শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা ◈ ব্যাংকিং খাতে নতুন শর্ত: নতুন ও পুরোনো হিসাবেও লাগবে টিআইএন, আসছে বাজেটে প্রস্তাব ◈ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ◈ ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট ◈ প্রতি মাসেই কিছু কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আমিই তো ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করব : শিল্পোদ্যোক্তা একে আজাদ (ভিডিও) ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, আসছে নতুন বেতন কাঠামো, বাজেটে বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি!

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:০৮ রাত
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রাম এলজিইডিতে প্রতিটি ধাপে ‘কমিশন বাণিজ্য’ অভিযোগ

এম আর আমিন, চট্টগ্রাম : স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর  চট্টগ্রাম (এলজিইডি)-এর অধীনে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারদের কাছ থেকে নির্ধারিত কাজ পাওয়ার আগেই কমিশন দাবি অভিযোগ,এসব অভিযোগে সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদন থেকে শুরু করে টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং কাজের বিল পরিশোধ—প্রতিটি ধাপেই অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, কালভার্ট, ব্রিজ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে এই অনিয়ম বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ঠিকাদার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, কাজ পেতে হলে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিতে হয়। কাজ শেষ করার পর বিল তুলতেও আবার আলাদা করে তিন শতাংশ কমিশন দিতে হয় মোর্শেদ আলমকে। না দিলে চেক আটকে রাখা হয় বা নানা অজুহাতে বিল বিলম্ব করা হয়।এর ফলে উন্নয়ন কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনসাধারণ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিশেষ সৃত্রে জানা যায়, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী পর্যন্ত প্রত্যেককেই নির্ধারিত কমিশন দিতে হয় বলে একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন। আর এই কমিশন বিলের আগেই নগদে পরিশোধ করতে হয়। হিসাব রক্ষক মোর্শেদ আলমকে অগ্রিম ৩ শতাংশ কমিশন না দিলে বিলের দেখা পাওয়া যায় না। এজন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হয়। কমিশন বাণিজ্য বন্ধ হলে কাজের গুনগত মান বজায় থাকবে এবং উন্নয়ন টেকসই হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন তথ্য জানিয়েছেন একাধিক ঠিকাদার, তবে কমিশন আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন হিসাব রক্ষক মোরশেদ আলম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলজিইডির মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করে সরকার। এই কাজে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা তদারকি করে থাকেন। কিন্তু টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কাজ শেষ করে বিল আদায় পর্যন্ত সরকারি রাজস্ব (ভ্যাট, ট্যাক্স) ব্যতীত ১০ থেকে ১২ শতাংশ কমিশন দিতে হয়।

কমিশনের বাইরে আবার সাইট ভিজিটের নামে ২ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত খরচ দিতে হয়। এই কমিশনের টাকা দিতে গিয়ে কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করতে বাধ্য হন ঠিকাদার। ফলে কিছুদিন যেতে না যেতেই তা নষ্ট হয়ে যায়। সরকারের টাকা খরচ করে আবার মেরামত করতে হয়। এরফলে কতিপয় লোভী কর্মকর্তা সাময়িক লাভবান হলেও সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে প্রতিটি কাজের বিল প্রসিড করার সময় হিসাব রক্ষক মো. মোরশেদ আলমকে ৩ শতাংশ কমিশন দিতে বাধ্য করে। অর্থাৎ ১ কোটি টাকার বিলের জন্য ৩ লাখ টাকা ঘুষ আর ৪০০ কোটির জন্য নেয় ১২ কোটি টাকা। এই টাকা অগ্রিম দিতে হয়, না দিলে বিল পাওয়া যায় না।

তবে ঘুষ বা কমিশন আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চট্টগ্রামের হিসাব রক্ষক মো. মোরশেদ আলম বলেন, আমার এখানে কোন কমিশন নেওয়া হয় না। আমি কোন ঘুষ নেই না এমনকি আমি কারো ফাইল আটকে রাখি না। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা। তাদের দাবি, সব কাজই নীতিমালা অনুযায়ী স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। কোন অনিয়ম হচ্ছে না। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়