শিরোনাম
◈ ‌ফিফার ঘোষণা, বিশ্বকাপে চোটের অভিনয় করলেই শাস্তি ◈ কর্ণফুলী টানেল: দৈনিক আয় ১১ লাখ কিন্তু ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যানবাহন চলাচল ৭ গুণ কম ◈ লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ‘হাতাহাতি’র উপক্রম হয়েছিল বলে দাবি মার্কিন দূতের ◈ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ◈ ঢামেক মর্গের ফ্রিজার এক সপ্তাহ ধরে অচল, ছড়াচ্ছে লাশ পচা গন্ধ ◈ বাংলাদেশিদের জন্য আবার খুলছে মরিশাসের শ্রমবাজার ◈ এনসিটি পরিচালনায় প্রস্তাব দিল দুই এমপির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম ◈ জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাত ◈ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা ◈ প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১২ রাত
আপডেট : ০৯ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে ফসলহানির প্রতিবাদে উত্তাল হাওর

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : ​সুনামগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে সৃষ্ট ফসলহানির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিরাই ও শাল্লা উপজেলা। 'হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন'-এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার পৃথক দুটি স্থানে বিশাল গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সমাবেশ থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাঁধের নামে লুটপাটের কারণে আজ কৃষকের রক্ত পানি করা ফসল তলিয়ে যাচ্ছে, যার দায় পাউবো ও প্রশাসনকেই নিতে হবে।

শনিবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে দিরাই উপজেলার থানা পয়েন্টে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাহার হোসেন মোস্তাক। জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সদস্য সচিব উবায়দুল হক।

সমাবেশে বরাম হাওরের কৃষক তোফায়েল, চাপতির হাওরের মির্জা হোসেন এবং তাড়ল টাংগুয়ার হাওরের কৃষক ফরিদ মিয়া ও আব্দুস সালাম তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাঁধের কাজে পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন থেকেই দুর্নীতির বীজ বপন করা হয়েছে। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবে 'পকেট কমিটি' গঠন করা হয়েছে।

একই দিন বিকেল ৩:০০ ঘটিকায় শাল্লা বাজারে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আহ্বায়ক সাইফুর রহমান। এখানে ছায়ার হাওর, গাঘটিয়া এবং ভেরাডহর হাওরের শত শত কৃষক যোগ দেন। সমাবেশে শাল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার ও সমাজসেবক আবু সাইদ কৃষকদের দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।

বক্তাদের অভিযোগ, বাঁধের কাজে কোনো প্রয়োজন ছাড়াই অতিরিক্ত পিআইসি গঠন করে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। অনেক স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আগাম বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের হাজার হাজার হেক্টর বোরো জমি জলাবদ্ধ হয়ে তলিয়ে গেছে। মাটির কাজের নামে বরাদ্দকৃত অর্থের বিশাল অংশ হরিলুট হয়েছে এবং নামমাত্র কাজ করে দায় সারা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে বারবার অনিয়মের তথ্য দেওয়া হলেও তারা কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি, যা দুর্নীতির যোগসাজশকে স্পষ্ট করে। কৃষকরা এখন তাদের ঘাম ঝরানো ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। অনেক স্থানে ধান এখনই পানির নিচে।

​সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জেলা সভাপতি মো. রাজু আহমেদ বলেন,​ হাওর রক্ষা বাঁধ এখন কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও নামধারী নেতাদের আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। আমরা বিভিন্ন বাঁধ পরিদর্শন করে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছি, কিন্তু প্রশাসন নির্বিকার। এই নীরবতা প্রমাণ করে তারা এই লুটেরা চক্রের অংশ।

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরে বক্তারা বলেন অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অবিলম্বে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, পিআইসি ও পাউবো’র যেসব কর্মকর্তা এই দুর্নীতির সাথে জড়িত, তাদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে, জনরোষ এড়াতে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন না হয় এবং কৃষকের ফসল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আগামীতে জেলা শহর ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

​উভয় সমাবেশে উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে মামুন আহমদ, আব্দুল্লা রাজি, ওয়াসিম কবির, নুর আলী, এমদাদ সরদার এবং শাল্লায় খোকন, আমিনুর ও পবিনসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক কৃষক উপস্থিত ছিলেন। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়