শিরোনাম
◈ বাজুসের নতুন ঘোষণা, দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম ◈ লাল টেলিফোনের পর এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি, নিরাপত্তা সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ◈ ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের দুই স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে অসন্তুোষ আইসিসির ◈ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে রেফারি সব ব্রাজিলের  ◈ পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য : বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা ◈ গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ◈ রামিসার বাসার পাশ থেকে ৫ বছরের শিশু নিখোঁজ, ৪ দিনেও মেলেনি খোঁজ ◈ অপরাধ দমনের বডিক্যাম এবার পিটি-প্যারেডে, সমালোচনার মুখে পুলিশের সিদ্ধান্ত ◈ কড়াইল-ভাষানটেকে জাপানি মডেলের স্যাটেলাইট সিটি, সাংহাইয়ের আদলে বদলাবে পুরান ঢাকা : আসছে মেগা প্রকল্প ◈ প্রতি তিনজন স্নাতকের একজন বেকার: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শ্রমবাজার

প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:২৮ দুপুর
আপডেট : ১৩ মে, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শিকারীদের বেপরোয়া কার্যকলাপ: নকল ডাক ও ফাঁদে ধরা হচ্ছে অতিথি পাখি

শীতের আগমনে অতিথি পাখিতে ভরে উঠতে শুরু করেছে খুলনার দাকোপের খাল–বিল–ঝিল। কিন্তু এর মাঝেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় অসাধু শিকারীরা। মোবাইলে রেকর্ড করা নকল ডাক, বিভিন্ন ফাঁদ, আলো ফেলা ও বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে নির্বিচারে ধরা হচ্ছে অতিথি পাখি। পরে এসব পাখি অগ্রিম অর্ডার নেওয়া ক্রেতাদের কাছে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ—অতিথি পাখি নিধন রোধে আইন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ, মাঠ পর্যায়ে নেই বাস্তব প্রয়োগ।

এলাকাবাসীর তথ্যে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এ বছরও নভেম্বর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। পাখির কিচির-মিচিরে এলাকা হয়ে উঠছে মুখরিত। কিন্তু সেই সৌন্দর্যকে বিবর্ণ করে তুলছে শিকারীদের সক্রিয়তা।

শিকারীরা মোবাইলে রেকর্ড করা পাখির নকল ডাক বাজিয়ে সহজেই পাখি নিচে নামিয়ে ফাঁদে ফেলছে। এছাড়াও তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের খাল-বিল-নদী ও মাঠে নাইলনের সুতার ফাঁদ, কোচ মারা, কারেট জাল পাতা, কেঁচো দিয়ে বশি পেতে—বিভিন্ন উপায়ে পাখি শিকার করছে। পরে এসব পাখি ২৫০–৩০০ টাকা দরে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, কিছু ব্যক্তি এই শিকারীদের ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রচণ্ড শীত থেকে বাঁচতে হিমালয়, সাইবেরিয়া ও শীতপ্রধান দেশগুলো থেকে প্রতি বছর অতিথি পাখি এই এলাকায় আসে। বালি হাঁস, জলপিপি, কোম্বডাক, সরালী, কাস্তে চাড়া, পাতাড়ি হাঁস, কাদা খোচা, হুরহুর, খয়রা, সোনা রিজিয়াসহ বহু প্রজাতির পাখি এখানে দেখা যায়।

১৯৮০-এর দশকে দেশে প্রায় সাড়ে ৩০০ প্রজাতির অতিথি পাখি দেখা গেলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৬০–৭০ প্রজাতিতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিকারী জানান, প্রতি রাতে ধানক্ষেতে বসে মোবাইলে রেকর্ড করা পাখির ডাক অথবা বাঁশির নকল সুর বাজিয়ে পাখি নামিয়ে ফাঁদে ফেলি। পরে আগেই অর্ডার নেওয়া ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি।

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ (খুলনা অঞ্চল) বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, অতিথি পাখি শিকার বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। কোথাও শিকার বা বিক্রির খবর পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: ইত্তেফাক 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়