শিরোনাম
◈ একটি শিশুর ওপর নির্যাতন পুরো সমাজকে আহত করে: রামিসার রায়ে আদালতের বার্তা ◈ এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে: তারেক রহমান ◈ বালুবোঝাই ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ◈ ভালো ব্যাংকও রক্ষা পায়নি, ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টির অবস্থার অবনতি, বেড়েই চলেছে খেলাপি ঋণের পাহাড় ◈ ভারতে ডেটা সেন্টার খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী রবিন খুদা! ◈ জেল থেকে ফিরে নানা আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী, সরগরম চুনকা কুঠির ◈ মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নাকি আইন হাতে তুলে নেওয়া? ভাইরাল গণপিটুনির ঘটনায় বিতর্ক ◈ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সেই ‘ডলার’কে নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন রামিসার বাবা ◈ আদালতের ঐতিহাসিক রায়: ১৬ দিনে বিচার সম্পন্ন, রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:২৯ দুপুর
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মৃত মানুষকে কি দিনের পর দিন আইসিইউ-তে রাখা সম্ভব? গুজব বনাম বাস্তবতা (ভিডিও)

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—হাসপাতালগুলো কি মৃত মানুষকে আইসিইউ (ICU) বা লাইফ সাপোর্টে রেখে দিনের পর দিন বিল বাড়ায়? এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. সাকলায়েন রাসেল। তিনি এই বিষয়টিকে একটি 'সম্পূর্ণ গুজব' ও 'অসম্ভব ঘটনা' বলে অভিহিত করেছেন।

লাইফ সাপোর্ট আসলে কী? ডা. সাকলায়েন রাসেল জানান, লাইফ সাপোর্ট বা কৃত্রিম ফুসফুসের কাজ হলো একজন মুমূর্ষু রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা যখন তার নিজের ফুসফুস কাজ করতে পারে না। এর পাশাপাশি শরীরে লবণের ঘাটতি পূরণ বা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুক্তি: ভিডিওতে বলা হয়, একজন মানুষের হৃদস্পন্দন যতক্ষণ সচল থাকে, ততক্ষণই তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় জীবিত ধরা হয়। হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে কোনো মেশিন দিয়েই তাকে আর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। মানুষ মারা যাওয়ার পর শরীরে দ্রুত পচন প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং রক্ত জমাট বাঁধতে থাকে। আইসিইউ-র পরিবেশে কোনো মৃত মানুষকে পচন ছাড়াই দিনের পর দিন রেখে দেওয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একেবারেই অসম্ভব।

আবেগ বনাম বাস্তবতা: অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনকে হারানোর শোক মেনে নিতে পারেন না এবং কোনো 'মিরাকল' বা অলৌকিক কিছুর আশায় লাইফ সাপোর্ট চালিয়ে যেতে বলেন। চিকিৎসকরাও অনেক সময় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেন। তবে এর মানে এই নয় যে, একজন মৃত মানুষকে সেখানে রাখা হয়েছে।

ডা. সাকলায়েন একটি বিশেষ ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে একজন নারী গত তিন বছর ধরে লাইফ সাপোর্টে আছেন। যদিও তার ব্রেন বা কিডনি কাজ করছে না, কিন্তু হৃদস্পন্দন সচল থাকায় তাকে মৃত বলা যাচ্ছে না। তার স্বামী এখনো তার ফিরে আসার আশায় নিরলস সেবা করে যাচ্ছেন।

সতর্কবার্তা: চিকিৎসক সমাজের পক্ষ থেকে তিনি অনুরোধ জানান যে, আইসিইউ নিয়ে এ ধরণের অপতথ্য বা গুজব ছড়ানো উচিত নয়। এ ধরণের বিভ্রান্তি সাধারণ মানুষের মনে চিকিৎসকদের প্রতি অবিশ্বাস তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত রোগীদের জন্যই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়