শিরোনাম
◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২৬, ১২:১৫ দুপুর
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গোপনে ক্যামেরায় ধরা পরে আড়াই বছরের শিশু সন্তানকে নির্যাতনের ভিডিও, মা কারাগারে

আড়াই বছরের শিশু সন্তানকে নির্যাতনের অভিযোগে সুমি আক্তার নামে এক মাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে মায়ের কাছ থেকে সরিয়ে অস্থায়ীভাবে দাদা-দাদির জিম্মায় দেয়া হয়েছে। গতকাল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এ শুনানি শেষে বিচারক শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, শিশুটির ওপর নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক বিস্ময় প্রকাশ করেন। পরে অভিযুক্ত মাকে মানসিক চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মেহেরিমা খান তাইয়েবার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তার মা সুমি আক্তার। শিশুটির শরীরে বিভিন্ন সময় আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় লন্ডনপ্রবাসী বাবার। পরে ঘরের দেয়াল ঘড়িতে গোপনে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। কয়েক মাসের ফুটেজ পর্যবেক্ষণের পর শিশুটির দাদা ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।

মামলা গ্রহণের পর আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ চলতি মাসে সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে শিশুটি মায়ের সঙ্গেই কারাগারে ছিল।

শিশুটির দাদির অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এমনকি শিশুটিকে হত্যা করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। আদালতে উপস্থাপিত ভিডিওতে শিশুটিকে মারধর ও হাত বেঁধে জোর করে খাবার খাওয়ানোর দৃশ্য দেখা যায় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে শিশুটির মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার ঘটনাও ফুটেজে ধরা পড়ে।

দুপুরে মা ও শিশুকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানির জন্য মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এ পাঠানো হয়। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, শিশুটির ওজন কম হওয়ায় তাকে খাওয়ানোর সময় কিছুটা শাসন করা হয়েছিল। তবে বিচারক শিশুটিকে দাদির কোলে নিতে বললে শিশুটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে মায়ের কাছ থেকে দাদির কাছে চলে যায়।

পরে আদালত শিশুটিকে সাময়িকভাবে দাদার জিম্মায় দেন এবং অভিযুক্ত মাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শুনানিকালে শিশুটির মা আদালতের কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, তাকে ছাড়া সন্তান থাকতে পারবে না। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বোরহান উদ্দিন জানান, এই নারীর ৩-৪টা বিয়ে হয়েছে।

প্রত্যক ঘরেই তার সন্তান রয়েছে। এসব সংসারে অশান্তি করে বিচ্ছেদ হয়ে টাকা নিয়ে আরেকটা বিয়ে করতেন এবং তাদের সন্তান তার বাবার কাছে রেখে আসতেন। শিশুটির দাদি পারুল বেগমের দাবি তার ছেলে লন্ডন প্রবাসী, তার স্ত্রীকে তিনি সন্দেহ করে আসছিলেন, এজন্য গোপনে বাসার ভেতর দেওয়াল ঘড়িতে ক্যামেরা সেটআপ করে রেখেছেন।

এতে শিশুটিকে তার মা মারধর করেন সেটা দেখা যায় এবং হাত বেঁধে জোর করে খাবার খাওয়ানো হয়। এতে শিশুটির মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়। এমন নির্যাতনের ফুটেজ লন্ডন থেকে শিশুটির বাবা দেখেন। তার পরিবারকে এই ফুটেজ পাঠিয়ে থানা পুলিশের সহযোগিতা নিতে বলেন। পরে পুলিশ এমন ঘটনা দেখে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়