাপটিভ টেকনোলজি" বা বিপ্লবী প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে। পুরনো পদ্ধতি বাদ দিয়ে নতুন কনসেপ্টে বিনিয়োগ যুদ্ধের ধরন ও কৌশলগত সুবিধা বদলে দিতে পারে। যদি চীন দ্রুত ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার মাঠে নামাতে সক্ষম হয়, তাহলে তারা সংখ্যায় নয়, প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে টক্কর দিতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রও বসে নেই। এফ-২২ ও এফ-৩৫ ফাইটারগুলোর ধারাবাহিক আপগ্রেড হচ্ছে। এনজিএডি বা নেক্সট জেনারেশন এয়ার ডমিন্যান্স প্রকল্পের আওতায় নতুন সেন্সর, উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, এইম-২৬০ ক্ষেপণাস্ত্র এবং সফটওয়্যার আপডেট যুক্ত হচ্ছে। এফ-৩৫কেও ‘পঞ্চম প্রজন্ম প্লাস’ সংস্করণে উন্নত করা হচ্ছে, যা ষষ্ঠ প্রজন্মের ৮০ শতাংশ সক্ষমতা প্রদান করবে।

বিশ্লেষকরা বলেন, চীনের উৎপাদন ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে চীনের হাতে ৩০০-এর বেশি জে-২০ আছে এবং প্রতি আট দিনে একটি নতুন বিমান তৈরি হচ্ছে। চীনের লক্ষ্য বছরে জে–৩৫-এর ৫০টি ইউনিট উৎপাদন। যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ উৎপাদন হার বছরে ১৪০টি হলেও, দুই–তিন বছরের মধ্যে চীনের পেছনে পড়তে পারে। চীনের বিমানশক্তি দক্ষিণ চীন সাগরের ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব, যা আঞ্চলিকভাবে তাদের সংখ্যাগত আধিপত্য বজায় রাখতে সহায়ক। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি চীনের দ্রুত উৎপাদনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না।

যদি যুক্তরাষ্ট্র ধীরগতি অবলম্বন করে এবং চীন তার নতুন প্রজন্মের বিমান প্রকল্পের গতি বাড়ায়, তবে আগামী প্রজন্মের আকাশ আধিপত্য হতে পারে এশীয় শক্তির, আমেরিকার নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ক্ষুণœ হতে পারে। তাই এই প্রতিযোগিতায় দুই পক্ষেরই পিছিয়ে পড়ার সুযোগ নেই।

সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, এশিয়া টাইমস।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়