শিরোনাম
◈ কর্ণফুলী টানেল: দৈনিক আয় ১১ লাখ কিন্তু ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যানবাহন চলাচল ৭ গুণ কম ◈ লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ‘হাতাহাতি’র উপক্রম হয়েছিল বলে দাবি মার্কিন দূতের ◈ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ◈ ঢামেক মর্গের ফ্রিজার এক সপ্তাহ ধরে অচল, ছড়াচ্ছে লাশ পচা গন্ধ ◈ বাংলাদেশিদের জন্য আবার খুলছে মরিশাসের শ্রমবাজার ◈ এনসিটি পরিচালনায় প্রস্তাব দিল দুই এমপির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম ◈ জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাত ◈ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা ◈ প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ◈ বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ম‌ধ্যে ওয়ান‌ডে সিরিজের প্রথম ম‌্যাচ আজ

প্রকাশিত : ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৩১ সকাল
আপডেট : ০৮ জুন, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শারীরিক সম্পর্কের পর টাকা নিয়ে ঝগড়া, ট্রাঙ্ক থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

শেরপুরের শ্রীবরদীতে তালাবদ্ধ একটি কাপড়ের ট্রাঙ্ক (স্টিল বক্স) থেকে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি বলছে, অনৈতিক কাজের টাকার দর কষাকষি নিয়েই খুন করা হয় ওই নারীকে। খুনের পর মরদেহটি রাখা হয় ট্রাঙ্কে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত। এ ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও তার স্ত্রী রিক্তা মনিকে (২৬)। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।

অন্যদিকে হত্যার শিকার ওই নারীর নাম ডলি আক্তার। তিনি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জের বাসিন্দা।

মূলত ট্রাঙ্কটি বহন করা ওই পিকআপভ্যান চালক মো. আশরাফ আলীকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার ভোরে নাহিদ ও মনি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডলি আক্তারকে হত্যার কথা স্বীকার করে। সর্বশেষ শনিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

পিবিআই জানায়, একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরির সুবাদে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নিয়ামুর নাহিদ ও তার স্ত্রী রিক্তা মনি গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। গত ৩০ এপ্রিল রাতে স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে অনৈতিক কাজের জন্য ডলি আক্তারকে টাকার বিনিময়ে নিয়ামুর নাহিদ তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরে টাকা কম দেয়ায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে ডলি আক্তার উত্তেজিত হয়ে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে ঘাতক নিয়ামুর নাহিদ তাকে মুখ চেপে ধরেন। এরপরও ডলি শান্ত না হলে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

এরপর সেদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে নাহিদ তার স্ত্রীকে অফিস থেকে নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় তিনি স্ত্রীকে জানান, তার সাবেক স্ত্রী ভাড়া বাড়িতে এসে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে তাকে তিনি গলায় গামছা পেঁচিয়ে মেরে ফেলেছেন। সেই মরদেহ গোপন করতে স্ত্রীর সাহায্য চান নাহিদ। স্ত্রী রিক্তা মনি স্বামীর অপরাধকে ঢাকতে দু’জনে পরামর্শ করে স্থানীয় বাজার থেকে একটি বড় ট্রাঙ্ক কেনেন। এরপর ডলির মরদেহ তোষকে পেঁচিয়ে ওই ট্রাঙ্কে ভরে রাখেন। ভালুকা এলাকাটি জনবহুল হওয়ায় সেখানে মরদেহ গোপন করতে অসুবিধা হবে ভেবে নিজ বাড়ির শেরপুরের শ্রীবরদী এলাকার ফাঁকা স্থানে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

গ্রেপ্তার দুজনের বরাতে পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, গত ১ এপ্রিল ভোরে অন্য একটি পরিবারের সাংসারিক মালামাল পিকআপভ্যানে শেরপুরের শ্রীবরদী আনার কথা জানতে পারেন এক ট্রাক দালালের কাছে। পরে ওই দালালের মাধ্যমে পিকআপভ্যানে একটি বড় ট্রাঙ্ক শ্রীবরদীতে আনার জন্য অনুরোধ করলে চালক ট্রাঙ্কসহ নাহিদকে নিয়ে শেরপুরের শ্রীবরদী যান। পিকআপভ্যানটি শ্রীবরদী সরকারি কলেজের পাশ দিয়ে কর্ণজোড়া যাওয়ার সড়কের নয়াপাড়া ঢালীবাড়ী তিন রাস্তার মোড়ে এলে সেখানে ট্রাঙ্কটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়