শিরোনাম
◈ ‘অনেক হয়েছে, এবার শেষ করা যাক’: সরাসরি সম্প্রচারে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ◈ বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেলে টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা ◈ ব্যাংকিং খাতে নতুন শর্ত: নতুন ও পুরোনো হিসাবেও লাগবে টিআইএন, আসছে বাজেটে প্রস্তাব ◈ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ◈ ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট

প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:০২ রাত
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাজশাহীতে শিক্ষিকা বনাম বিএনপি নেতার কাণ্ড নেপথ্যের ঘটনা নিয়ে যা জানাগেল

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে ইসলামী জলসার দাওয়াতপত্র দিয়ে আর্থিক সহযোগিতা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র নেতাকর্মী ও শিক্ষকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক এবং চারজন স্থানীয় বিএনপি নেতা আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। সূত্র: মানবজমিন

এ সময় সেখানে ২০২৪ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। জানা যায়, ইসলামী জলসা উপলক্ষে দাওয়াতপত্র দিতে স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কলেজে যান। তারা অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আর্থিক সহযোগিতা চান। অধ্যক্ষ সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও উপস্থিত প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা তাদের চাঁদাবাজ বলে আখ্যায়িত করে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।

এরপর ক্ষুব্ধ কয়েকজন ব্যক্তি অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায় এবং কলেজের অফিস কক্ষ ভাঙচুর করে। হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী। ঘটনার পর কলেজ জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে পরীক্ষার্থী, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এতে পরীক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। আহত শিক্ষকদের অভিযোগ, জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী এ হামলায় অংশ নেন।

তাদের দাবি, অধ্যক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল, যা প্রত্যাখ্যান করায় এই হামলা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, প্রথমে হীরা ম্যাডাম চড় মারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে কলেজে হিসাবনিকাশের নামে চাপ সৃষ্টি করে টাকা চাওয়ার বিষয়টিও সত্য বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ী শাহাদত আলী দাবি করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকাকালে প্রথমে প্রভাষক হীরা তাকে অপমান করে চড় মারেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করেন, বিএনপি’র কয়েকজন নেতাকর্মী বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রায়ই কলেজে এসে হিসাবনিকাশের নামে চাপ সৃষ্টি করতেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল চাঁদা আদায় এমন দাবি করে তিনি বলেন, কলেজের জমি ও পুকুরের আয়ের ভাগ নেয়ার চেষ্টা করতেন তারা। তিনি আরও বলেন, নতুন দায়িত্ব নেয়ার পর অধ্যক্ষ কোনো পক্ষকেই বিশেষ সুবিধা দেননি। আর এ কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। একজন সহকর্মী হিসেবে অধ্যক্ষের পাশে দাঁড়ানোই তার ‘অপরাধ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হয়েও কেন তিনি অধ্যক্ষের পক্ষ নিয়েছেন- সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে, জয়নগর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আলী বলেন, তারা প্রতি বছরের মতো দাওয়াতপত্র দিতে গিয়েছিলেন। তবে প্রভাষক হীরা তাদের ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে প্রথমে কয়েকজনকে মারধর করেন। এতে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান। অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার কাছে বিভিন্ন গ্রুপ থেকে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। তিনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন।,

দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, সম্ভাব্য উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমরা ঘটনার পর ওই এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছি। এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার পর কলেজ ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়