শিরোনাম
◈ মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের ◈ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৭ মে, ২০২৬, ০৯:১৮ রাত
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’

দক্ষিণের সমুদ্র সৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটা এখন শুধু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; নতুন নতুন প্রাকৃতিক আকর্ষণ যুক্ত হয়ে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এরই মধ্যে পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত এক নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক স্পট এবং কাছাকাছি অবস্থিত ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’।

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ এলাকা সবুজ বনভূমি, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, লেক এবং সাগরের ঢেউয়ের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। ছোট ছোট টিলা, নীল আকাশ ও নির্মল বাতাসে জায়গাটি এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক নীরব স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

এখানে পর্যটকরা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, ছবি তোলা, পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি এবং নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন। কোনো প্রকার ঝুঁকি না থাকায় অনেকেই তাঁবু টাঙিয়ে রাতও যাপন করছেন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিরল অভিজ্ঞতা মিলছে বলে জানান দর্শনার্থীরা।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক দম্পতি নীশা ও ফরহাদ বলেন, একই জায়গা থেকে সূর্য ওঠা ও ডোবা দেখা সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা। পরিবেশ খুবই শান্ত ও মনোরম।

রাজশাহী থেকে আগত আরেক পর্যটক ব্যাংকার রবিউল ইসলাম বলেন, এখানে এসে মনে হচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছি। নীরবতা আর নির্মল বাতাস আলাদা প্রশান্তি দেয়।

স্থানীয় ট্যুর গাইড আবুল কালাম জানান, প্রথমে স্থানীয়ভাবে জায়গাটির নাম ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পায়। পরে ভ্রমণ ব্লগারদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এটি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করে।

একই সঙ্গে কুয়াকাটার আরেক আকর্ষণ ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’ পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ছে। সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ পর্যটকদের জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।

স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দুই স্পটকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে কুয়াকাটা পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কুয়াকাটাবাসীর’ সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান আকাশ বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনায় এই এলাকা ইকো-ট্যুরিজমের গুরুত্বপূর্ণ হাব হতে পারে।

পর্যটন ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু পর্যটকের অসচেতন আচরণে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য, সাউন্ড বক্সের শব্দ ও ময়লা-আবর্জনা প্রাকৃতিক পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানান, পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও আশপাশের এলাকা নিয়ে টেকসই পর্যটন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়