শিরোনাম
◈ শিগগিরই সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শিল্পখাতের ধীরগতি সত্ত্বেও ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে বাংলাদেশ ◈ প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ◈ হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, ৮৭ দিনে প্রাণহানি ৬৩৯ ◈ ব্যাংকিংয়ে কড়াকড়ি, ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে নতুন চ্যালেঞ্জ ◈ বিশ্বকাপের ক‌য়েক ঘণ্টা আগেই ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে ফ্রা‌ন্সের আদাল‌তে মামলা করলেন মি‌শেল প্লাতিনি ◈ শুধু মাতৃভূমি নয়, বিশ্বশান্তির জন্যও কাজ করছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ব্যভিচার ও প্রতারণার মামলায় খালাস পেলেন নাসির হোসেন ও তামিমা ◈ এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাইবার আইনে নতুন শাস্তির বিধান ◈ প্রতিবাদ: বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানী খে‌লোয়াড়‌দের জার্সিতে লেখা #168! লজ্জায় মুখ ঢাকবে আমেরিকা 

প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৯:২২ রাত
আপডেট : ১৭ মে, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তানোরে সারের কৃত্রিম সংকট, সিন্ডিকেটে বিপর্যস্ত আলু চাষ

ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে আলু মৌসুমকে কেন্দ্র করে নন-ইউরিয়া সার—এমওপি, টিএসপি ও ডিএপি নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সার ডিলারদের সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত দামে বিক্রি, ক্রয় রশিদ না দেওয়া এবং বাইরে থেকে চোরা পথে আনা সারের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষক।

কৃষকদের অভিযোগ—টিএসপি ১৩৫০ টাকার বস্তা ১৮০০-১৯৫০ টাকায়, ডিএপি ১০৫০ টাকার বস্তা ১৪৫০-১৬০০ টাকায় এবং এমওপি ১০৫০ টাকার সার ১১৫০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি দামে সার প্রায় মেলেই না; তবে বাড়তি দাম দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়। কিন্তু এতে কোনও রশিদ দেওয়া হয় না, ফলে সারের আসল-নকল বা ভেজাল নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

কৃষকেরা অভিযোগ করেন, তানোরের বেশিরভাগ সার ডিলার বহিরাগত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। তারা সার সংকট দেখিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করছে। স্থানীয়দের মতে, কৃষি বিভাগ মনিটরিং জোরদার করলে এই সিন্ডিকেট ভেঙে যেত, কিন্তু তাদের ‘গা–ছাড়া’ ভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

এবার লোকসান পুষিয়ে নিতে মাঠে নামতে আগ্রহী কৃষকেরা সার না পেয়ে হতাশ।

তানোর পৌর এলাকার কৃষক আব্দুল মালেক ও তালন্দ এলাকার ইমরুল হক অভিযোগ করেন-সার না পেয়ে দিনের পর দিন কৃষি অফিসে ধর্ণা দিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

গোল্লাপাড়া বাজারের কৃষক তরিকুল বলেন, “প্রতি বছর একই অবস্থা-চাহিদা নেই ডিলারের দোকানে; অথচ বেশি দাম দিলেই সার পাওয়া যায়।”

কৃষকদের দাবি—প্রতিদিন মান্দা, মোহনপুর, নাচোল, নিয়ামতপুর, গোদাগাড়ী, নওগাঁ সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থেকে শত শত বস্তা সার চোরাই পথে তানোরে ঢুকছে। এসব সার ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।

কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন-বাইরের সার ঢুকছে, বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে; তবে অভিযান চালালে আলু চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আরও বলেন, “সারা বছরের বরাদ্দ দিয়েও আলু মৌসুমের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে-এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর।
ডিসেম্বর মাসে সার বরাদ্দ: টিএসপি: ২৯০ মেট্রিক টন, ডিএপি: ১০৯০ মেট্রিক টন, এমওপি: ৭০০ মেট্রিক টন, ইউরিয়া: ১৪৫৯ মেট্রিক টন।

অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুভাষ কুমার মণ্ডল বলেন, “বরাদ্দ সীমিত। কৃষকরা জৈব সার ব্যবহার না করে অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভর করায় চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।”

সরকারি মনিটরিং জোরদার করা, ন্যায্য দামে সার সরবরাহ ও সিন্ডিকেটবিরোধী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আলু চাষিরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়