শিরোনাম
◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ◈ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু, প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে ◈ পাঁচ সদস্যের সভাপতি মন্ডলীর নাম ঘোষণা ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ, মে‌সি‌কে ছাড়াই হন্ডুরাসকে ২-০ গো‌লে হারালো আর্জেন্টিনা 

প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২৬, ১০:১৬ রাত
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রংপুরে গরুর থাকছে আবাসিক হোটেলে, মিলছে নিরাপদ আশ্রয়, গরুপ্রতি ৫০ টাকা নেওয়া হয়

রংপুর নগরীতে আশানুর ইসলাম নামের এক ব্যক্তি গড়ে তুলেছেন গরুর জন্য আবাসিক হোটেল। ব্যতিক্রমধর্মী এই আবাসিক হোটেল নিয়ে নগরজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নামমাত্র অল্প খরচে নিরাপদ নিরাপত্তা বলয়ে গরুর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন সুবিধা।

প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা রংপুরের বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে রাতে এখানে রাখেন। এজন্য গরুপ্রতি ৫০ টাকা নেওয়া হয়। তবে কোরবানির ঈদ ঘিরে গরুর চাপ বেড়েছে। এখন গরুপ্রতি ৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা ব্যতিক্রমী এ হোটেলে একসঙ্গে ৩০০-৪০০ গরু রাখা যায়। ভাড়া দিয়ে হোটেলে গরু রাখতে পারছেন পাইকার ও ব্যবসায়ীরা। স্বল্প খরচ ও নিরাপদে গরু রাখার সুবিধা পেয়ে খুশি খামারি ও ব্যবসায়ীরা। এতে যেমন গরুর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুর নগরের মডার্ন মোড় পার হয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বারো আউলিয়া এলাকায় এ হোটেল। তবে হোটেলটি আগে ছিল মডার্ন মোড়ের বাঁ পাশে। বছর দেড়েক আগে এটি ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ডানপাশে জায়গা ভাড়া নিয়ে করা হয়েছে। মহাসড়কের পাশে ৫০ শতক জমিতে টিনের শেড করা হয়েছে। ভেতরে সারিবদ্ধভাবে গরু রাখা হয়েছে। টিনের শেডে বিশেষ ব্যবস্থায় সূর্যের আলো প্রবেশের ব্যবস্থা আছে। গরুর মাথার ওপর ঘুরছে কয়েকটি বৈদ্যুতিক পাখা। সেখানে গরুকে খাবার দিচ্ছেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোরবানির ঈদের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দক্ষিণাঞ্চলের গরু ব্যবসায়ীরা রংপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোর হাট থেকে প্রতিদিন শত শত গরু কিনছেন। এসব গরুর কিছু সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকে করে পাঠানো হচ্ছে। বাকি গরু রাখা হচ্ছে এই হোটেলে। এখানে গরুকে খাওয়ানোর জন্য খড় ও ভুসির আলাদা ব্যবস্থাও আছে।

আশানুর ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগে বাবা আনছার আলীর সঙ্গে হাটে গিয়ে গরু কিনতেন। তখন দেখতেন গরু কেনার পর সেটিকে রাখার জায়গা থাকতো না। আবার ঝড়-বৃষ্টি বা রোদ হলে গরু শারীরিকভাবে কষ্ট পেতো। এমনও দেখা গেছে যে হঠাৎ গরু মারা গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের বড় ক্ষতি হতো। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ভাবেন, গরু রাখার একটি হোটেল করলে কেমন হয়, যেখানে বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে ব্যবসায়ীরা রাখবেন। তারপর সময়মতো গন্তব্যে পাঠাবেন। একপর্যায়ে বাবার সঙ্গে পরামর্শ করে গরুর আবাসিক হোটেল খোলার সিদ্ধান্ত নেন। যেমন সিদ্ধান্ত, তেমন কাজ। এরই মধ্যে হোটেলের খবর ছড়িয়ে পড়ে দূরদূরান্তের গরু ব্যবসায়ীদের কাছে। তারা হোটেলে নিয়মিত রাখছেন শত শত গরু।

আশানুর জানিয়েছেন, হোটেলে সাধারণ সময়ে দৈনিক তিন-চার হাজার এবং কোরবানির ঈদের মৌসুমে দৈনিক পাঁচ-ছয় হাজার টাকা আয় হয়।

হোটেলে আশানুর ও তার বাবা ছাড়াও ছোট ভাই শাহিন মিয়া, ভগ্নিপতি আলাল মিয়াও দেখাশোনা করেন। শাহিন মিয়া বলেন, ‌‘আমরা মূলত নিরাপত্তার বিষয়টি দেখিন। এখন পর্যন্ত কোনও গরু হারানোর ঘটনা ঘটেনি। এমন অভিযোগও কেউ করতে পারেনি। আমরা শতভাগ নিরাপত্তা দিচ্ছি।’

সুরুজ মিয়া নামে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী জানান, তারা রংপুরের শঠিবাড়ি, লালবাগ, বেদগাড়ি, বুড়িরহাট, পাওটানা ও লালমনিরহাটের বড়বাড়ি হাট থেকে গরু কিনেছেন। আগে গরু কেনার পর তাদের পরিবহন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো। অনেক সময় বেশি টানাটানির কারণে গরু ক্লান্ত হয়ে যেতো। এখন গরুর আবাসিক হোটেলে রেখে সুবিধাজনক সময়ে পরিবহন করতে পারছেন।

শরীয়তপুরের জাজিরা থেকে গরু কিনতে রংপুরে আসেন মোহাম্মদ ইব্রাহমী। চার দিন রংপুরে থেকে গরু কিনেছেন ২২টি। তিনি বলেন, ‘রংপুরে এসেছি এক সাইজের গরু কেনার জন্য। অন্য জেলার চেয়ে রংপুর জেলায় গরু কেনায় মজা আছে। একদিনেই অনেকগুলো গরু কেনা সম্ভব নয়। তার জন্য আমরা এই আবাসিক হোটেলে গরু রেখে দুই-তিনটি হাট ঘুরে ২০-২২টি গরু কিনে এক গাড়ি হওয়ামাত্রই নিয়ে যাই।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘এটি ভালো উদ্যোগ। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা এসে বিভিন্ন হাটে গরু কিনে এখানে রাখেন। পরে পরিমাণমতো হলে গাড়িতে করে নিয়ে যান। গরুর আবাসিক হোটেল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা খুব উৎফুল্ল।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়