শিরোনাম
◈ একটি শিশুর ওপর নির্যাতন পুরো সমাজকে আহত করে: রামিসার রায়ে আদালতের বার্তা ◈ এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে: তারেক রহমান ◈ বালুবোঝাই ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ◈ ভালো ব্যাংকও রক্ষা পায়নি, ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টির অবস্থার অবনতি, বেড়েই চলেছে খেলাপি ঋণের পাহাড় ◈ ভারতে ডেটা সেন্টার খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী রবিন খুদা! ◈ জেল থেকে ফিরে নানা আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী, সরগরম চুনকা কুঠির ◈ মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নাকি আইন হাতে তুলে নেওয়া? ভাইরাল গণপিটুনির ঘটনায় বিতর্ক ◈ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সেই ‘ডলার’কে নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন রামিসার বাবা ◈ আদালতের ঐতিহাসিক রায়: ১৬ দিনে বিচার সম্পন্ন, রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২৬, ০১:৩৮ রাত
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি: এইচবিএ১সি মান জানেন না অনেক রোগী

মালয়েশিয়ায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক ‘এইচবিএ১সি’ সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই নিয়মিত রক্তে সুগার লেভেল বা শর্করা পরীক্ষা করেন। তবে প্রায় ৪০ শতাংশই তাঁদের এইচবিএ১সি মান কী, তা মনে রাখতে পারেন না বা এ সম্পর্কে জানেন না।

এইচবিএ১সি টেস্ট একটি রক্তপরীক্ষা। এর মাধ্যমে রক্তে দুই থেকে তিন মাসের শর্করার গড় মাত্রা কেমন ছিল, তা জানা যায়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, এই পরীক্ষাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বোঝার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত শর্করার পরিমাণ হলো এইচবিএ১সি। রক্তের লোহিত কণিকা প্রায় তিন মাস বেঁচে থাকে। এই সময়ের মধ্যে রক্তে যত বেশি শর্করা থাকে, তত বেশি শর্করা হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

২০২৩ সালের ন্যাশনাল ডায়াবেটিস রেজিস্ট্রি রিপোর্ট অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার মাত্র ৩৫ শতাংশ রোগী দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা (এইচবিএ১সি ৬ দশমিক ৫ বা তার কম) অর্জন করতে পেরেছেন।

জরিপে দেখা গেছে, নিয়মিত রক্তপরীক্ষা রোগীদের মধ্যে একধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি করে, যা অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না। নিয়মিত পরীক্ষা করেন এমন ৭৭ শতাংশ রোগী তাঁদের সঠিক শর্করার মাত্রা নিয়ে নিশ্চিত না থাকলেও বিশ্বাস করেন, তাঁরা ডায়াবেটিস বেশ ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করছেন।

মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অ্যাবটের অর্থায়নে এবং ব্রিটিশ জনমত জরিপ সংস্থা ইউগভ কর্তৃক পরিচালিত এই গবেষণায় ১ হাজার ২ জন প্রাপ্তবয়স্ক মালয়েশীয় অংশ নেন। জরিপটিতে রোগীদের শর্করা পর্যবেক্ষণ, খাবার নির্বাচন ও শারীরিক পরিশ্রমের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

জরিপে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ৮৫ শতাংশ উত্তরদাতা খাদ্য ও ডায়েটের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন এবং ৬১ শতাংশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

জরিপ অনুযায়ী, ডায়াবেটিস নির্ণয়ের পর প্রায় অর্ধেক রোগী প্রধান খাদ্য ব্যবস্থাপনা কৌশল হিসেবে কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে দেন। প্রায় ৯০ শতাংশ রোগী ডায়েটসংক্রান্ত তথ্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভর করেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন উৎসবের সময় (এই সময়গুলোতে সাধারণত বেশি খাবার খাওয়া হয়) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকে বেশি চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা, যেখানে সাধারণ সময়ে ৩৯ শতাংশ রোগীর জন্য নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক সহজ। ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের জন্য উৎসবকালীন সময় বিশেষভাবে কঠিন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার ইন্ডোক্রাইন মেডিসিন বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. চান সিউ ফেং বলেন, খাদ্যাভ্যাস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্যের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা ভালো হলেও কনটিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিংয়ের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার রোগীদের আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।

সমীক্ষায় আরও দেখা যায়, ৭০ শতাংশ রোগী চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ নেন। তবে মাত্র ২০ শতাংশ সপ্তাহে পাঁচ থেকে সাত দিন নিয়মিত ব্যায়াম করেন। ৮০ শতাংশের বেশি রোগী সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের কম সময় ব্যায়াম করেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি দুজন মালয়েশীয়র মধ্যে একজন অলস বা কায়িক পরিশ্রমহীন জীবন যাপন করেন।

ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় ৭৬ শতাংশ রোগী তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের (চিকিৎসক, ডায়েটিশিয়ান ও নার্স) ওপর নির্ভর করেন। চিকিৎসকদের পর ডায়েটিশিয়ানরা তাঁদের কাছে সবচেয়ে বেশি বিশ্বস্ত। এ ছাড়া ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা পরিবার ও সমাজের কাছ থেকে যথেষ্ট সমর্থন পান। তাঁরা তাঁদের রোগের জন্য নিজেদের জীবনযাপনকে দায়ী করতে কম আগ্রহী।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়