শিরোনাম
◈ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ওলিসের হ্যাটট্রিক, আয়ারল‌্যান্ড‌কে ৩-১ গো‌লে হারা‌লো ফ্রান্স ◈ শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন: বাংলা-ইতিহাসসহ কয়েকটি বিষয় বাদ, যুক্ত হচ্ছে এআই, বিদেশি ভাষা, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষা ◈ বিশ্বকাপে রোনালদো না মেসি, কে করবেন বেশি গোল? ভবিষ্যদ্বাণী এমবাপের ◈ ‌ফিফার ঘোষণা, বিশ্বকাপে চোটের অভিনয় করলেই শাস্তি ◈ কর্ণফুলী টানেল: দৈনিক আয় ১১ লাখ কিন্তু ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যানবাহন চলাচল ৭ গুণ কম ◈ লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ‘হাতাহাতি’র উপক্রম হয়েছিল বলে দাবি মার্কিন দূতের ◈ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ◈ ঢামেক মর্গের ফ্রিজার এক সপ্তাহ ধরে অচল, ছড়াচ্ছে লাশ পচা গন্ধ ◈ বাংলাদেশিদের জন্য আবার খুলছে মরিশাসের শ্রমবাজার ◈ এনসিটি পরিচালনায় প্রস্তাব দিল দুই এমপির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম

প্রকাশিত : ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৪৪ বিকাল
আপডেট : ২৯ মে, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাজনীতিতে নারী হওয়াই কি অপরাধ?—সাইবার হ্যারেজমেন্টে বিচার চাইলেন বৈশাখী বর্ষা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে নারী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপ্রীতিকর মন্তব্য ও সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে এবার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব বৈশাখী ইসলাম বর্ষা।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অপমানজনক ভাষা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী হওয়ার কারণে তাকে লক্ষ্য করে অশ্লীল গালিগালাজ ও মানহানিকর মন্তব্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে বৈশাখী ইসলাম বর্ষা লিখেন, “মেয়েরা রাজনীতিতে এলে নানাভাবে অপমানিত হতে হয়—এটা আগে শুনেছি, কিন্তু এখন নিজেই তার শিকার হচ্ছি। আমাকে নিয়ে পতিতালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে গালি দেওয়া হচ্ছে। আমার অপরাধটা কী, সেটাই জানতে চাই।”

তিনি আরও লেখেন, যারা এসব মন্তব্য করছেন তাদের অনেকেই তার সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ার। তাদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি, তাহলে দয়া করে সেটা জানাবেন। আমি সংশোধন করার চেষ্টা করব। কিন্তু অযথা অপমান কেন?”

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বৈশাখী ইসলাম বর্ষা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, “আমি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে হ্যারেজমেন্টের শিকার হচ্ছি। অনেক সময় বিষয়টি উপেক্ষা করেছি। কিন্তু এখন তা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তাই সবাইকে বিষয়টি জানাতে এবং সচেতনতা তৈরি করতে আমি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, নারী রাজনীতিকদের প্রতি সমাজের একটি অংশ এখনও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে, যা অনলাইনে প্রকাশ পায়। এর ফলে অনেক নারী রাজনীতিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার বুলিং বর্তমানে একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণীরা এ ধরনের হয়রানির বেশি শিকার হন। তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও অনেকেই তা সম্পর্কে সচেতন নন কিংবা আইনি পদক্ষেপ নিতে অনীহা প্রকাশ করেন।

সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অনলাইনে দায়িত্বশীল আচরণ এবং ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপ এবং ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসাও জরুরি।

এদিকে বৈশাখী ইসলাম বর্ষার এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলছেন।

নারীর প্রতি সম্মান এবং নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সচেতনতা ও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়