শিরোনাম
◈ বিশ্বকাপের আগে নতুন বিতর্ক, ইরানের ১৪ কর্মকর্তা ও স্টাফকে ভিসা দিলো না যুক্তরাষ্ট্র ◈ ইরানে ইসরাইলের পালটা হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা ◈ ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ফিলিপাইন, সুনামির ঝুঁকিতে উপকূলীয় এলাকা ◈ পুশইন ঠেকাতে রাত জেগে সীমান্ত পাহারায় ৫ শতাধিক বাংলাদেশি ◈ ইরানের বিরুদ্ধে পালটা অভিযানে না যেতে নেতানিয়াহুকে অনুরোধ করবেন ট্রাম্প ◈ মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের ◈ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য

প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ০২:১৬ দুপুর
আপডেট : ২১ মে, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আফগান-পাকিস্তান উত্তেজনা: কার সামরিক শক্তি কেমন?

এবার দক্ষিণ এশিয়ার সংঘাত গড়িয়েছে আফগানিস্তান-পাকিস্তানের মধ্যে। কিছুদিন আগে যা ছড়িয়েছিলো ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে। ২০২৫ সালের সামরিক শক্তি সূচকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিশাল ব্যবধান উঠে এসেছে।

বিশ্ব সামরিক শক্তি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক সক্ষমতা, জনশক্তি, প্রতিরক্ষা বাজেট ও বিমান শক্তি—সব ক্ষেত্রেই পাকিস্তান আফগানিস্তানের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে।

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার সূচকে পাকিস্তানের শক্তি সূচক দাঁড়িয়েছে দশমিক ২৫, যা বিশ্বে ১২তম স্থান। অন্যদিকে আফগানিস্তানের সূচক ২ দশমিক ৬৪, যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি এবং সামরিক দুর্বলতার নির্দেশক। এই র‍্যাঙ্কিংয়ে আফগানিস্তানের অবস্থান ১১৮তম।

জনশক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা: পাকিস্তান প্রায় ৫ লাখের বেশি সক্রিয় ও আধাসামরিক সেনা নিয়ে আঞ্চলিকভাবে অন্যতম শক্তিশালী বাহিনী গড়ে তুলেছে। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে কোনো পূর্ণাঙ্গ নিয়মিত সেনাবাহিনী নেই; তাদের রিজার্ভ বা সক্রিয় বাহিনীর সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়।

হঠাৎ কেনো আফগান সীমান্তে হামলা চালালো পাকিস্তান?

এ ছাড়া প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারে পাকিস্তানের সেনারা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ন্যাটো-সমর্থিত প্রশিক্ষণ পেয়েছে, যা আফগান বাহিনীর ক্ষেত্রে নেই।

বাজেট ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা: প্রতিরক্ষা বাজেটেও দুই দেশের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৭ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে আফগানিস্তানের বাজেট মাত্র ২৯ কোটি ডলার। এ পার্থক্য তাদের সামরিক প্রযুক্তি, অস্ত্রভাণ্ডার ও সরঞ্জাম উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে।

বিমান ও স্থল শক্তি: বিমান সক্ষমতার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের রয়েছে প্রায় ১,৪০০টির বেশি বিমান, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান, আক্রমণ হেলিকপ্টার ও কার্গো প্লেন অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে আফগানিস্তানের বিমান শক্তি বর্তমানে প্রায় নিষ্ক্রিয়—তাদের হাতে রয়েছে মাত্র ৯টি বিমান।

স্থল বাহিনীর ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের কাছে ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, স্বচালিত আর্টিলারি, রকেট সিস্টেমসহ আধুনিক অস্ত্রের বিস্তৃত ভাণ্ডার আছে। আফগান বাহিনী এসব ক্ষেত্রে কার্যত পিছিয়ে।

নৌশক্তি ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা: আফগানিস্তান ল্যান্ডলকড বা সমুদ্রবিহীন দেশ হওয়ায় নৌবাহিনী গঠনের কোনো সুযোগ নেই। বিপরীতে পাকিস্তানের রয়েছে একটি কার্যকর ও উন্নত নৌবাহিনী, যা ভারত মহাসাগর অঞ্চলে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

আঞ্চলিক ভারসাম্যে প্রভাব: বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল অর্থনীতি এবং সীমিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কারণে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে শক্তিশালী হতে পারছে না। অন্যদিকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও তুরস্কের মতো দেশের সহযোগিতায় প্রযুক্তিগতভাবে দ্রুত আধুনিকায়িত হচ্ছে।

তবে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা প্রমাণ করেছে, পাহাড়ি ভূখণ্ড ও স্থানীয় গেরিলা কৌশলে আফগান যোদ্ধাদের কিছু সুবিধা আছে। কিন্তু সামগ্রিক সামরিক ক্ষমতায় পাকিস্তানই আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে অনেক এগিয়ে আছে।

সূত্র: Global Firepower - Afghanistan vs Pakistan Military Comparison 2025

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়