নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৫ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে মদনপুর ইউপির চাঁনপুর এলাকার আক্তার হোসেন মিয়ার ভাড়াটিয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, ভাড়াটিয়া মান্নান (৫০) তার স্ত্রী সুলতানা বেগম (৩৫) ছেলে সিয়াম (৯) মেয়ে মিম (১১) ও পাশের রুমের শিশু হযরত আলী (১০)।
আহতদের মধ্যে সুলতানা বেগম ও তার মেয়ে মিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন পুলিশ। পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহায়তায় দগ্ধ আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন।
জানা গেছে, বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড চাঁনপুর এলাকার আক্তার হোসেনের ভাড়াটিয়া বাড়ির একতলা ভবনে আব্দুল মান্নান মিয়া তার পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মান্নান মিয়ার স্ত্রী সুলতানা বেগম (৩৫) রান্না ঘরে দরজা জানালা না খুলে রান্না করতে চুলায় আগুন জ্বালায়। হঠাৎ আগুন বাসার চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে একই পরিবারের ৪ জনসহ ৫ জন অগ্নিদগ্ধ হয়। এ খবর পেয়ে ধামগড় ফাঁড়ির পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা জাতিয় বার্ন ইউনিটে পাঠান।
ধামগড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোজাহিদ জানান, এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস লিকেজ হয়ে রান্না ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে ছিল। রান্না করতে চুলায় আগুন জ্বালাতেই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিদগ্ধ মা ও মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ইউনিট প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি আরও জানান, দগ্ধদের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী সুলতানা শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন। ১৩ বছর বয়সী মিম ৪১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন। তাদের দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ৮ বছর বয়সী হযরত আলী শরীরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হওয়ায় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আব্দুল মান্নানের শরীরের ৩০ শতাংশ দপ্তর হয়েছে।
অন্যদিকে সিয়ামের শরীরের ৭৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে লিকেজের কারণে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। সকালে আগুনের উৎস সৃষ্টি হলে। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।