শিরোনাম
◈ আমদানি নিরুৎসাহিত করতে নতুন বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে! ◈ দে‌শের বিপর্যস্ত জনগণ ফে‌লে রাজনী‌তি থে‌কে বিশ্রা‌মে যা‌বো না: 'এই সময়' অনলাইনে শেখ হা‌সিনার সাক্ষাৎকার ◈ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: আস্থার সংকট কতটা গভীর? ◈ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের, টোল নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্ত ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা মেসিনির্ভর দল নয়: কোচ ◈ ‘৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়নি’, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবির জবাবে বিজিবি ◈ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ওলিসের হ্যাটট্রিক, আয়ারল‌্যান্ড‌কে ৩-১ গো‌লে হারা‌লো ফ্রান্স ◈ শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন: বাংলা-ইতিহাসসহ কয়েকটি বিষয় বাদ, যুক্ত হচ্ছে এআই, বিদেশি ভাষা, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষা ◈ বিশ্বকাপে রোনালদো না মেসি, কে করবেন বেশি গোল? ভবিষ্যদ্বাণী এমবাপের ◈ ‌ফিফার ঘোষণা, বিশ্বকাপে চোটের অভিনয় করলেই শাস্তি

প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৩০ বিকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডিজেল সংকটে ঈশ্বরদীর কৃষকেরা, সরাসরি কৃষিমন্ত্রীকে ফোন

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে কৃষিযন্ত্র চালানোর জন্য চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছেন না স্থানীয় কৃষকেরা। তেলের পাম্পগুলো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে ফসল উৎপাদন, কাটা ও মাড়াই নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত রোববার ভুক্তভোগী কৃষকেরা স্থানীয় কৃষি অফিসে গিয়ে প্রতিকার না পেয়ে সরাসরি কৃষিমন্ত্রীকে ফোন করেন। মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দিলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত ঈশ্বরদীর কৃষক ময়েজ উদ্দিন জানান, আধুনিক চাষাবাদে জমি তৈরি থেকে শুরু করে মাড়াই পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে যন্ত্রের ব্যবহার অপরিহার্য। হারভেস্টর, পাওয়ার টিলার, সেচ পাম্প ও স্প্রে মেশিন—সবই ডিজেলচালিত।

কিন্তু এসব ভারী যন্ত্র পাম্পে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে কৃষকেরা সাধারণত ড্রাম বা ক্যানে করে তেল সংগ্রহ করেন। বর্তমানে ক্যানে তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পাম্প কর্তৃপক্ষ কৃষকদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। কৃষক ময়েজ উদ্দিন বলেন, জ্বালানি সমস্যা মেটাতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাময়িকভাবে দিচ্ছিলেন, কিন্তু পাম্প মালিকেরা তা মানছেন না। বাধ্য হয়ে গত রোববার বিকেলে আমরা ৪০-৪৫ জন কৃষক কৃষি অফিসে যাই। সেখানে সুরাহা না হওয়ায় বিকেল পৌনে ৬টার দিকে আমি সরাসরি কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদকে ফোন করি। মন্ত্রী ফোনে কৃষি কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরবর্তীতে কৃষকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে দেখা করলে তিনি জানান, কৃষি বিভাগ থেকে লিখিত প্রস্তাব পেলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

মঙ্গলবার বিকেলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। ময়েজ উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, চিঠিপ চালাচালি করতে করতে মাঠেই ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কার্ড থাকলে আমাদের পদে পদে এই ভোগান্তি পোহাতে হতো না। পৌর সদরের ইস্তা মহল্লার কৃষক আদম আলী জানান, তাঁর আটটি কৃষিযন্ত্র চালাতে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ লিটার তেল লাগে। কিন্তু পাম্প থেকে এক-দুই দিন পরপর মাত্র ৫০-৬০ লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে কাজ চালানো অসম্ভব। আরেক কৃষক জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুত করে মুনাফা লুটছে, আর সাধারণ কৃষকের যন্ত্র পড়ে আছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশের পর আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। পাম্প মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, আগামীকাল বুধবার থেকে সবাই স্বাভাবিকভাবে তেল পাবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, মূলত খোলা পাত্রে তেল নিতে গেলে অন্য গ্রাহকদের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। আমরা বিষয়টি দেখভালের জন্য কৃষি বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি। পাম্প মালিকদের সঙ্গেও বৈঠক করা হয়েছে। দ্রুতই এই সংকটের সমাধান হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়