শিরোনাম
◈ ‘অনেক হয়েছে, এবার শেষ করা যাক’: সরাসরি সম্প্রচারে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ◈ বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেলে টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা ◈ ব্যাংকিং খাতে নতুন শর্ত: নতুন ও পুরোনো হিসাবেও লাগবে টিআইএন, আসছে বাজেটে প্রস্তাব ◈ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ◈ ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪৬ বিকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বন্ধ সরিষাবাড়ীর যমুনা সারকারখানা : ২০ জেলায় সার সংকটের আশংকা, হাজার শ্রমিকের মানবেতর জীবন যাপন 

মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) : গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে আছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা। এতে প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। বছরের বেশিরভাগ সময়ই কারখানা বন্ধ থাকায় মূল্যবান যন্ত্রাংশ গুলো মরিচা ধরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। চলতি মৌসুমে ইউরিয়া সার সংকটের আশঙ্কাও করছে কৃষকরা। দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে কারখানার সাথে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার।

কারখানা সুত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে তারাকান্দি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় যমুনা সার কারখানা। এ কারখানাটি বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প সংস্থা নিয়ন্ত্রণাধীন এবং কেপিআই-১ মানসম্পন্ন সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২-৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদন করছিল কারখানাটি। কিন্তু গ্যাসের চাপ স্বল্পতা ও বিভিন্ন ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে ১ হাজার ২০০ টনে নেমে আসে। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও উত্তরাঞ্চলের রাজবাড়ী ও উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাসহ ২০টির বেশি জেলার আড়াই হাজার ডিলারের মাধ্যমে যমুনার সার সরবরাহ করা হয়।

২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম তিতাস গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়। পরে  দীর্ঘ ১৩ মাস পর ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংযোগ পেয়ে পুনরায় উৎপাদনে ফিরে কারখানাটি। আবার ২৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত ৭টার পর অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাসের চাপ কম হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। আবার মাঝে মাঝে গ্যাস সংযোগ পেয়েও বেশিদিন চালু থাকেনি এ কারখানাটি। গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে বছরের বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে সার কারখানাটি। এদিকে সবশেষ চলতি বছরের ১৬ ফ্রেব্রুয়ারী সোমবার থেকে গ্যাস সংকটের কারনে আবারও বন্ধ হয়ে পড়ে আছে বৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সারকারখানা। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় সার সংকট হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষকরা। দ্রুত গ্যাস সংযোগ দিয়ে বৃহৎ এ শিল্প কারখানাটি সচল রাখতে না পারলে পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানান কারখানা কর্তৃপক্ষ।

শামসুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, ছোবাহান আলী, আফজাল হোসেন সহ একাধিক শ্রমিক বলেন, এই সার কারখানাটি বছরের বেশির ভাগ সময়ই নানা কারনে বন্ধ থাকে। ফলে আমাদের কোন কাজ থাকে না। ট্রাক গুলোও পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। আমাদের কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। অতি দ্রুত কারখানাটি চালুর দাবী জানাই।

এ বিষয়ে যমুনা সার কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মোঃ ফজলুল হক বলেন, চলতি বছরের ১৬ ফ্রেব্রুয়ারী থেকে গ্যাস সংকটের কারনে উৎপাদন বন্ধ হয়ে আছে কারখানাটি। তবে কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে বা উৎপাদনে ফিরবে কারখানাটি সেটার কেন নিশ্চয়তা নেই। আমাদের উৎপাদনের সকল প্রস্তুতি আছে। গ্যাস সংযোগ পেলেই উৎপাদনে ফিরতে পারবো। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়