শিরোনাম
◈ বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও শিল্পোন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: মির্জা ফখরুল ◈ ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল: অর্থনীতির জন্য কতটা ইতিবাচক? ◈ ক্রিকেটার নাঈমের শারী‌রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চট্টগ্রামে গে‌লেন বিসিবির ফিজিওরা ◈ ব্রাজিলের এক‌টি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মরক্কোর বিপক্ষে জয় চান না ◈ ইংল্যান্ড দ‌লের বল ও বুটসহ অ‌নেক অনুশীলন সরঞ্জাম চুরি ◈ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি করে গাছ লাগান: প্রধানমন্ত্রী ◈ বিপ্লবের পর বাস্তবতার মুখে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা ◈ জুলাইয়ে সমাহিত হবেন খামেনি, ঘোষণা ইরানের ◈ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধে ইরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতা আমিরাতের? ১০-২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের তথ্য প্রকাশ করল রয়টার্স ◈ ‘দেশের মালিক ২০ কোটি মানুষ, কোনো দল বা পরিবার নয়, জনগণের সমর্থন নিয়েই দেশের ভাগ্য বদলাবে বিএনপি’

প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬, ০৬:৩৯ বিকাল
আপডেট : ১৩ জুন, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে বেকারত্ব থেকে স্বাবলম্বী জাকির, আমবাগানেই কর্মসংস্থান ৭ যুবকের

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর: ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কুঞ্জনগর গ্রামে এক ব্যতিক্রমী আমবাগান ঘিরে জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা। বেকারত্বের গণ্ডি পেরিয়ে আম বিক্রিকে কেন্দ্র করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকজন যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন স্থানীয় যুবক জাকির হোসেন। জাকির একই উপজেলার রামনগর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। সে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে সমাজকর্ম বিভাগে মাস্টার্স করছেন।

কুঞ্জনগর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ শেখের প্রায় সাড়ে ৭ বিঘা জমির প্রকল্পের মধ্যে সাড়ে ৪ বিঘাজুড়ে রয়েছে আমবাগান। বাগানটিতে রয়েছে প্রায় ৩৯০টি আমগাছ। চলতি মৌসুমে পুরো বাগানের আম কিনে নিয়েছেন জাকির হোসেন। এরপর সরাসরি বাগান থেকেই ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন বিভিন্ন জাতের টাটকা আম।

বাগানটিতে হারিভাঙা, হিমসাগর, রুপালি, ল্যাংড়া, বারি-৪, মল্লিকা, রাজভোগ, গোবিন্দভোগ, আশ্বিনা-সহ প্রায় ১৩ জাতের আম রয়েছে। অনলাইনে প্রতি কেজি আম ৬০ টাকা এবং বাগানে সরাসরি এসে কিনলে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যা স্থানীয় বাজারদরের তুলনায় কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কম।

জাকির জানান, প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ মণ আম বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ মণ আম বিক্রি করেছেন তিনি। প্রতিদিন অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা বাগানে আসছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে এসে গাছ থেকে আম পেড়ে খেয়ে স্বাদ পরীক্ষা করে তারপর কিনে নিচ্ছেন।

স্থানীয় চাকরিজীবী রতন শেখ বলেন, “বাজারে অনেক সময় কতদিন আগে পাড়া আম বিক্রি হয় তা জানা যায় না। কিন্তু এখানে সরাসরি গাছ থেকে পাড়া টাটকা আম পাওয়া যায়। দামও বাজারের তুলনায় কম। তাই আমরা পরিবার নিয়ে এসে আম কিনছি।”

জাকির হোসেন বলেন, “পড়াশোনা করেও দীর্ঘদিন ধরে চাকরি পাচ্ছিনা। তখন চিন্তা করলাম মৌসুমি ফলের ব্যবসা করা যায় কি না। সেই ভাবনা থেকেই আমবাগানের আম কিনে নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। এখন ভালো সাড়া পাচ্ছি। নিজের আয় যেমন হচ্ছে, তেমনি আমার সঙ্গে আরও ৫ থেকে ৭ জন যুবক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জাকিরের উদ্যোগে এলাকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও ফরমালিনমুক্ত ও টাটকা আম সহজে কিনতে পারছেন। ফলে বাগানটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে একটি জনপ্রিয় আম বিক্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আধুনিক কৃষি ও ফলভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। জাকির হোসেনের মতো তরুণদের এমন উদ্যোগ বেকারত্ব দূরীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে এবং অন্য যুবকদেরও কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় আগ্রহী করে তুলছে।

নগরকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রেজাউল করিম বলেন, “আম চাষ ও ফলভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাকির হোসেনের মতো তরুণরা কৃষিকে ব্যবসায়িকভাবে গ্রহণ করায় একদিকে যেমন নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাগান থেকে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে আম বিক্রি করায় ভোক্তারা টাটকা ও নিরাপদ ফল পাচ্ছেন। কৃষিতে শিক্ষিত যুবকদের অংশগ্রহণ বাড়লে দেশের কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।”

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়