শিরোনাম
◈ টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি দূর করতে হবে ◈ ফারাক্কায় আপত্তি নেই, তবে পদ্মা ব্যারেজে কেন ভারতের অস্বস্তি? ◈ সীমান্তে একের পর এক পুশইন চেষ্টা, কী বার্তা দিতে চাইছে ভারত? ◈ বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীনের, প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে চুক্তি ◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা! ◈ আসিফ আকবর আটক হননি, গুজব উড়িয়ে দিলেন নিজেই! ◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৩৩ দুপুর
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২০২৭-এর মধ্যে সেশনজট শূন্যে নামানোর লক্ষ্য: অকার্যকর কোর্স বন্ধ ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় জোর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

উপাচার্য বলেন, ‘সেশনজট কমাতে বিশেষ রোডম্যাপ করা হয়েছে। আশা করছি, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট থাকবে না।’

২০২৭ সালের মধ্যে সেশনজট শূন্যে নামাতে চায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ লক্ষ্যে বিশেষ রোডম্যাপ (রূপরেখা) তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ। সেই সঙ্গে কোনো কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে সেখানে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে বলেও জানান উপাচার্য।

আজ শুক্রবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডি ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য এ তথ্য জানান।

সঠিকভাবে স্নাতক-স্নাতকোত্তর কোর্স পরিচালিত না হলে তা বন্ধ করা হবে বলেও জানান অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘যত্রতত্র স্নাতক-স্নাতকোত্তর কোর্স খোলা হয়েছে। অনেক কলেজে শিক্ষক ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই, এগুলো আমরা রিভিউ করছি। আমরা নতুন করে কোর্স চালু করার প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছি। আর যেসব কলেজে সঠিকভাবে স্নাতক-স্নাতকোত্তর কোর্স পরিচালিত হবে না তা বন্ধ করা হবে।’

স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে উপাচার্য আমানুল্লাহ বলেন, ‘প্রথম বর্ষের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষেও ১০০ নম্বরের কমিউনিকেটিভ ইংলিশ কোর্স চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, আইসিটি শিক্ষায় দক্ষতা বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় বর্ষেও ১০০ নম্বরের আইসিটি কোর্স রাখা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিসেফের সহায়তায় সারা দেশে প্রায় ১২ হাজার আইসিটি শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইসিটি শিক্ষকের ঘাটতি পূরণে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এ খাতে যুক্ত করা হবে।’

ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে নতুন কোর্স চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সায়েন্স, বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস, মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং, সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিকস এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে নতুন কোর্স চালু করা হবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে স্টিম (সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথমেটিকস) ভিত্তিক শিক্ষা বিস্তৃত করা হবে।’

বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই হাইব্রিড পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবে। এ ছাড়া অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইংরেজি শিক্ষায় মেন্টরিং দেবে। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার আলোচনা চলছে।’

বেকারত্ব কমাতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও বাজারের চাহিদার মধ্যে বড় ফাঁক রয়েছে। এই গ্যাপ কমাতে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি চালু করা হয়েছে, যেখানে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে দেশের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নির্ধারণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একাডেমিক ডিগ্রির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা বাড়াতে স্নাতকের পাশাপাশি বিভিন্ন “স্কিল কোর্স” চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। স্নাতকের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে গুচ্ছভিত্তিক কোর্স থেকে শিক্ষার্থীরা বেছে নিতে পারবে। এই কোর্সগুলো সম্পন্ন করলে শিক্ষার্থীরা মূল ডিগ্রির পাশাপাশি অতিরিক্ত সার্টিফিকেশন পাবে, যা দেশে-বিদেশে চাকরির বাজারে সহায়ক হবে।’

শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনতে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘এতে ইতিমধ্যে অনেক কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকসংকট রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১২ হাজার প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলছে।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়