শিরোনাম
◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ◈ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু, প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে ◈ পাঁচ সদস্যের সভাপতি মন্ডলীর নাম ঘোষণা ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ, মে‌সি‌কে ছাড়াই হন্ডুরাসকে ২-০ গো‌লে হারালো আর্জেন্টিনা  ◈ একটি শিশুর ওপর নির্যাতন পুরো সমাজকে আহত করে: রামিসার রায়ে আদালতের বার্তা ◈ এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে: তারেক রহমান ◈ বালুবোঝাই ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৬, ১০:১০ দুপুর
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সিন্ডিকেটের থাবায় ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা

রাজশাহীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে এবার বোরোর ভালো ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। কষ্টে ফলানো ধানের প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না তারা। প্রতি বিঘা বোরো আবাদে খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। এ ছাড়া ধান কাটা ও মাড়াই করে ঘরে তুলতে আরও ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সবমিলিয়ে বিঘাপ্রতি কৃষকের মোট খরচ পড়েছে ২৬ থেকে ২৭ হাজার টাকা।

কৃষক ও কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিঘায় বোরোর ফলন হচ্ছে ২০ থেকে ২২ মণ। চলতি বাজারে প্রতি মণ ১ হাজার ১২০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা করে ধান বেচে কৃষক বিঘায় পাচ্ছেন ২৪ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে প্রতি বিঘায় কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা। ধানের জাতভেদে লোকসানের পরিমাণ আরও বেশি। রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, এবার তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে উফশী জাতের বোরো চাষ করেছিলেন। কাটা-মাড়াই শেষে সাড়ে তিন বিঘায় বোরো পেয়েছেন ৭৩ মণ। জমি তৈরি, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে খরচ হয় ৭৮ হাজার টাকা। ধান পাকার পর কাটা ও মাড়াই করে ঘরে তুলতে বিঘাপ্রতি ৭ হাজার টাকা করে শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তি হয়। বোরো কেটে তুলতে সাড়ে তিন বিঘায় শ্রমিকের মজুরি বাবদই দিতে হয়েছে নগদ ২৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন বিঘায় তার খরচ হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন, কেশরহাট মোকামে বর্তমানে বিআর-২৮ জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মণ দরে। সাড়ে তিন বিঘায় পাওয়া ৭৩ মণ ধানের বর্তমান মোট বাজারমূল্য ৯১ হাজার ২৫০ টাকা। সাড়ে তিন বিঘায় তার লোকসান ১১ হাজার ৭৫০ টাকা।

এ ছাড়া নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঠাকুরমান্দা গ্রামের কৃষক আবদুর রাজ্জাক জানান, আগে এ অঞ্চলের সবখানেই ধানের চাতাল ছিল। চাতাল মালিকরা সরাসরি হাটবাজার থেকে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতেন। চাল তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করতেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে চালের সিংহভাগ বাজার কয়েকটি বড় কোম্পানির দখলে চলে গেছে। রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়াসহ ধানপ্রধান এলাকার শত শত চাতাল বন্ধ হয়েছে লোকসানের মুখে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে চাতাল মালিকরা তাদের ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন চাতাল উঠে যাওয়ায় বড় বড় কোম্পানির এজেন্টদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলের লাখো কৃষক।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়